তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার (পাঠ ৫)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

3.9k

আগের পাঠে আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটির (Information and Communication Technology-ICT) এমন দুটি উদাহরণ দিয়েছি যেগুলো আমরা সবাই জেনে হোক না জেনে হোক কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করেছি। এই পাঠে আমরা আরও নতুন কিছু ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে জানব।

শিক্ষাক্ষেত্র: একজন শিক্ষার্থীর কাছে সবচেয়ে আনন্দের ধ্বনি কী বলতে পারবে? অনেকেই অনেক কিছুই বলতে পারে কিন্তু সবাই জানে স্কুলের শিক্ষার্থীর জন্যে সেটা হচ্ছে ছুটির ঘণ্টা। স্কুলে ছুটির ঘণ্টা বাজলে পৃথিবীর সকল স্কুলের শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করে। যাঁরা শিক্ষা নিয়ে চিন্তা করে ভাবনা করেন তাঁরাও সেটা জানেন। তাই সব সময় চেষ্টা করেন কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনটা একটু হলেও বেশি আনন্দময় করা যায়। লেখাপড়ার ব্যাপারে যখন আইসিটি ব্যবহার করতে শুরু করা হয়েছে তখন হঠাৎ করে সেই কাজটি সহজ হতে শুরু করেছে। এখন শুধু সারাক্ষণ শিক্ষকের বক্তৃতা শুনতে হবে না, মাথা গুঁজে কোনো কিছু মুখস্থ করতে হবে না। এখন মাল্টিমিডিয়াতে লেখাপড়ার অসংখ্য চমকপ্রদ বিষয় দেখানো যায়, বিজ্ঞানের বিষয়গুলো স্ক্রিনে প্রদর্শন করা যায়, এমনকি পরীক্ষার খাতায় কিছু না লিখে সরাসরি কম্পিউটারে পরীক্ষা দেওয়া যায়। এখন ব্যাগ বোঝাই করে পাঠ্য বই নিয়ে যেতে হয়। কিছুদিন পর আর তার হয়ত প্রয়োজন হবে না। একটা ই-বুক ডিভাইসে (যার মাধ্যমে কোনো পুস্তকের সফটকপি পড়া হয়) শিক্ষার্থীরা শুধু যে তার পাঠ্য বই রাখতে পারবে তা নয়; লাইব্রেরির কয়েক হাজার বই পর্যন্ত রাখতে পারবে।

চিকিৎসা: আজকাল আইসিটি ব্যবহার না করে চিকিৎসার কথা কল্পনাও করা যায় না। আগে কারও অসুখ হলে ডাক্তাররা রোগীর নানা ধরনের উপসর্গ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে রোগ নির্ণয় করতেন। এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে নিখুঁতভাবে রোগ নির্ণয় করা যায়। শুধু তাই নয়, কেউ যদি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যায়, তখন তার সব ধরনের তথ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে তার চিকিৎসার বিভিন্ন খুঁটিনাটি আইসিটি ব্যবহার করে সংরক্ষণ করা সম্ভব। দূর থেকে টেলিফোন ব্যবহার করেও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া যায়। সেটার নাম দেওয়া হয়েছে টেলিমেডিসিন, যেটা আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞান ও গবেষণা: সম্ভবত আইসিটির সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বিজ্ঞানে ও গবেষণায়। আইসিটির কারণে এখন বিজ্ঞানীরা গবেষণার অনেক জটিল কাজ অনেক সহজে করে ফেলতে পারেন। আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরাও যখন পাটের জিনোম বের করেছিলেন তখন তাঁরা আইসিটির ব্যবহার করেছিলেন।

কৃষি: আমাদের দেশ হচ্ছে একটি কৃষিনির্ভর দেশ, আধুনিক উপায়ে চাষ করে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আইসিটি ব্যবহারের ফলে আমাদের দেশের চাষিরা কৃষিতে সুফল পাচ্ছে। রেডিও টেলিভিশনে কৃষি নিয়ে অনুষ্ঠান হচ্ছে, ইন্টারনেটে কৃষির ওপর ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে, এমনকি চাষিরা মোবাইল ফোনে কৃষি কল সেন্টারে ফোন করেও কৃষি সমস্যার সমাধান পেয়ে যাচ্ছে।


ইন্টারনেট ব্যবহার করে কৃষি নিয়ে সমস্যার সমাধান পেয়ে যাচ্ছে চাষিরা

পরিবেশ আর আবহাওয়া: আমাদের দেশে এক সময় ঘূর্ণিঝড়ে অনেক মানুষ মারা যেত। ১৯৭০ সালে প্রলয়ংকরী একটা ঘূর্ণিঝড়ে এই দেশে প্রায় ৫ লক্ষ লোক মারা গিয়েছিল। বাংলাদেশে এখন ঘূর্ণিঝড়ে আগের মতো এতবেশি মানুষ মারা যায় না; তার কারণ আইসিটি ব্যবহার করে অনেক আগেই ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া যায়। আবার রেডিও টেলিভিশনে উপকূলের মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া যায়।

কাজ
১. এই পাঠে যে বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে যে কয়টি তুমি কোনো না কোনোভাবে ব্যবহার করেছ তার একটি তালিকা তৈরি কর।
২. শিক্ষায় আর কোন কোন ক্ষেত্রে আইসিটি ব্যবহার করা যায় তার একটি তালিকা তৈরি কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...