ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগদানের সুফল (পাঠ : ২)

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

280

ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো সর্বজনীন। সম্মিলিতভাবেই এসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হয়। ফলে এসব অনুষ্ঠানে যোগদানের সুফল অনেক। যেমন: ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগদানের ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। ধর্মকথা শ্রবণ করে অস্থির মন শান্ত, প্রসন্ন ও উদার হয়। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত হয়। কঠিন ধর্মবাণী বুঝতে সহজ হয়। পুণ্য অর্জিত হয়। দান চিত্ত উদয় হয়। নৈতিক চরিত্র গঠিত হয়। দয়াপরায়ণ ও পরোপকার করতে উৎসাহ সৃষ্টি হয়।
এখন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগদানের সুফল সম্পর্কে একটি কাহিনি তুলে ধরব। থেরী উত্তমা পূর্বজন্মে এক ধনশালীর গৃহপরিচারিকা ছিলেন। সেই ধনশালী প্রভু সব সময় নানা ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। একদিন উত্তমাও অত্যন্ত আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে প্রভুর ধর্মানুষ্ঠানে যোগদান করেন। তিনি নিজের ইচ্ছায় শ্রদ্ধাচিত্তে অনুষ্ঠানের সকল কাজ সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি মনে মনে কামনা করেন, ভবিষ্যতে তিনিও যেন একজন খ্যাতিসম্পন্ন দাতা হতে পারেন। এই সুকৃতি ও শুভ কামনার ফলে গৌতম বুদ্ধের সময় তিনি শ্রাবস্তীনগরের এক ধনীর কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রচুর দান করতেন এবং মহান দাতা হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেন। তাই সকলের একাগ্রচিত্তে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা উচিত।
বুদ্ধের সময় শ্রাবস্তীর একটি এলাকার অধিবাসীরা একটি সর্বজনীন ধর্মোৎসব আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। মহা উৎসাহে সকলে কাজে লেগে গেল। চতুর্দিকে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হলো। তথাগত বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের নিমন্ত্রণ জানানো হলো। অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল অন্ন-পানীয় দিয়ে বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বুদ্ধের দেশনা শ্রবণ করা। যথাসময়ে সকল আয়োজন সম্পন্ন হলো। অনুষ্ঠানের দিন বুদ্ধ তাঁর শিষ্যসহ অনুষ্ঠান মণ্ডপে উপস্থিত হলেন। সকলে মিলে তাঁদের অন্ন-পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করল। নিজেরাও দুপুরের খাবার খেল। তারপর শুরু হলো ধর্মালোচনা সভা। এসময় আয়োজকদের উৎসাহে ভাটা পড়ে গেল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাড়ি ফিরে গেল। কেউবা গল্পগুজব আরম্ভ করল। কিছু লোক ঘুমিয়ে পড়ল । কিছু লোক অন্যমনস্ক ছিল। শ্রদ্ধাচিত্তে ধর্মালোচনায় মনোনিবেশ করল মাত্র কয়েকজন। বুদ্ধশিষ্যরা বিষয়টি লক্ষ করলেন। তাঁরা তথাগত বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করলেন, এত বড় ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করে এলাকাবাসী নিজেরা কেন ধর্ম শ্রবণে অপারগ হলো? উত্তরে বুদ্ধ বললেন, 'ধর্মাচরণের আনন্দ সকলে লাভ করতে পারে না। ধর্মের রসবোধ উপলব্ধিতে জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। গভীর সমুদ্র যেমন সকলে পাড়ি দিতে পারে না, তেমনি ধর্মপথ পাড়ি দিতে পারে অল্প কয়জন ব্যক্তি মাত্র। যাঁরা একাগ্রচিত্ত ও সচেতন, তাঁরাই পারে জীবনে শান্তি সমৃদ্ধি অর্জন করতে।' তাই সর্বদা শ্রদ্ধাচিত্তে একাগ্রতার সাথে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগদান করা উচিত।

অনুশীলনমূলক কাজ
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগদানের কয়েকটি সুফল লেখো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...