এর আগের পাঠে ইন্টারনেট দিয়ে কী করা যায়, আমরা সেটা দেখেছি। তোমাদের নিশ্চয়ই জানার কৌতূহল হচ্ছে এটা কেমন করে কাজ করে! আমরা আগেই বলেছি ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীজোড়া কম্পিউটারের নেটওয়ার্ক। নেটওয়ার্ক বলতে আমরা কী বোঝাই বলে দেওয়া দরকার। তোমাদের স্কুলের কম্পিউটার ল্যাবে যদি অনেকগুলো কম্পিউটার থাকে আর সবগুলো কম্পিউটার যদি "সুইচ” নামের একটা যন্ত্র দিয়ে সংযোগ দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে একটা কম্পিউটার অন্য একটা কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবে, আর আমরা বলব তোমাদের স্কুলের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্কিং করা আছে। অর্থাৎ তোমাদের স্কুলে একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক আছে।
ধরা যাক, তোমাদের স্কুলের পাশে আরেকটা স্কুল আছে, তারা তোমাদের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক দেখে অবাক হয়ে গেল। তখন তারাও তাদের শিক্ষকদের কাছে কম্পিউটারের একটা নেটওয়ার্কের জন্যে আবদার করল। তাদের শিক্ষকরাও তখন তাদের স্কুলে অনেকগুলো কম্পিউটার দিয়ে একটা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক করে দিলেন। এখন সেই স্কুলের ছেলেমেয়েরাও তাদের একটা কম্পিউটার থেকে আরেকটা কম্পিউটারে সংযোগ করতে পারে।
কয়েক দিন পর তোমরা নিশ্চয়ই টের পাবে যে, তোমরা তোমাদের স্কুলের কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সব কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পার; কিন্তু পাশের স্কুলের কোনো কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পার না! তোমাদের নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে সেটা করতে ইচ্ছে করে। যদি সেটা করতে হয় তাহলে

তোমাদের স্কুলের নেটওয়ার্ক পাশের স্কুলের নেটওয়ার্কের সাথে জুড়ে দিতে হবে। সেটা জুড়ে দেওয়ার জন্য যেই যন্ত্রটা ব্যবহার করা হবে তার নাম রাউটার। ছবিতে তোমাদের স্কুলের নেটওয়ার্ক কীভাবে পাশের স্কুলের নেটওয়ার্কের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে সেটা এঁকে দেখানো হয়েছে।
তোমাদের স্কুলের নেটওয়ার্কের সাথে তোমাদের পাশের স্কুলের নেটওয়ার্ক জুড়ে দেওয়া হলো, যদি তার সাথে তোমাদের এলাকার কলেজের নেটওয়ার্ক, তার সাথে একটা মেডিকেল কলেজের নেটওয়ার্ক জুড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তৈরি হবে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক। আর সেটাই ইন্টারনেটের জন্ম রহস্য। ইন্টারনেট শব্দটা এসেছে Interconnected Network কথাটা থেকে। প্রথম শব্দ Interconnected এর Inter দ্বিতীয় শব্দ Network এর Net মিলে তৈরি হয়েছে Internet! ১৯৬৯ সালের প্রথম ইন্টারনেটে ছিল মাত্র চারটি কম্পিউটার-এখন রয়েছে কোটি কোটি কম্পিউটার!!
| কাজ (পাঠ-২) তোমার বইয়ের ছবিতে দুটি নেটওয়ার্ক জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মনে কর আরও দুটি নেটওয়ার্ক আছে তুমি সেগুলো ছবি এঁকে জুড়ে দাও । |

এই খেলাটি খেলার জন্য একজন হবে রাউটার।
কয়েকজন হবে সুইচ, অন্য সবাই কম্পিউটার।
প্রত্যেকটা কম্পিউটারের একটা করে নম্বর দেওয়া হবে।
সুইচগুলোর নাম হবে লাল, নীল, সবুজ এরকম।
লাল সুইচের সাথে কয়েকজন কম্পিউটার মিলে হবে লাল নেটওয়ার্ক।
সেরকম নীল সুইচের সাথে কয়েকজন কম্পিউটার মিলে নীল নেটওয়ার্ক, সবুজের সাথে মিলে হবে সবুজ নেটওয়ার্ক।
এক সুইচ অন্য সুইচের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবে না, যদি করতে হয় সেটা করবে রাউটারের মাধ্যমে।
এখন কম্পিউটাররা অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ শুরু কর।
যে কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে চাও একটা কাগজে সেটা লিখ (যেমন, সবুজ ১৩, কিংবা লাল ৭), কাগজটা তোমার নেটওয়ার্কের সুইচকে দাও।
সুইচ যদি দেখে সেটা নিজের নেটওয়ার্কের তাহলে সাথে সাথে তাকে দিয়ে দেবে। যদি দেখে সেটা অন্য নেটওয়ার্কের তাহলে কাগজটা দেবে রাউটারকে।
রাউটার সেটা দেবে সেই নেটওয়ার্কের সুইচকে।
সুইচ দেবে তার কম্পিউটারকে।
তোমরা কত দ্রুত এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পার, পরীক্ষা করে