নাগরিকত্ব হলো রাষ্ট্রের অধিবাসী বা ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়। রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি এ পরিচয় লাভ করে। নাগরিকত্ব লাভের দুটি প্রধান উপায় হলো:
১. জনন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ
২. অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ
যারা জন্মসূত্রে রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করে তারা জন্মসূত্রে নাগরিক। আর যারা আবেদনের মাধ্যমে কোনো দেশের নাগরিকত্ব লাভ করে তারা অনুমোদনসূত্রে নাগরিক। তবে অনুমোদনসূত্রে যারা নাগরিকত্ব লাভ করে তাদেরকে রাষ্ট্রের আরোপিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের ক্ষেত্রে দুটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো:
১. জন্মসূত্র নীতি ও
২. জন্মস্থান নীতি
জন্মসূত্র নীতি
এ নীতি অনুযায়ী মা-বাবা যে রাষ্ট্রের নাগরিক, সন্তান সে রাষ্ট্রের নাগরিক হবে। কোনো মা-বাবার সন্তান বিদেশে জন্মগ্রহণ করলেও সে সন্তান মা-বাবার দেশের নাগরিক হবে। পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশ এ নীতি অনুসরণ করে থাকে। এ নীতি অনুযায়ী, কোনো জাপানি বা ফরাসি মা-বাবার সন্তান বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করলেও তারা জাপান বা ফ্রান্সের নাগরিক হবে। এভাবে বাংলাদেশি বা ভারতীয় কোনো মা-বাবার সন্তান ঐসব দেশে জন্মগ্রহণ করলে তারা বাংলাদেশ বা ভারতের নাগরিক হবে। বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জাপান, ইতালি প্রভৃতি রাষ্ট্র এ নীতি মেনে চলে।
জন্মস্থান নীতি
এ নীতি অনুযায়ী, মা-বাবা যে দেশেরই হোক না কেন সন্তান যে দেশে জন্মগ্রহণ করবে সন্তান সে দেশের নাগরিক হবে। এ নীতি জন্মস্থানের উপর নির্ভর করে। এ নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশের মা-বাবার কোনো সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে সে আমেরিকার নাগরিক হবে এবং সে দেশের নাগরিকত্ব লাভ করবে। শুধু তা-ই নয়, এ নীতি অনুসরণকারী দেশের জাহাজ বা দূতাবাসে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলেও সে সেই দেশের নাগরিক হবে। তবে বিশ্বের খুব কম সংখ্যক রাষ্ট্র এ নীতি অনুসরণ করে। যেমন- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ
এ পদ্ধতিতে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশের নাগরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। এখন এক রাষ্ট্রের নাগরিক সহজেই অন্য একটি বা একাধিক রাষ্ট্রের নাগরিক হচ্ছে। অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভ করার ফলেই এটা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও নানা কারণে এক দেশের নাগরিককে অন্য দেশে বসবাস করতে হয়। এরূপ বসবাসকারী ব্যক্তির ঐ দেশের নাগরিকত্বের প্রয়োজন হয়। তখন রাষ্ট্রের কাছে ঐ ব্যক্তি আবেদন করে। আবেদন পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে রাষ্ট্র শর্তসাপেক্ষে স্থায়ীভাবে নাগরিকত্ব প্রদান করে। নাগরিকত্ব লাভের পর ঐ ব্যক্তি সে দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারে। অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভের কিছু শর্ত আছে। কোনো ব্যক্তি অনুমোদনসূত্রে কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করবে যদি সে-
১. ঐ রাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে বিয়ে করে,
২. ঐ রাষ্ট্রের সম্পত্তি ক্রয় করে,
৩. ঐ রাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে,
৪. ঐ রাষ্ট্রে চাকরিরত থাকে,
৫. ঐ রাষ্ট্রের ভাষা জানে,
৬. ঐ রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে চাকরি গ্রহণ করে,
৭. ভালো চরিত্রের অধিকারী হয়,
৮. উন্নততর দক্ষতার অধিকারী হয়,
৯. রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে।
অনুমোদনসূত্রে নাগরিকত্ব লাভকারী ব্যক্তি উল্লিখিত শর্তগুলোর এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্ব লাভ করতে পারে। ঐ দেশের নাগরিকদের মতো প্রায় সমান অধিকারের সুযোগ-সুবিধা সে প্রাপ্য হবে।
দ্বৈত-নাগরিকত্ব
একই ব্যক্তি দুইটি দেশের নাগরিকত্ব লাভ করলে তাকে দ্বৈত-নাগরিকত্ব বলে। কোনো বাংলাদেশি মা-বাবার সন্তান আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করলে সে স্বাভাবিক নিয়মে ঐ দেশের নাগরিক হয়। অন্যদিকে মা-বাবা বাংলাদেশি হওয়ায় সে বাংলাদেশেরও নাগরিক। এ ক্ষেত্রে সে প্রাপ্তবয়স্ক হলে ইচ্ছা করলে যেকোনো একটি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারে। তবে ইচ্ছা করলে সে দুটি রাষ্ট্রেরই নাগরিকত্ব রাখতে পারে।
| কাজ: দলে ভাগ হয়ে নাগরিকত্ব লাভের নিয়মগুলো চিহ্নিত কর। |
Read more