ষষ্ঠ শ্রেণি পাহাড়পুর গাইড ও নোট (পাঠ : ৩)

Class 6 Guide & Notes
389

জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে নওগাঁর বদলগাছী থানায় পাহাড়পুর অবস্থিত। পাল বংশের রাজারা এই অঞ্চল শাসন করতেন। এ অঞ্চলটি বৌদ্ধ সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল। পাল বংশের রাজা ধর্মপাল এখানে একটি বৃহৎ বিহার নির্মাণ করেন। বিহারটির নাম 'সোমপুর মহাবিহার। এটি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধবিহার। এই বিহারের জন্য পাহাড়পুরের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। নিচে সোমপুর মহাবিহারের পরিচয় তুলে ধরা হলো।

সোমপুর মহাবিহার
খননকার্যের ফলে সোমপুর মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়। বিহারটি বর্গাকৃতির। প্রায় ২৭ একর জমিজুড়ে বিহারটি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই বিহারের আয়তন উত্তর-দক্ষিণে ৯২২ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৯১৯ ফুট। বিহারের চারদিক ইটের প্রকাণ্ড দেয়াল দিয়ে ঘেরা। বিশাল বিহারটি দুর্গের মতো দেখায়। এতে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য ১৭৭টি কক্ষ ছিল। কক্ষগুলোতে কোনো জানালা ছিল না। তবে দেয়ালের মধ্যে কুলুঙ্গি ছিল। সব কটি কক্ষ একই মাপের (১৪×১৩ ফুট)। প্রতিটি কক্ষে একটি প্রবেশপথ রয়েছে। বিহারাঙ্গনে অসংখ্য নিবেদন স্তূপ, ছোট ছোট মন্দির, পুষ্করিণী এবং অন্যান্য স্থাপনা ছড়িয়ে আছে। বিহারের কেন্দ্রস্থলে ক্রুশ আকৃতির সুউচ্চ একটি মন্দির আছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে এর ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত হয়েছে।

বিহারের প্রধান প্রবেশপথ উত্তর দিকে অবস্থিত। প্রবেশপথ ছিল বেশ বিস্তত্ব। বিহারের দেয়ালগাত্র পোড়ামাটির অপূর্ব ফলক চিত্রে অলঙ্কৃত ছিল। সহজ-সরল গ্রামীণ শিল্পীরা মাটি দিয়ে এগুলো তৈরি করেছিল। এগুলো ছিল প্রাচীন বাংলার সমাজ চিত্র। এগুলোর শিল্পমান অনন্যসাধারণ।
রাজা ধর্মপাল এ বিহারকে কেন্দ্র করে আরও পঞ্চাশটি বৌদ্ধবিহার ও শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে জানা যায়। এই বিহারের ধ্বংসাবশেষ থেকে খননকার্যের ফলে বহু বুদ্ধ, বোধিসত্ত্ব ও বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, মুদ্রা, শিলালিপি, তাম্র নির্মিত দ্রব্য, আসবাবপত্র আবিষ্কৃত হয়।
মহাপণ্ডিত বোধিভদ্র ও অতীশ দীপঙ্কর এ বিহারে অবস্থান করেন। পরে অতীশ দীপঙ্কর তিব্বতে গিয়ে ধর্ম প্রচার এবং বহু গ্রন্থ রচনা করেন। এটি শুধু বৌদ্ধবিহারই ছিল না, বিদ্যাপীঠও ছিল। বৌদ্ধধর্ম ছাড়াও জ্ঞান- বিজ্ঞানের নানা বিষয় শিক্ষা দেওয়া হতো। দেশি-বিদেশি পণ্ডিতগণ এই বিহারে বিদ্যাশিক্ষার জন্য আসতেন। বহির্বিশ্বেও এ বিহারের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। ইউনেস্কো পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারকে 'বিশ্ব ঐতিহ্য' হিসেবে স্বীকৃতি দান করেছে।

অনুশীলনমূলক কাজ
সোমপুর মহাবিহার অঙ্গনে অবস্থিত স্থাপনাগুলোর তালিকা তৈরি করো। (দলীয় কাজ)। সোমপুর মহাবিহারে প্রাপ্ত দ্রব্যের তালিকা প্রস্তুত করো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...