সফটওয়‍্যার রক্ষণাবেক্ষণ (পাঠ ৩)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

990

আমরা দেখেছি, একটা কম্পিউটারের দুটি অংশ থাকে- হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার। আগের পাঠ দুটিতে আমরা হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলেছি, কাজেই তোমরা প্রশ্ন করতে পারো তাহলে কি সফটওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন নেই?
অবশ্যই আছে। যারা কম্পিউটার ব্যবহার করে তারা জানে যে, কম্পিউটারের হার্ডওয়‍্যারের যত্ন না নিলে যতটুকু যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় তার থেকে অনেক বেশি যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় কম্পিউটারের সফটওয়্যারের যত্ন নেওয়া না হলে।
এই যন্ত্রণাটুকুর কারণ হচ্ছে কম্পিটারের ভাইরাস। তোমরা নিশ্চয়ই রোগজীবাণু এবং ভাইরাসের কথা শুনেছ। এই রোগজীবাণু এবং ভাইরাসের কারণে আমরা মাঝে মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়ি- আমরা তখন ঠিক করে কাজ করতে পারি না। কম্পিউটার ভাইরাস ঠিক সেরকম এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যার কারণে একটা কম্পিউটার ঠিক করে কাজ করতে পারে না। সত্যিকারের রোগজীবাণু বা ভাইরাস যেমন একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের কাছে গিয়ে তাকে আক্রান্ত করতে পারে। কম্পিউটার ভাইরাসও একটি কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সত্যিকারের ভাইরাস যে রকম মানুষের শরীরে এলে বংশবৃদ্ধি করে অসংখ্য ভাইরাসে পরিণত হয়, কম্পিউটার ভাইরাসও সেরকম। একটি কম্পিউটার ভাইরাস কোনোভাবে একটা কম্পিউটারে ঢুকতে পারলে অসংখ্য ভাইরাসে পরিণত হয়। সত্যিকারের ভাইরাস মানুষের অজান্তে মানুষকে আক্রান্ত করে, কম্পিউটার ভাইরাসও সবার অজান্তে একটা কম্পিউটারে বাসা বাঁধে!
সত্যিকারের ভাইরাস এবং কম্পিউটারের ভাইরাসের মাঝে শুধু একটি পার্থক্য, একটি প্রকৃতিতে আগে থেকে আছে, অন্যটি অসৎ মানুষেরা সবাইকে কষ্ট দেবার জন্যে তৈরি করছে

মানুষের তৈরি কম্পিউটার ভাইরাস আসলে একটি ছোটো প্রোগ্রাম ছাড়া আর কিছুই নয়। আজকাল কম্পিউটার নেটওয়ার্ক দিয়েও এটি খুব সহজে অনেক কম্পিউটারের মাঝে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটা কম্পিউটার থেকে তুমি যদি কোনো সিডি বা পেনড্রাইভে করে কিছু একটা কপি করে নাও তাহলে নিজের অজান্তে সেখান থেকে ভাইরাসটাও কপি করে ফেলতে পার। তাই অন্য কম্পিউটার থেকে কিছু কপি করতে হলে সব সময়ই খুব সতর্ক থাকা উচিত।
কম্পিউটার ভাইরাস কিন্তু রোগ জীবাণু ভাইরাসের মতো নয়, সেটা আমাদের অসুস্থ করতে পারে না! এই ভাইরাস পাশাপাশি এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে যেতে পারে না। এটি যেতে পারে শুধুমাত্র তথ্য উপাত্ত কপি করার সময় বা নেটওয়ার্ক দিয়ে।

কম্পিউটার ভাইরাস থেকে কম্পিউটারকে রক্ষা করার জন্যে আজকাল নানা ধরনের এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম পাওয়া যায়। তবে কিছু দুষ্টু প্রকৃতির মানুষ নিয়মিতভাবে নতুন নতুন ভাইরাস তৈরি করে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়। তাই যারা কম্পিউটার ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে চায় তাদের নিয়মিত নতুন নতুন এন্টিভাইরাস প্রোগ্রাম কিনতে হয়। সেটি সাধারণ মানুষের জন্যে অনেক খরচের ব্যাপার।
তবে মুক্ত সফটওয়্যার বা ওপেন সোর্স সফটওয়্যারের জন্যে ভাইরাস তৈরি করা হয় না। কাজেই কেউ যদি মুক্ত সফটওয়্যারের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে, তাহলে তারা এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারে।

কাজ
সত্যিকারের ভাইরাস আর কম্পিউটারের ভাইরাসের মাঝে কোথায় কোথায় মিল রয়েছে আর কোথায় কোথায় মিল নেই তার একটা তালিকা তৈরি কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...