ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU) (পাঠ-৫)

বাংলাদেশ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

528

পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলো সহযোগিতার লক্ষ্যে প্রথমে গঠন করেছিল কমন মার্কেট। তারপর এর আওতা বেড়ে হয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (EU)। ইউরোপের প্রায় সব দেশই এর সদস্য। ইইউ তার নিজস্ব মুদ্রাও চালু করেছে, যার নাম 'ইউরো'। ইউরোপের সব দেশেই তাদের দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি এই ইউরোও চলে। সদস্য দেশগুলোর নাগরিকেরা আজ অবাধে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত, বসবাস, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদর দপ্তর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস্-এ অবস্থিত।

এছাড়া 'জি-৭' নামে আন্তঃসরকারি সহযোগিতা সংস্থা রয়েছে। এটি শিল্পোন্নত শীর্ষ সাত দেশের একটি জোট। সাত সদস্যের এই সংস্থায় আছে-যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা ও ইতালি। এই গ্রুপ কেবল নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাই করে না, আমাদের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়েও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে। তাছাড়া পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যু এবং দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অশিক্ষা ও অস্বাস্থ্যের অভিশাপমুক্ত পৃথিবী গড়ার বিষয়ে তাদের করণীয় নিয়েও আলোচনা ও নিজস্ব কর্মকৌশল নির্ধারণ করে জি-৭।

আফ্রিকার দেশগুলো মিলে গড়ে তুলেছে ওএইউ বা Organization of African Unity (OAU); আরব দেশগুলোর সংগঠন আরবলীগ; মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি বা Organization of Islamic Cooperation (OIC)। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে ওআইসি'র সদস্যপদ লাভ করে। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশগুলোকে নিয়ে গড়ে উঠেছে কমনওয়েলথ; আবার কোনো সামরিক জোটের সদস্য নয় এমন দেশগুলো নিয়ে গড়ে উঠেছে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন বা Non-Aligned Movement (NAM)। বাংলাদেশ জোটনিরপেক্ষ আন্দোলন এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

এছাড়া দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি সম্পন্ন হয়। বর্তমানে এ ধরনের চুক্তি বেড়েই চলেছে। কারণ সহযোগিতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হলো এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা চুক্তি।

কাজ: আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ কীভাবে উপকৃত হয় তা দলে আলোচনা করে উপস্থাপন কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...