তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার (পাঠ ১)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.2k

একটা সময় ছিল যখন ছোটো ছেলেমেয়েদের যেকোনো যন্ত্রপাতি থেকে সরিয়ে রাখা হতো। তোমরা দেখতেই পাচ্ছ সেই সময়টার পরিবর্তন হয়েছে। তোমাদের বয়সী ছেলেমেয়েদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি থেকে সরিয়ে না রেখে বরং সেগুলো ব্যবহার করতে শেখানো হচ্ছে। এই অধ্যায়টি লেখা হয়েছে তোমরা কম্পিউটার, প্রিন্টার বা মডেমের মতো যন্ত্রপাতি যেন নিরাপদে এবং নির্ভয়ে ব্যবহার করতে পার সেটি শিখিয়ে দেওয়ার জন্যে।

যারা কম্পিউটার তৈরি করে তারা জানে আজকাল শুধু বড়ো মানুষরাই নয়, ছোটরাও কম্পিউটার ব্যবহার করে। তাই সব কম্পিউটারই তৈরি করা হয় যেন এটি ব্যবহার করে কারও কোনো বিপদ বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকে। কম্পিউটারের একমাত্র যে বিষয়টি নিয়ে সবারই একটু সতর্ক থাকা দরকার সেটি হচ্ছে তার বৈদ্যুতিক সংযোগ। ডেস্কটপ কম্পিউটারকে সব সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হয়। আর ল্যাপটপ কম্পিউটারকে তার ব্যাটারি চার্জ করার সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে হয়। বিদ্যুতের ভোল্টেজ ৫০ ভোল্টের বেশি হলে আমরা সেটা অনুভব করতে পারি। আমাদের দেশের বিদ্যুৎপ্রবাহের ভোল্টেজ ২২০ ভোল্ট, কাজেই কোনোভাবে বিদ্যুতের তার আমাদের শরীর স্পর্শ করলে আমরা ভয়ানক বৈদ্যুতিক শক অনুভব করব। আমাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন করতে বা আমাদের মাংসপেশি ব্যবহার করে হাত পা নাড়াচাড়া করার জন্যে আমাদের মস্তিষ্ক থেকে স্নায়ুর ভেতর দিয়ে সংকেত পাঠানো হয়। তোমরা শুনলে অবাক হয়ে যাবে এগুলো বৈদ্যুতিক সংকেত এবং এর পরিমাণ খুবই অল্প। কেউ যখন বৈদ্যুতিক শক খায় তখন তার শরীরের ভেতর দিয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। মস্তিষ্ক থেকে পাঠানো ছোটো সংকেতগুলো তখন এই বড়ো বিদ্যুৎপ্রবাহের নিচে চাপা পড়ে যায়। সে জন্যে যখন কেউ বিদ্যুতায়িত হয়, তখন সে তার হাত পা নাড়াতে পারে না, বেশিক্ষণ হলে তার হৃৎস্পন্দন থেমে যেতে পারে। সে জন্যে বিদ্যুৎ সংযোগকে কখনো হেলাফেলা করে নিতে হয় না। বিদ্যুৎ ছাড়া আমরা আজকাল এক মুহূর্ত থাকতে পারি না। সব সময়ই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু আমাদের লক্ষ রাখতে হবে আমরা যেন ঠিক করে এটা ব্যবহার করি। সব সময়েই যেন সঠিক সকেটে সঠিক প্লাগ ব্যবহার করে বিদ্যুতের সংযোগ নিই। আমরা কখনো খোলা তারের প্লাস্টিক সরিয়ে প্লাগে ঢুকিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেব না। শুধু তাই নয়, কাউকে এরকম করতে দেখলে বাধা দেবো।

বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টা ঠিক করে করা হলে কম্পিউটারের আর মাত্র একটি বিষয়ে একটু সতর্ক থাকা ভালো। আমরা আগেই বলেছি কম্পিউটারের প্রসেসর অনেক গরম হতে পারে বলে আজকাল সেগুলোর ওপর আলাদা ফ্যান বসাতে হয়। মাদারবোর্ডের অন্যান্য আইসিগুলোও অনেক গরম হতে পারে। তাই কম্পিউটারের ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের থেকে অনেক বেশি হতে পারে। কম্পিউটারের ভেতর থেকে এই গরম বাতাসকে বাইরে বের করে দেওয়ার জন্যে সব কম্পিউটারেই ফ্যান লাগানো হয়। এগুলো বাইরে থেকে বাতাস টেনে এনে ভেতরের গরম বাতাসকে ঠেলে বের করে দেয়।
কাজেই তোমরা যখনই একটা কম্পিউটার ব্যবহার করবে তখনই ভালো করে লক্ষ করবে কোন দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে আর কোন দিক দিয়ে গরম বাতাস বের হচ্ছে। সব সময়ই নিশ্চিত করবে যেন বাতাস ঢোকার এবং বের হওয়ার পথ কোনোভাবেই বন্ধ না হয়। শুধু এই বিষয়টা লক্ষ করলেই দেখবে তোমার কম্পিউটার তুমি দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারবে।

তোমরা হয়তো শুনে থাকবে কেউ কেউ বলে যে, কম্পিউটার ব্যবহার করার জন্যে ঘরের ভেতর এয়ার কন্ডিশনার লাগিয়ে ঘরটাকে ঠান্ডা রাখতে হয়-এই কথাগুলো একেবারেই ঠিক নয়। যে তাপমাত্রা তুমি সহ্য করতে পারবে তোমার কম্পিউটার তার থেকে অনেক বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারবে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...