ষষ্ঠ শ্রেণি শশক জাতক গাইড ও নোট (পাঠ : ৪)

Class 6 Guide & Notes
417

অতীতকালে বারাণসি রাজ্যের রাজা ছিলেন ব্রহ্মদত্ত। তাঁর রাজত্বকালে বোধিসত্ত্ব শশককূলে জন্মগ্রহণ করে এক বনে বাস করতেন। ঐ বনের একদিকে পর্বত, একদিকে নদী এবং একদিকে গ্রাম। শশকরূপী বোধিসত্ত্বের তিন বন্ধু ছিল। শিয়াল, বানর ও উদ্বিড়াল। চার বন্ধু বাস করত গঙ্গা নদীর তীরে। শশক ছিলেন খুব পণ্ডিত। প্রতিদিন সন্ধ্যায় তিন বন্ধুকে 'দান করা উচিত', 'শীল রক্ষা করা উচিত', 'উপোসথ পালন করা উচিত'- এরূপ ধর্মোপদেশ দিতেন। বন্ধুরা উপদেশসমূহ গ্রহণ করত। এভাবে অনেক দিন কেটে গেল।
একদিন শশক চাঁদ দেখে বুঝলেন, পরদিন পূর্ণিমা। বন্ধুদের বললেন, 'আগামীকাল পূর্ণিমা। তোমরা শীল গ্রহণ করে উপোসথ পালন করো। শীলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দান করো। শীলবান ব্যক্তির দান মহাফলদায়ক। কোনো যাচক উপস্থিত হলে তোমরা নিজের খাবারের অংশ হতে তাকে খাবার দেবে।'
উপদেশ শুনে বন্ধুরা খাবারের খোঁজে বের হলো।
শিয়াল এক বাড়িতে ঢুকল। সে দেখল এক হাঁড়ি মাংস, মিষ্টি ও এক ভার দই বারান্দায় পড়ে আছে। সে উচ্চ স্বরে তিনবার হাঁক দিল- এগুলো কার? এগুলো কার? এগুলো কার? কেউ সাড়া দিল না। তখন সে ঐ সব দ্রব্য নিয়ে গর্তে ফিরে এল এবং 'বেলা হলে আহার করব' এরূপ সংকল্প করে শীলভাবনা করতে থাকল।

ওদিকে উদ্বিড়াল সমুদ্রের তীরে গিয়ে মাছের গন্ধ পেল। বালি খুঁড়ে সে চারটি মাছ বের করল। সে-ও তিনবার বলল- এগুলো কার? এগুলো কার? এগুলো কার? কেউ সাড়া দিল না। তখন সে মাছগুলো গর্তে নিয়ে এল এবং 'বেলা হলে আহার করব'-এরূপ সংকল্প করে শীলভাবনা করতে থাকল। বানরও বন থেকে একগুচ্ছ আম পেড়ে নিয়ে এল এবং 'বেলা হলে আহার করব'-এরূপ সংকল্প করে শীলভাবনা করতে থাকল।

এদিকে বোধিসত্ত্ব তৃণ ভক্ষণ করবেন বলে স্থির করলেন এবং চিন্তা করতে লাগলেন, 'আমার খাবার তো ঘাস। মানুষ ঘাস খায় না। আমার কাছে কোনো যাচক উপস্থিত হলে তাকে কী দিয়ে আপ্যায়ন করব'।
তারপর সিদ্ধান্ত নিলেন, নিজের শরীরের মাংস আগুনে পুড়িয়ে তা দিয়ে আপ্যায়ন করবেন।
দেবরাজ ইন্দ্র শশকের মহাসংকল্পের কথা জানতে পারলেন। দান পরীক্ষার জন্য ইন্দ্র এক ব্রাহ্মণের বেশে সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি একে একে সবার দান গ্রহণ করলেন। অবশেষে শশকের কাছে এলেন। শশক তাঁকে দেখে খুব খুশি। ব্রাহ্মণরূপী ইন্দ্রকে বললেন, 'আপনি আহারের জন্য আমার কাছে এসে উত্তম কাজ করেছেন। আমি আপনাকে এমন দান দেব, যা আগে কেউ কখনো দান করেনি। আপনি আগুন জ্বালুন। আমি তাতে ঝাঁপ দেব। আগুনে আমার শরীর সিদ্ধ হলে আপনি সেই মাংস খেয়ে শ্রামণ্য ধর্ম পালন করবেন।' ইন্দ্র খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালালেন। শশকরূপী বোধিসত্ত্ব তিনবার গা ঝাড়া দিলেন। পোকা -মাকড় থাকলে যাতে শরীর থেকে পড়ে যায়। তারপর নির্ভয়ে আগুনে ঝাঁপ দিলেন। কিন্তু আশ্চর্য আগুন তাঁর একটি কেশও স্পর্শ করল না। শশক ব্রাহ্মণকে বললেন, ব্রাহ্মণ! তোমার আগুন এত শীতল কেন?
ইন্দ্র নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, হে শশক! আমি ইন্দ্র। তোমার দান পরীক্ষার জন্য এরূপ করেছি।
শশক বললেন, হে দেবরাজ! বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সবাই আমার দান পরীক্ষা করুক। আমাকে কখনো দানবিমুখ দেখবে না।
ইন্দ্র বললেন, 'শশক, তোমার খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক।' দেবরাজ ইন্দ্র চন্দ্রমহলে একটি শশকচিহ্ন এঁকে দিলেন। সে কারণে আজও আমরা চাঁদে একটি শশকের চিহ্ন দেখি।
উপদেশ: শীলবান ব্যক্তিরা সর্বত্র পূজিত হয়।

অনুশীলনমূলক কাজ
শশকের বন্ধু কারা?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...