বন্দনা
'বন্দনা' শব্দের বিভিন্ন রকম অর্থ রয়েছে। যেমন: প্রণাম, নমস্কার, অভিবাদন, শ্রদ্ধা, ভক্তি, সম্মান, আনুগত্য স্বীকার, পূজা, প্রেম, শ্রদ্ধা নিবেদন, অভ্যর্থনা, আরাধনা, উপাসনা, স্তুতিগান ইত্যাদি। মূলত গুণী ও জ্ঞানী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা, সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁদের গুণরাশির স্তুতি করাই হচ্ছে বন্দনা।
'বুদ্ধ' শব্দের অর্থ মহাজ্ঞানী। তিনি ছিলেন মানবপুত্র। তাঁকে মহামানব বলা হয়। তাছাড়া তিনি অসীম গুণরাশির অধিকারী ছিলেন। তাই আমরা বুদ্ধের বন্দনা করি। বন্দনার উদ্দেশ্য হলো বুদ্ধের অসীম গুণের স্তুতি বা প্রশংসা করা। বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে নিজের জীবনকে সুন্দর করা।
আমরা শুধু বুদ্ধকে বন্দনা করি না। বুদ্ধ প্রবর্তিত ধর্মকে বন্দনা করি। বুদ্ধ প্রতিষ্ঠিত মহান সংখকেও বন্দনা করি। আমরা বুদ্ধের দন্তধাতু বন্দনা করি। সপ্ত মহাস্থানকে বন্দনা করি। বোধিবৃক্ষকে বন্দনা করি। চৈত্যকে বন্দনা করি। বিভিন্ন তীর্থস্থান ও পবিত্র স্থানকে বন্দনা করি। মা-বাবার বন্দনা করি। বন্দনা বৌদ্ধদের নিত্যপালনীয় কর্ম।
বন্দনা বৌদ্ধবিহারে কিংবা বাড়িতে বুদ্ধমূর্তির সামনে বসে করা যায়। বিহার যদি বাড়ির কাছে হয়, তাহলে বিহারে গিয়ে বন্দনা করলে ভালো হয়। আর বিহার যদি দূরে হয়, সে ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে বিহারে গিয়ে বন্দনা করা ভালো। মা-বাবা, ভাই-বোন এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবকে নিয়ে বন্দনা করা মঙ্গল। এ ধরনের বন্দনাকে সমবেত বন্দনা বলা হয়। সমবেত বন্দনার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর হয়। মায়া-মমতা বৃদ্ধি পায়। সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বের মনোভাব সুদৃঢ় হয়।
বন্দনার সুফল
মানবজীবনে বন্দনার প্রভাব অপরিসীম। বন্দনার সুফল অনেক। বন্দনার মাধ্যমে মন পবিত্র হয়। পুণ্য লাভ হয়। চিত্ত শুদ্ধ হয়। অশান্ত মন শান্ত ও সংযত হয়। লোভ, দ্বেষ এবং মোহ দূরীভূত হয়। অকুশল ও অন্যায় কাজ করার ইচ্ছা জাগে না। মিথ্যা কথা বলা থেকে বিরত হয় এবং সত্য কথা বলতে উৎসাহী হয়। মনে সৎ চিন্তা আসে। ভালো কাজে উৎসাহ আসে। ধৈর্য ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিপায়। অপরের মঙ্গল করার ইচ্ছা জাগে। উন্নত চরিত্রের অধিকারী হওয়া যায়। ইহলোক এবং পরলোকে সুখ লাভ হয়। বন্দনার মাধ্যমে হৃদয়ে মৈত্রীভাব জাগ্রত হয়। তাই সুন্দর জীবন গঠনের জন্য প্রতিদিন বন্দনা করা উচিত।
অনুশীলনমূলক কাজ |