মেমোরি ও স্টোরেজ ডিভাইস (পাঠ ৪)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

954

তোমরা যদি আগের পাঠগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাক তাহলে এতক্ষণে খুব ভালো করে জেনে গেছ যে, কম্পিউটারের খুব গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মেমোরি, যেখানে তথ্য উপাত্তগুলো জমা করে রাখা হয়। আর সেখান থেকেই প্রসেসর তথ্য উপাত্ত নিয়ে তার ওপর কাজ করে। কাজেই কম্পিউটারে কোনো কাজ করতে হলেই সেটাকে মেমোরিতে নিয়ে রাখতে হয়। মেমোরিটা কম্পিউটারের ভেতরে থাকে বলে আমরা সাধারণত সেগুলো দেখতে পাই না, তাই তোমাদের বইয়ে এই ছবি দেওয়া হলো। মেমোরিতে তথ্য উপাত্তগুলো ক্রমানুসারে সাজানো থাকে যখন খুশি যেকোনো জায়গা থেকে যদি তথ্য উপাত্ত নেওয়া যায় তখন তাকে বলে র‍্যাম (RAM- Random Access Memory)। বুঝতেই পারছ র‍্যামে কোনো উপাত্ত রাখা হলে সেটি মোটেই স্থায়ীভাবে থাকে না, যখন খুশি তার ওপর অন্য তথ্য উপাত্ত রাখা যায় তখন আগেরটি মুছে যায়।

মেমোরিতে একটা তথ্য মুছে অন্য তথ্য রাখা যায় শুনে তোমরা নিশ্চয়ই খানিকটা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছ। তার কারণ অনেক খাটাখাটুনি করে তুমি হয়তো বিশাল একটা সফটওয়‍্যার তৈরি করেছ, সেটা মেমোরিতে রাখা হয়েছে, সেটা ব্যবহার করে তুমি অনেক কাজকর্মও করেছ। এখন যদি অন্য কেউ তোমার কম্পিউটারে অন্য একটি সফটওয়্যার চালাতে চায় তাহলে তোমার সফটওয়্যার মুছে যাবে! তোমার এতদিনের পরিশ্রম এক নিমিষে উধাও হয়ে যাবে? সেটা তো কিছুতেই হতে দেওয়া যাবে না!
আসলেই সেটা হতে হয় না। র‍্যামে তথ্য উপাত্ত রাখা হয় সাময়িকভাবে, স্থায়ীভাবে সেটা অন্য কোথাও রাখতে হয়। সেগুলোকে বলে স্টোরেজ ডিভাইস। স্টোরেজ ডিভাইস থেকে ব্যবহারের সময় মেমোরিতে আনা হয়। সবচেয়ে পরিচিত স্টোরেজ ডিভাইসের নাম হচ্ছে হার্ডডিক্স ড্রাইভ। র‍্যামে যে তথ্যগুলো থাকে সেগুলো অস্থায়ী, কম্পিউটার বন্ধ করলেই সেটা উধাও হয়ে যায়। হার্ডডিস্ক ড্রাইভে যেটা জমা রাখা থাকে সেটা কম্পিউটার বন্ধ করলে উধাও হয়ে যায় না- তবে তুমি ইচ্ছে করলে একটা তথ্য মুছে অন্য একটা তথ্য রাখতে পারবে।
হার্ডডিক্স ড্রাইভগুলো সাধারণত কম্পিউটারে স্থায়ীভাবে লাগানো থাকে। তাই এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে তথ্য নেওয়ার জন্য অন্য কোনো একটা পদ্ধতি দরকার।

বিভিন্ন সময়ে তার বিভিন্ন সমাধান এসেছে, এই মুহূর্তে একটা খুবই জনপ্রিয় সমাধানের নাম হচ্ছে পেনড্রাইভ বা ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ (USB Flash Drive)। সেগুলো এত ছোটো যে কলমের মতো পকেটে নিয়ে ঘোরা সম্ভব, এমনকি একটার মধ্যেই দশ থেকে বিশ হাজার বই রেখে দিতে পারবে।

এসএসডি বা সলিড স্টেইট ড্রাইভ (Solid State Drive-SSD)
বর্তমানে হার্ডডিস্কের বিকল্প হিসেবে এসএসডি বা সলিড স্টেইট ড্রাইভ নামে এক ধরনের স্টোরেজ ডিভাইস জনপ্রিয় হয়েছে। এতে ডেটা সংরক্ষণের জন্য ফ্লাশ মেমরি ব্যবহার করা হয়। সার্ভার, ওয়ার্কস্টেশনসহ সকল ধরনের ডিজিটাল কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ডিভাইস, মিডিয়া প্লেয়ার ইত্যাদিতে এসএসডি ব্যবহার করা যায়। বাজারে ৩.৫", ২.৫", ১.৮" এর গুণিতক মাপের এসএসডি পাওয়া যায়। এসএসডি স্টোরেজের ধারণ ক্ষমতা ১২৮ জিবি (GB), ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টিবি (TB) এবং ২ টিবি পর্যন্ত দেখা যায়। কয়েকটি স্ট্যান্ড-এলোন এসএসডি মডেলের ধারণক্ষমতা ৪ থেকে ৮ টিবি পর্যন্ত পাওয়া যায়।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...