সপ্ত মহাস্থান বন্দনা (পাঠ : ৪)

বন্দনা - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

561

সপ্ত মহাস্থান বন্দনা
বুদ্ধত্ব লাভের পর বুদ্ধ বোধিবৃক্ষের পাশে সাতটি স্থানে ঊনপঞ্চাশ দিন অবস্থান করেন। সেসময় তিনি কখনো ধ্যানমগ্ন ছিলেন। কখনো পদচারণ করেছেন। কখনো তাঁর উদ্ভাবিত নবধর্ম সম্পর্কে চিন্তা করেছেন। বোধিবৃক্ষের চারিপাশে এ রকম সাতটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সাতটি স্থানকে সপ্ত মহাস্থান বলা হয়।
সপ্ত মহাস্থান হলো:
বোধিপালঙ্ক: বুদ্ধ যে আসনে বসে বুদ্ধত্ব লাভ করেছেন তাকে বোধিপালঙ্ক বলা হয়।
অনিমেষ স্থান: বোধিপালঙ্ক থেকে কিছুটা উত্তর-পূর্ব কোণে অনিমেষ স্থান অবস্থিত। অনিমেষ স্থানে বসে বুদ্ধ সাত দিন ধরে এক পলকে বোধিবৃক্ষের দিকে তাকিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন। এজন্য এ স্থান অনিমেষ চৈত্য নামে পরিচিত।
চংক্রমণ স্থান: বোধিপালঙ্ক ও অনিমেষ স্থানের মাঝখানে যে বেদিটি দেখা যায়, তা চক্রমণ (পদচারণ) স্থান নামে অভিহিত। বুদ্ধ এখানে চক্রমণ করেছিলেন বলে এরূপ নামকরণ হয়।
রত্নঘর: বোধিপালঙ্কের সোজা উত্তর-পশ্চিম পাশের সামান্য দূরে রত্নঘর স্থান অবস্থিত। বুদ্ধ এ স্থানে বসেই ধ্যান করেছিলেন।
অজপাল ন্যাগ্রোধ: এটি বোধিপালঙ্কের সোজা পূর্বদিকে এবং অনিমেষ স্থানের কিছু দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। ছাগল পালকেরা এ বৃক্ষের নিচে বসত বলেই এটি অজপাল বৃক্ষ নামে পরিচিতি লাভ করে। বুদ্ধ এ স্থানে ধ্যান করতেন।
মুচলিন্দ স্থান: বোধিপালঙ্কের দক্ষিণ-পূর্বে এটি অবস্থিত। এখানে নাগরাজের বসবাস ছিল। মুচলিন্দ বৃক্ষের নিচে ধ্যান করার সময় নাগরাজ তাঁর দেহ দিয়ে বুদ্ধকে বেষ্টন করে মশা-মাছি, ঝড়-বৃষ্টি প্রভৃতি থেকে রক্ষা করেছিলেন।

রাজায়তন স্থান: বোধিপালঙ্কের সামান্য দক্ষিণ-পূর্বে এবং মুচলিন্দের উত্তর পাশে এটির অবস্থান। রাজায়তন নামে এক ধরনের পার্বত্য বৃক্ষ ছিল বলেই এটি রাজায়তন স্থান নামে পরিচিত। এখানেও বুদ্ধ সাত দিন যাবৎ ধ্যান করেন। বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই সপ্ত মহাস্থান বৌদ্ধদের নিকট অতি পবিত্র। তাই বৌদ্ধরা একাগ্রচিত্তে এই সপ্ত মহাস্থানকে বন্দনা নিবেদন করে। সপ্ত মহাস্থান বন্দনাগাথাটি নিম্নরূপ:


পঠমং বোধিপল্লঙ্কং, দুতিযং অনিমিসম্পি চ
ততিযং চক্রমণং সেফ্টং, চতুথং রতনঘরং
পঞ্চমং অজপালঞ্চ, মুচলিন্দঞ্চ ছট্টমং
সত্তমং রাজাযতনং, বন্দে তং বোধিপাদপং।

বাংলা অনুবাদ: প্রথম বোধিপালঙ্ক, দ্বিতীয় অনিমেষ স্থান, তৃতীয় চংক্রমণ স্থান, চতুর্থ রতনঘর স্থান, পঞ্চম অজপাল ন্যাগ্রোধ বৃক্ষ, ষষ্ঠ মুচলিন্দ মূল, সপ্তম রাজায়তনসহ বোধিবৃক্ষকে আমি অবনত শিরে বন্দনা করছি।

অনুশীলনমূলক কাজ
সাতটি মহাস্থানের নাম লিখ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...