এই বইয়ে আমরা অনেকবার বলেছি যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিয়ে সারা পৃথিবীতে একটা বিপ্লব হচ্ছে এবং আমরা সবাই আমাদের চোখের সামনে সেই বিপ্লবটা ঘটতে দেখছি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটির এই বিপ্লবটুকু যে বিষয়গুলোর জন্যে ঘটছে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে ইন্টারনেট। কাজেই তোমাদের সবাইকে ইন্টারনেট সম্পর্কে জানতে হবে। সবাইকে কখনো না কখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে! বিষয়টি বোঝার জন্যে নিচের কয়েকটি ঘটনার কথা কল্পনা করা যাক:
ঘটনা ১: একদিন রাহাত স্কুল থেকে বাসায় আসছে। হঠাৎ করে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি শুরু হলো। রাহাত মহা খুশি, এ দেশের বৃষ্টির মতো এত সুন্দর বৃষ্টি আর কোথায় আছে? রাহাতের বৃষ্টিতে ভিজতে খুব ভালো লাগে। তাই সে ভিজতে ভিজতে বাসায় এলো। কিন্তু বাসায় এসে হঠাৎ তার মনে পড়ল সে তো স্কুলের ব্যাগ নিয়ে বাসায় এসেছে। সেই ব্যাগ নিশ্চয়ই ভিজে একাকার। দেখা গেল সত্যি তাই। তার আম্মু তাকে একটু বকা দিয়ে বইগুলো ফ্যানের নিচে শুকাতে দিলেন। কিন্তু দেখা গেল গণিত বইটা ভিজে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। রাহাতের এত মন খারাপ হলো যে সে কেঁদেই ফেলল। তার আম্মু বললেন, "ঠিক আছে আর কাঁদতে হবে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এর ওয়েবসাইট (www.nctb.gov.bd) থেকে তোমার গণিত বই ডাউনলোড করে প্রিন্ট করিয়ে বাঁধাই করিয়ে দেবো। নতুন একটা বই পেয়ে যাবে!" সত্যি সত্যি আম্মু সেটা করে দিলেন। রাহাত এক ঘণ্টার মধ্যে নতুন একটা বই পেয়ে গেল।

ঘটনা২: দুই বন্ধুকে জরুরি কাজে একটা জায়গায় যেতে হবে। মুশকিল হলো সেখানে তাদের পরিচিত কেউ আগে যায়নি, সেখানে যাওয়ার রাস্তা আছে কি না সেটাও জানা নেই। হঠাৎ তাদের মনে পড়ল ইন্টারনেটে গিয়ে সেই জায়গাটার ম্যাপটা তারা দেখতে পারে! কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা জায়গাটার খুঁটিনাটি সব কিছু দেখতে পেল, একটা বিলের পাশ দিয়ে ছোটো একটা রাস্তা ধরে তারা যেতে পারবে। দুজন পরদিন সেখানে পৌঁছে গেল।

ঘটনা ৩: ট্রেনে একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তার দুই মেয়ে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন। তার সামনের সিটে বসেছে একজন বিদেশি। যেতে যেতে দুজন কথা বলছে। কথা প্রসঙ্গে বিদেশি মানুষটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে পারল। সে বলল, "তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটি আমার জানার খুব ইচ্ছা, কোনো বই কি পাওয়া যাবে?" যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বললেন, "অবশ্যই! আমি ইন্টারনেটের একটা লিংক দিই। সেখানে তুমি সব পেয়ে যাবে।" বিদেশি মানুষটি লিংক নিয়ে তখনই তার ল্যাপটপে বসে গেল, দুই মিনিটের মধ্যে সে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস পড়তে শুরু করল।
ঘটনা ৪: স্কুলে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মিলি "আমি টাকডুম টাকডুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল" গানটির সাথে নাচবে। কিন্তু মুশকিল হলো তাদের বাসায় এই গানের ক্যাসেট বা সিডি কিছুই নেই। মিলির খুব মন খারাপ। সে আশা প্রায় ছেড়েই দিচ্ছিল। তখন তার স্কুলের শিক্ষিকা রওশন আরা বললেন, "মিলি, তোমার কোনো চিন্তা নেই। আমি ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে গানটা বের করে এমপিথ্রি (MP3) কপি ডাউনলোড করে নেব!" সত্যি তাই হলো, শিক্ষিকা গানটি ডাউনলোড করে নিলেন, তারপর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মিলি সেটার সাথে নেচে সবাইকে মুগ্ধ করে দিল।
ঘটনা ৫: যাঁরা ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্যে এই বইটি লিখছেন হঠাৎ করে তাঁদের খেয়াল হলো, এই বইয়ে সুপার কম্পিউটারের কথা বলা হয়েছে কিন্তু সেখানে তো কোনো ছবি নেই। এই বয়সী শিক্ষার্থীদের বইয়ে যদি সুন্দর সুন্দর ছবি না থাকে তাহলে কি তারা বইটি পড়তে আগ্রহী হবে? যাঁরা লিখছেন তাঁরা অবশ্য ছবিটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করলেন না। কারণ, তারা জানেন উইকিপিডিয়া (wikipedia.org) নামে যে বিশাল বিশ্বকোষ আছে, সেখানে একটা না একটা ছবি পেয়েই যাবেন! আসলেও পেয়ে গেলেন-তোমরা নিজেরাই সেটা দেখেছ।
ঘটনা ৬, ঘটনা ৭, ঘটনা ৮... এভাবে আমরা চোখ বন্ধ করে কয়েক হাজার ঘটনার কথা বলতে পারি। তোমরাই বলো, তার কি দরকার আছে? তোমরা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে গেছ ইন্টারনেট হচ্ছে এমন একটা জায়গা যেখানে পৃথিবীর যাবতীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। তোমরা নিশ্চয়ই অবাক হয়ে ভাবছ কোন মানুষটি এত তথ্য এক জায়গায় একত্র করেছে? কেমন করে করেছে? পৃথিবীর যেকোনো মানুষ কেমন করে এই তথ্য ব্যবহার করতে পারে?
| কাজ পুরো শ্রেণি করেকটা দলে ভাগ করে নাও। শিক্ষার ব্যাপারে ইন্টারনেট কীভাবে কাজে লাগানো যায়, একটি দল তার একটি তালিকা তৈরি কর। অন্য একটি দল স্বাস্থ্যের ব্যাপারে-ইন্টারনেট কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার একটি তালিকা কর। আরেক দল কর খেলাধুলার ব্যাপারে কিংবা বিনোদনের ব্যাপার-তারপর সবগুলো তালিকা একত্র করে দেখ কত বড়ো তালিকা হয়েছে |
Read more