ঔপনিবেশিক যুগের বাংলা (পাঠ-৮)

বাংলাদেশের ইতিহাস - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

994

ঔপনিবেশিক যুগের বাংলা

বাংলায় মধ্যযুগের পরবর্তী সময়কাল ঔপনিবেশিক যুগ হিসেবে পরিচিত। উপনিবেশবাদী ব্রিটিশরা এই সময় বাংলার উপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল বলে এই সময়কালকে বলা হয় ঔপনিবেশিক শাসন। শুরুতে ১৭৫৭ সালে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নানাভাবে বাংলাকে শোষণ করে। তারপর ১৮৫৭ সালে সংঘটিত হয় সিপাহী বিপ্লব। এরপর সরাসরি রানীর শাসনের অধীনে চলে গিয়েছিল বাংলা। পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজিত হওয়ার পর থেকে শুরু করে ভারত স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত (১৭৫৭-১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ) দীর্ঘ সময়কালকে ঔপনিবেশিক শাসন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজ পরাজিত হলে বাংলার নামমাত্র নবাব হন বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলি খান। তারপর তারা ক্ষমতায় বসায় মীর জাফরের জামাতা মীর কাসিমকে। শুরুতে ব্রিটিশদের আজ্ঞাবহ থাকলেও পরে বিদ্রোহ করে বসেন মীর কাসিম। তিনি বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর বাংলা পুরোপুরি ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
শুধু বাংলা নয়, এরপর পুরো ভারত উপমহাদেশে ইংরেজ শাসন চলেছিল ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় দুইশ বছর। প্রথম দিকে ভারত শাসন করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়া। রানির পক্ষ থেকে ইংরেজ শাসকরা ভারত উপমহাদেশ শাসন করতেন। তাদের অপশাসনকে মেনে নিতে পারেনি বাংলার মানুষ। তারা বিভিন্ন পর্যায়ে ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, সিপাহী বিপ্লব, তিতুমীরের বিদ্রোহ, ফরায়েজি আন্দোলন, নীল বিদ্রোহসহ অনেকগুলো আন্দোলন ও সংগ্রাম গড়ে ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। শেষ অবধি শুরু হয় বিখ্যাত 'ভারত ছাড়' আন্দোলন। ইংরেজরা ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। এর ফলে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

পাকিস্তান ছিল দুটি ভিন্ন অঞ্চল নিয়ে গঠিত। ভৌগোলিকভাবে অনেক দূর অবস্থিত দুটি ভূখণ্ডের পশ্চিম অংশটিকে বলা হতো পশ্চিম পাকিস্তান আর পূর্ব অংশটিকে বলা হতো পূর্ব পাকিস্তান। তৎকালীন দুই ভূখণ্ডে বিভক্ত পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে। তারাও নানাভাবে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে শোষণ করত। একটা পর্যায়ে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে একত্রিত হয় পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা বুঝতে পারে পূর্ব পাকিস্তানের উপর তাদের আধিপত্য আর ধরে রাখা সম্ভব নয়। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনী আক্রমণ চালিয়ে গণহত্যা শুরু করে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ। ২৬শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ জন্ম নেয় নতুন দেশ, বাংলাদেশ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...