অভিরূপা নন্দা (পাঠ : ৫)

চরিতমালা - বৌদ্ধধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

182

হিমালয়ের পাদদেশে ছিল কপিলাবস্তু রাজ্য। এই রাজ্যে শাক্য জাতি বাস করত। সিদ্ধার্থ গৌতমের পিতা শুদ্ধোদন ছিলেন শাক্যদের রাজা। শাসনকার্য পরিচালনায় সুবিধার জন্য রাজ্যটি কয়েকজন নায়কের অধীন বিভক্ত ছিল। তেমনি এক নায়ক ছিলেন ক্ষেমক। নন্দা ছিলেন ক্ষেমকের প্রধান স্ত্রীর কন্যা। নন্দা অপূর্ব সুন্দরী ছিলেন। তাই তাঁর নাম হয় অভিরূপা নন্দা।
নন্দা বিবাহযোগ্যা হলে বহু ধনী ব্যক্তির পুত্র বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। অনেক বিচার-বিবেচনা করার পর নন্দা এক শাক্য যুবককে পছন্দ করলেন। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য! সেই দিনই সেই শাক্য যুবকের মৃত্যু হয়। সমাজে তখন তা অমঙ্গল হিসেবে বিবেচিত হতো। নন্দার মা-বাবাও ভীষণ মর্মাহত হন। তাঁরা ঠিক করলেন নন্দাকে সংসারধর্মে আবদ্ধ না রাখতে। অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তির জন্য তাঁকে প্রব্রজিত করলেন। প্রব্রজিত হলেও নন্দা তাঁর রূপের জন্য খুব অহংকার করতেন। মস্তক মুন্ডিত করে ভিক্ষুণীর বেশ গ্রহণে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না। কিন্তু পরিবারের সিদ্ধান্তে বাধ্য হয়ে নন্দা প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন।
প্রব্রজ্যা গ্রহণের পর নন্দার নতুন জীবন শুরু হলো। নন্দা এখন ভিক্ষুণী। কিন্তু ভিক্ষুণী হলেও তিনি রূপের অহংকার করতেন। উপদেশ শোনার জন্য প্রতিদিন অনেক ভিক্ষুণী বুদ্ধের নিকট যেতেন। কিন্তু নন্দা বুদ্ধের সামনে যেতে ভয় পেতেন। কারণ তিনি মনে করতেন, বুদ্ধ তাঁর মনোভাব জেনে তাঁকে সকলের সামনে ভর্ৎসনা করতে পারেন। এই ভয়ে তিনি সবসময় বুদ্ধকে এড়িয়ে চলতেন। বুদ্ধ জানতেন, নন্দা জ্ঞান লাভের উপযুক্ত। তিনি নন্দাকে ডেকে আনেন। সে সময় বুদ্ধ দিব্যশক্তিতে নন্দার চেয়ে অপরূপ সুন্দরী নারীকে উপস্থিত করেন। সে নারীর সৌন্দর্য দেখে নন্দা হতভম্ব হয়ে যান। এক দৃষ্টিতে নন্দা চেয়ে রইলেন সেই সুন্দরী নারীর দিকে। বুদ্ধ দিব্যশক্তিতে সুন্দরী নারীকে পুনরায় বৃদ্ধ, জরা, শীর্ণ অবস্থায় পরিণত করলেন। সেই দৃশ্য নন্দার মনে আঘাত করল। তাঁর রূপের মিথ্যা অহংকার নিমেষেই ধ্বংস হয়ে গেল। তখন বুদ্ধ তাঁকে অহংকার পরিত্যাগ করার জন্য উপদেশ দেন। বুদ্ধের উপদেশ শুনে তিনি বুঝতে পারলেন; রূপ ক্ষণস্থায়ী, অন্তরের সৌন্দর্যই চিরস্থায়ী। অতঃপর তিনি তৃষ্ণামুক্ত হয়ে অর্হত্বপ্রাপ্ত হন এবং উপদেশস্বরূপ বলেন; 'এই দেহ অশুচি এবং ব্যাধির আগয়। এতে অহংকারের কিছুই নেই। অনিষ্টকর অহংকার পরিত্যাগ করো। মনকে শান্ত ও সংযত করো।'
নন্দার জীবনী থেকে আমরা এই শিক্ষা পাই যে রূপের জন্য অহংকার করা উচিত নয়। সৎ জ্ঞানই মানুষের পরম সম্পদ।

অনুশীলনমূলক কাজ
রূপ ক্ষণস্থায়ী বুদ্ধ অভিরূপা নন্দাকে কীভাবে এ শিক্ষা দিলেন? বর্ণনা করো।
অর্হত্বপ্রাপ্ত হয়ে অভিরূপা নন্দা কী বলেছিলেন?

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...