প্রাচীন বাংলার বিনোদন, স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলা (পাঠ-৫)

বাংলাদেশের ইতিহাস - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

2.4k

প্রাচীন বাংলার বিনোদন, স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রকলা

বিনোদন: প্রাচীন যুগে বাংলাদেশে বিনোদনের অংশ হিসেবে নাচ, গান, নাটক, মল্লযুদ্ধ ও কুস্তি খেলার প্রচলন ছিল। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। মন্দিরের সেবাদাসীদের সকলকেই নৃত্য-গীত-বাদ্য পটিয়সী হতে হতো। পোড়ামাটির ফলকে কাঁসর, করতাল, ঢাক, বীণা, বাঁশি, মৃদঙ্গ, মৃভাণ্ড প্রভৃতি বাদ্যযন্ত্র দেখা যায়।

স্থাপত্য: প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে মহাস্থানগড় ও উয়ারী-বটেশ্বর থেকে ইট-নির্মিত স্থাপত্য আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। বাংলার মানুষ স্থাপত্যশিল্পে উৎকর্ষ অর্জন করে পাল শাসনামলে। সম্রাট ধর্মপাল একাই ৫০টি বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

ভাস্কর্য ও চিত্রকলা

উয়ারী-বটেশ্বর, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর ও ময়নামতি প্রভৃতি অঞ্চল থেকে আবিষ্কৃত পোড়ামাটি, পাথর ও ধাতব ভাস্কর্য ও মূর্তি প্রাচীন বাংলার শিল্প সম্পর্কে পরিচয় দেয়। গুপ্ত ও পাল যুগের ভাস্কর্যগুলোর শিল্পশৈলী ছিল অনন্য। পাল যুগের দুজন বিখ্যাত ভাস্কর ও চিত্রশিল্পী ছিলেন ধীমানপাল ও বীটপাল। ওদিকে সেনযুগের শ্রেষ্ঠ শিল্পী ছিলেন শূলপাণি। তখনকার বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে বৌদ্ধ দেব-দেবীকে চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হতো।

কাজ: দলে ভাগ হয়ে বাংলার প্রাচীন স্থাপত্য ও ভাস্কর্যের তালিকা প্রস্তুত কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...