মঙ্গলসূত্রের পটভূমি (পাঠ : ২)

সূত্র ও নীতিগাথা - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

349

মঙ্গল শব্দের অর্থ শুভ বা ভালো। আমরা নিজের ও অন্যের শুভ বা ভালো হোক কামনা করে থাকি। একে মঙ্গল কামনা বলে। অনেক সময়ই মনে প্রশ্ন জাগে, আসলে কীসে বা কী করলে মঙ্গল হয়? মানুষ নানা রকম আচরণ বা চিহ্নকে মঙ্গল ও অমঙ্গল সূচক মনে করে থাকে। যেমন: কোনো কাজে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অনেকে ডান পা আগে বাইরে দেওয়াকে মঙ্গল মনে করে। অনেকে ভরা কলসসহ মেয়ে দেখলে মঙ্গল বা শুভ হয় বলে মনে করে। অনেকে কাক ডাকলে অশুভ হয় মনে করে ইত্যাদি।
গৌতম বুদ্ধের সময়েও লোকেরা কীসে মঙ্গল হয় তা নিয়ে আলোচনা করত। কেউ বলত, ভালো কিছু দেখলে মঙ্গল হয়। কেউ বলত, দেখার মধ্যে মঙ্গল নেই, শোনার মধ্যেই মঙ্গল। আবার, কেউ বলত, শোনার মধ্যে মঙ্গল নেই, মঙ্গল আছে ঘ্রাণ নেওয়ার মধ্যে, স্বাদ নেওয়ার মধ্যে কিংবা স্পর্শ করার মধ্যে। এভাবে তা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হতো। মানুষের পাশাপাশি দেবতাদের মধ্যেও মঙ্গল নিয়ে তর্ক বিতর্ক হতো। কিন্তু এতে কোনো সমাধান হলো না। তখন তাবতিংশ স্বর্গের দেবতারা একত্র হয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের কাছে গেলেন। দেবরাজ ইন্দ্র তাঁদের কথা শুনে একজন দেবপুত্রকে মর্ত্যলোকে ভগবান বুদ্ধের কাছে গিয়ে এসব বিষয় জিজ্ঞাসা করার জন্য পাঠালেন। ভগবান বুদ্ধ তখন শ্রাবস্তীর জেতবন বিহারে অবস্থান করছিলেন। দেবপুত্রসহ অন্য দেবতারা বুদ্ধকে বন্দনা নিবেদন করে মঙ্গল কী জানতে চাইলেন। তার উত্তরে ভগবান বুদ্ধ দেবতা ও মানুষের উপকারের জন্য মঙ্গলসূত্র দেশনা করেন। তিনি মঙ্গলসূত্রে আটত্রিশ প্রকার মঙ্গলের কথা বলেন। এভাবেই 'মঙ্গলসূত্রের' উৎপত্তি হয়।

অনুশীলনমূলক কাজ
বুদ্ধ কেন মঙ্গলসূত্র দেশনা করেছিলেন?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...