উপাত্ত ও তথ্য (পাঠ ৩)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরিচিতি - তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

2k

তোমাকে যদি বলা হয় ৯৮, ১০০, ১০০, ৯৬, ৫০ এবং ৯৫, তাহলে তুমি নিশ্চয়ই অবাক হয়ে এই সংখ্যাগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকবে এবং কেন তোমাকে এই সংখ্যাগুলোর কথা বলা হয়েছে বোঝার চেষ্টা করবে। তুমি যতই চেষ্টা কর, তুমি এই সংখ্যাগুলোর মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারবে না। কিন্তু তোমাকে যদি বলে দেওয়া হয় এটি হচ্ছে রিমি নামে একটা মেয়ে যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে তার বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর- তাহলে হঠাৎ করে সংখ্যাগুলোর অর্থ তোমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় ।

এখানে ৯৮, ১০০, ১০০, ৯৬, ৫০ এবং ৯৫ হচ্ছে উপাত্ত বা ডাটা (data)। একজনকে যদি শুধু উপাত্ত দেওয়া হয় আর কিছু বলে দেওয়া না হয়, তাহলে এই উপাত্তগুলোর কিন্তু কোনো অর্থ নেই। কিন্তু যখন সাথে সাথে তোমাকে বলে দেওয়া হয় যে এগুলো রিমি নামে একটি মেয়ের পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর, তখন তার একটা অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়। উপাত্ত আর প্রেক্ষাপট মিলে একটা তথ্য বা ইনফরমেশন (information) হয়ে যায়! তথ্যকে যদি বিশ্লেষণ করা হয় সেখান থেকে কিন্তু জ্ঞান (knowledge) বের হয়ে আসে। বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানুষের প্রজ্ঞা (wisdom) তৈরি হয়।

কাজ: আমরা রিমির এই তথ্য বিশ্লেষণ করে কি কোনো জ্ঞান বের করতে পারব?
সাহায্য: তার প্রিয় বিষয় কী? কোন বিষয়টিতে সে দুর্বল?

তোমরা এর কোনো অর্থই খুঁজে পাবে না। কিন্তু একটু আগে যেরকম অর্থহীন কিছু সংখ্যা দেখেছি সেগুলো আসলে কী- বলে দেওয়ার পর সেগুলো তথ্য হয়ে গিয়েছিল, এখানেও সেটি সম্ভব। তোমাকে যদি বলা হয় এই সংখ্যাগুলো একটা তালিকা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং সেই তালিকাটি হচ্ছে এরকম:

এবার নিশ্চয়ই ওপরের তালিকার উপাত্তগুলোর অর্থ তুমি খুঁজে পেয়েছ। কাজেই আমরা বুঝতে পারছি, উপাত্তের সাথে যদি কোনো ঘটনা বা প্রেক্ষাপট বা পরিস্থিতির সম্পর্ক থাকে তখন সেগুলোর অর্থ বোঝা যায়, আমরা সেটা ব্যবহারও করতে পারি, তখন সেটা হচ্ছে তথ্য। কম্পিউটার ও তথ্য বিজ্ঞান অনুসারে বলা যায় যে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে ডেটা প্রক্রিয়াকরণের ফলে প্রাপ্ত ফলাফলকে ইনফরমেশন বা তথ্য বলা হয়। যেমন কোনো ছাত্রের বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর হল ডেটা, কিন্তু তার সকল বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর হিসাব করে তৈরি করা প্রোগ্রেস (progress) রিপোর্ট হচ্ছে ইনফরমেশন। ডেটাকে প্রসেস করেই ইনফরমেশন পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রসেসিং পরবর্তী ডেটার অর্থবহ রূপকে ইনফরমেশন বলে। ইনফরমেশন নির্ভুল, স্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, অর্থবহ ও প্রয়োজনীয় হওয়া দরকার। ডেটাকে প্রসেস করার জন্য কম্পিউটার বা অন্য কোন প্রসেসিং সিস্টেম ব্যবহৃত হতে পারে।

কাজ
১. একটা কাগজে কোনো উপাত্ত লিখে তোমার বন্ধুকে দাও। তাকে অনুমান করতে বল, এই উপাত্তগুলোর অর্থ কী! সে যদি অনুমান করতে না পারে তাহলে সে তোমাকে দশটা প্রশ্ন করতে পারবে। প্রশ্নগুলো এমন হতে হবে যেটা তুমি উত্তর দেবে শুধু "হ্যাঁ" কিংবা "না" বলে।
২. তোমার নিজের সম্পর্কে সকল তথ্যের একটা তালিকা কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...