রাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী অধিবাসীকে বলা হয় নাগরিক। পূর্বে নগরে বসবাসকারীকে নাগরিক বলা হতো। তখন ছোটো ছোটো নগরকে কেন্দ্র করে গঠিত হতো রাষ্ট্র। এ নগররাষ্ট্রের অধিবাসীরাই নাগরিক বলে গণ্য হতেন। কিন্তু বর্তমানে নাগরিক ও নাগরিকত্বের ধারণাও বদলে গেছে। এখন রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে যে কোনো ব্যক্তিই নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নাগরিক রাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হবে, রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকবে, রাষ্ট্রের কল্যাণ চিন্তা করবে এবং রাষ্ট্র প্রদত্ত সকল সামাজিক ও রাজনৈতিক সুবিধা ভোগ করবে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের একদিকে যেমন রয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার অন্যদিকে তেমনি রয়েছে রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্য।

একজন নাগরিক রাষ্ট্রের পরিচয়েই নাগরিকত্ব পায়। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের নাগরিকত্বের পরিচয় বাংলাদেশি। আমাদের রাষ্ট্র বাংলাদেশ। তাই আমরা বাংলাদেশের নাগরিক।
নাগরিক ও বিদেশি
একটি রাষ্ট্রে নিজ দেশের অধিবাসী ছাড়া ভিন্ন দেশের অনেক লোকও বাস করে। শিক্ষা, ব্যবসা- বাণিজ্য, চাকরি ইত্যাদি নানা কারণে তারা অবস্থান করে। এরা বিদেশি হিসেবে পরিচিত। তবে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করে না। বিদেশিরা যে রাষ্ট্রে বসবাস করে সে রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য পোষণ করে না। কেবল বসবাসকারী রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সামাজিক অধিকার ভোগ করে, কিন্তু তারা বিদেশে বসবাসকারী দেশের সরকারের কিংবা রাষ্ট্রের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে না। তাই বিদেশিরা রাষ্ট্রের নাগরিক নয়।
| কাজ: নাগরিক ও বিদেশির মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত কর। |
Read more