ওয়ার্ড প্রসেসিং (চতুর্থ অধ্যায়)

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

4.3k

এই অধ্যায় শেষে আমরা-

  • ওয়ার্ড প্রসেসিং বিষয়টি বর্ণনা করতে পারব;
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের সম্পর্ক বর্ণনা করতে পারব;
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ওয়ার্ড প্রসেসিংয়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • কিছু একটা লিখে সেটা সংরক্ষণ করার জন্যে ফাইল তৈরি করতে পারব;
  • ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে ইংরেজিতে কাজ চালানোর মতো লেখার কাজ করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

সুখী তার নিজের লেখা বেশ কিছু কবিতা হারিয়ে ফেলে তাই সে সিদ্ধান্ত নিল যে এবার থেকে সে কবিতাগুলো কম্পিউটারে সংরক্ষণ করবে। ওর পিতা ওকে শীঘ্রই একটি কম্পিউটার কিনে দিবেন বলেছেন।

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

অষ্টম শ্রেণির কম্পিউটার ল্যাব-এ সোহেল স্যার ছাত্রদের ওয়ার্ড প্রসেসর-এ তাদের নিজেদের নাম, ঠিকানা, বিদ্যালয়ের নাম পরপর কয়েকটি লাইনে লিখতে বললেন। রাজন প্রথমে তার বিদ্যালয়ের নামে ভুল করলো, পরে সে ঠিক করে লিখল।

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও
রোল নম্বরনামপ্রাপ্ত গ্রেড
কামালA-
শফিকA
সাথীA+

তোমাদের পড়াশোনা করার জন্যে নিশ্চয়ই অনেক লেখালেখি করতে হয়। খাতার পৃষ্ঠায় কিংবা কাগজে তোমরা পেনসিল বা কলম দিয়ে সেগুলো লিখ। যার হাতের লেখা ভালো, সে একটু গুছিয়ে লিখতে পারে তার খাতাটা দেখতে হয় সুন্দর। যার হাতের লেখা ভালো না, গুছিয়ে লিখতে পারে না, কাটাকাটি হয়, তারটা দেখতে তত সুন্দর হয় না।
কিন্তু মাঝেমধ্যে তোমাদের নিশ্চয়ই সুন্দর করে লেখার দরকার হয়, স্কুল ম্যাগাজিন বের করছ কিংবা কোনো অতিথিকে মানপত্র দিচ্ছ, কিংবা কোনো একটা জাতীয় প্রতিযোগিতায় রচনা জমা দিচ্ছ-তখন তোমরা কী করবে? এক সময় কিছু করার ছিল না- বড়োজোর কষ্ট করে টাইপরাইটারে লিখতে হতো। এখন কিন্তু কম্পিউটার ব্যবহার করে লিখে প্রিন্টারের মাধ্যমে খুব সুন্দর করে ছাপিয়ে নেওয়া যায়। লেখালেখির জন্যে যে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে তার নাম হচ্ছে ওয়ার্ড প্রসেসর। লেখালেখি করতে হলেই শব্দ বা ওয়ার্ড লিখতে হয়, সুন্দর করে লিখতে হলে শব্দগুলোকে সাজাতে হয় গোছাতে হয়- আর এটা হচ্ছে এক ধরণের প্রক্রিয়া- যার ইংরেজি হচ্ছে প্রসেসিং (processing)। দুটি মিলে হয় ওয়ার্ড প্রসেসিং, আর যে সফটওয়‍্যার ওয়ার্ড প্রসেসিং করে সেটা হচ্ছে ওয়ার্ড প্রসেসর।

ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে কী কী করা যায়, সেটা তোমরা নিজেরাই পরের পাঠে বের করে ফেলতে পারবে। তোমরা যখন সত্যিকারের কম্পিউটারে ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে কিছু একটা লিখবে তখন আরও খুঁটিনাটি বিষয় জেনে যাবে, যেগুলো বই পড়ে বুঝা সহজ হয় না। তারপরও ওয়ার্ড প্রসেসর নিয়ে দু-একটি কথা না বললেই নয়। প্রথমত, সাধারণ লেখালেখি বা টাইপরাইটারের সাথে ওয়ার্ড প্রসেসরের সবচেয়ে বড়ো পার্থক্য হচ্ছে ওয়ার্ড প্রসেসরে এডিটিং বা পরিবর্তন করা যায়। টাইপরাইটারে কিছু একটা লেখার পর আমরা যদি দেখি কিছু একটা ভুল হয়ে গেছে তখন মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। ভুলটা শুদ্ধ করতে হলে আবার পুরোটা গোড়া থেকে টাইপ করতে হয়। ওয়ার্ড প্রসেসরে ভুল শুদ্ধ করার মতো সহজ কাজ আর কিছুই হতে পারে না। শুধু ভুল নয় ইচ্ছে করলেই যেকোনো পরিবর্তন করা যেতে পারে, পুরাতন অংশ বাদ দিয়ে দেওয়া যায়, নতুন অংশ যোগ দেওয়া যায়।
লেখালেখির সাথে ওয়ার্ড প্রসেসরের দ্বিতীয় বড়ো পার্থক্যটি হচ্ছে সংরক্ষণ। হাতে লেখা কাগজ সংরক্ষণ করা খুব সহজ নয়। কোথায় রাখা হয়েছে মনে থাকে না। দরকারের সময় খুঁজে পাওয়া যায় না। খুঁজে পাওয়া গেলেও হয়তো দেখা যায় উইপোকা খেয়ে ফেলেছে। ওয়ার্ড প্রসেসরে এগুলোর কোনো ভয় নেই। লেখালেখি করে একটা ফাইল হিসেবে হার্ডড্রাইভে রেখে দেওয়া যায়। দরকার হলে একটা পেনড্রাইভে বা সিডিতে কপি করে রাখা যায়। আরও বেশি সাবধান হলে অন্য কোনো কম্পিউটারেও কপি সংরক্ষণ করা যায়।
যেহেতু ওয়ার্ড প্রসেসর সবার জন্যে প্রয়োজনীয় আর খুব জনপ্রিয় সফটওয়্যার তাই সফটওয়্যারের সব বড়ো কোম্পানিই চমৎকার সব ওয়ার্ড প্রসেসর তৈরি করছে। যেমন, মাইক্রোসফট কোম্পানির মাইক্রোসফট ওয়ার্ড সেরকম একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার। কেউ যদি টাকা না দিয়ে বিনামূল্যে ওয়ার্ড প্রসেসর সংগ্রহ করতে চায় তাহলে তার জন্যেও সফটওয়্যার আছে আর সেটি হলো ওপেন অফিস রাইটার।

কাজেই তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, কাগজ আবিষ্কার করে একদিন মানুষের সভ্যতার একটা নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিল। হাজার বছর পর আজ কাগজ ছাড়াও লেখা সম্ভব এবং সেটা দিয়ে সভ্যতার আরেকটা নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ড প্রসেসর

এক নজরে ওয়ার্ড প্রসেসরের কাজ

কাজ
ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুটি দল তৈরি কর। একদল যুক্তি দাও-ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে কাগজের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে কী লাভ? অন্য দল যুক্তি দাও-কেন এখনও কাগজের ব্যবহার রাখতে হবে? কাদের যুক্তি ভালো সেটা লক্ষ কর।
Content added By

কথায় বলে একটা ছবি একশ কথার সমান। এই পাঠে আমরা সেই কথাটি সত্যি না মিথ্যা সেটা দেখার চেষ্টা করব। ওয়ার্ড প্রসেসর দিয়ে কী কী করা যায়? কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ? সেসব কিছু না বলে তোমাদের দুটি ছবি দেখানো হচ্ছে। একটা ছবিতে আছে হাতে লেখা একটি পৃষ্ঠা। সেই একই পৃষ্ঠাটি ওয়ার্ড প্রসেসরে টাইপ করে তোমাদের দেখানো হলো। তোমরা দুটি পৃষ্ঠাই ভালো করে লক্ষ করে নিজেরাই আবিষ্কার কর ওয়ার্ড প্রসেসর দিয়ে কী কী করা যায়।

ওয়ার্ড প্রসেসরে লেখাটির নতুন রূপ
সড়ক দুর্ঘটনা: একটি অভিশাপ
(Road Accident: A Curse)

আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি অভিশাপের মতো। খবরের কাগজে যখন আমরা দুর্ঘটনার খবর পড়ি, তখন মানুষগুলোকে চিনি না বলে তাদের আপনজনের দুঃখটা আমরা সব সময় বুঝতে পারি না। শুধু যে মনে দুঃখ পায় তা নয়, অনেক সময় পরিবারের যে মানুষটি রোজগার করত, হয়তো সেই মানুষটি দুর্ঘটনায় মারা যায় বলে পুরো পরিবারটিই পথে বসে যায়। দুর্ঘটনায় যারা আহত হয় তাদের চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে যায়।

সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর জন্যে আমাদের সবারই একটা দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্বগুলো এভাবে লেখা যায়:

ক্রমিক নংসংশ্লিষ্ট মানুষদায়িত্ব
পথচারী

রাস্তা পার হওয়ার সময় দুই পাশে দেখে পার হবে।

সবসময় ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হবে।

যাত্রীগাড়ির ছাদে ভ্রমণ করবে না।
ড্রাইভার ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালালে তাকে সতর্ক করে দেবে।
ড্রাইভারসঠিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাবে না।
ড্রাইভিংয়ের সমস্ত নিয়ম মেনে গাড়ি চালাবে।
গাড়ির মালিকযেসব গাড়ি চলাচলের উপযোগী নয়, সেগুলো পথে নামাবে না।
পুলিশসঠিকভাবে আইন প্রয়োগ করবে।
মিডিয়াগণসচেতনতা তৈরি করবে।

সড়ক দুর্ঘটনার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে আমাদের সবাইকে কাজ করে যেতে হবে। একেবারে ছোট থেকে আমরা সতর্ক থাকব, যেন আমাদের পরিচিত আর কাউকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যেতে না হয়।

Content added By

এতদিন আমরা কেবল বইয়ে কম্পিউটারের কিংবা আইসিটির নানারকম বর্ণনা পড়েছি। এবারে আমাদের সময় এসেছে সত্যিকারের কম্পিউটারে হাত দিয়ে সত্যিকারের কাজ করার। প্রথমে আমরা ব্যবহার করব ওয়ার্ড প্রসেসর।
তোমাদের স্কুলের ল্যাবের কম্পিউটারে কোন অপারেটিং সিস্টেম আছে, সেখানে কোন ওয়ার্ড প্রসেসর আছে তা বলা সম্ভব নয়। তাই তোমাদের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড প্রসেসরের ব্যবহার শেখানো যাবে না। কিন্তু তাতে কোনো সমস্যা নেই দুটি কারণে। প্রথম কারণ, সব ওয়ার্ড প্রসেসরই মোটামুটি একই রকম। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে যে, দেখা গেছে তোমাদের বয়সী শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারের ব্যবহার সম্পর্কে একটা সহজাত দক্ষতা আছে। বড়োরা যেগুলো করতে পারে না কিংবা বুঝতে পারে না, তোমাদের বয়সী ছেলেমেয়েরা সেগুলো চট করে ধরে ফেলে। তাহলে শুরু করা যাক:
প্রথমে কম্পিউটারের পাওয়ার অন করতে হবে। যদি ঠিকমতো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া থাকে, তাহলে পাওয়ার অন করার পর অপারেটিং সিস্টেম তার কাজ শুরু করে দেবে। সবকিছু পরীক্ষা করে যখন দেখবে সবকিছু ঠিকঠাক আছে এবং কম্পিউটার ব্যবহার করার মতো অবস্থায় আছে, তাহলে মনিটরে অনেকগুলো আইকন ফুটে উঠবে-আইকন অর্থ ছোটো একটা ছবি। কোনো একটা লেখা পড়ে বোঝার চেয়ে ছবি বোঝা সহজ। সেজন্যে লেখার সাথে আইকনের ছবিটা থাকে।
তুমি যদি এখন মাউসটা নাড়াও তাহলে দেখবে মনিটরে একটা চিহ্ন নড়ছে। যারা আগে কখনো মাউস ব্যবহার করেনি তাদের বিষয়টি শিখতে হয়। মাউসটা কোনদিকে নাড়ালে মনিটরের চিহ্নটি কোনদিকে নড়ে সেটা শিখে যাওয়ার পর চিহ্নটিকে বা পয়েন্টারটিকে তুমি ওয়ার্ড প্রসেসরের ওপর এনে বসাও। কোনটি ওয়ার্ড প্রসেসরের আইকন সেটি তুমি যদি না জানো তাহলে তোমার শিক্ষককে জিজ্ঞেস করে জেনে নিতে হবে। পয়েন্টারটা যদি ঠিকঠাকভাবে ওয়ার্ড প্রসেসরের আইকনের ওপর বসে তাহলে সেটার চিহ্ন একটু অন্যরকম হয়ে যাবে।
এবার মাউসের বাম দিকের বাটনটি দুইবার ক্লিক করতে হবে। যারা নতুন তাদের প্রথম প্রথম একটু অসুবিধে হতে পারে। কিন্তু তাতে সমস্যা নেই। মাউসটিকে না নড়িয়ে ঠিকঠিকভাবে দুইবার ক্লিক করতে পারলেই ওয়ার্ড প্রসেসরটি চালু হয়ে যাবে, কম্পিউটারের ভাষায় 'ওপেন' হয়ে যাবে।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড আর ওপেন অফিস রাইটার দুটি একেবারে ভিন্ন ওয়ার্ড প্রসেসর হলেও দেখতে প্রায় একই।
তোমরা যে ওয়ার্ড প্রসেসরই ব্যবহার কর না কেন, দেখবে পুরো মনিটর জুড়ে একটা সাদা কাগজের মতো পৃষ্ঠা খুলে যাবে এবং তার শুরুতে একটা ছোটো খাড়া লাইন জ্বলতে-নিভতে থাকবে, যা Cursor নামে পরিচিত যার অর্থ তোমার ওয়ার্ড প্রসেসর লেখালেখি করার জন্যে প্রস্তুত। তুমি লেখালেখি শুরু করে দাও।
যদি তুমি কী-বোর্ডের কোথায় কী আছে সেটা না জান তাহলে সত্যিকারের কিছু লিখতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু এখনই সত্যিকারের অর্থবোধক কিছু লিখতেই হবে, কে বলেছে? কী-বোর্ডের বোতামগুলো টেপাটেপি কর দেখবে সাদা স্ক্রিনে লেখা বের হতে শুরু করেছে। কোথায় টেপা হলে কী লেখা হয় একটু লক্ষ করতে পার। তবে কয়েকটা বিষয় জানা থাকলে সুবিধা হয়। সেগুলো হচ্ছে:

ক. Shift Key চেপে ধরে লিখলে বড়ো হাতের অক্ষরে লেখা হবে, না হয় ছোটো হাতে।
খ. একটা শব্দ লেখা শেষ হওয়ার পর Space Bar টিপ দিলে একটা খালি Space লেখা হবে।
গ. একটা পুরো প্যারাগ্রাফ লেখা শেষ হলে Enter বাটন চাপ দিলে নতুন প্যারাগ্রাফ লেখা শুরু হবে।
ঘ. যখন লেখা হয় তখন Cursor টি লেখার শেষে থাকে-মাউস নড়িয়ে অন্য জায়গায় নিয়ে গেলে Cursor টিও সেখানে যায়, মাউসটিতে ক্লিক করা হলে সেখান থেকে লেখা শুরু হবে।
ঙ. Delete বোতামটি চাপ দিলে Cursor-এর পরের অংশ মোছা যাবে। Backspace বোতামে চাপ দিলে Cursor-এর আগের অংশ মোছা যাবে।

(কী-বোর্ডের Control, Alt বা Function কী গুলো দিয়ে আরও অনেক কিছু করা যায়, তবে আপাতত সেগুলোতে চাপ না দেওয়াই ভালো।)
ওপরের পাঁচটি বিষয় জানা থাকলেই ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে সবকিছু লিখে ফেলা সম্ভব। তুমি যদি অর্থবোধক (কিংবা অর্থবিহীন!) কিছু লিখে থাক, তাহলে তুমি ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহারে দ্বিতীয় ধাপে যেতে পার। সেটি হচ্ছে যেটুকু লিখেছ সেটা সংরক্ষণ করা, কম্পিউটারের ভাষায় Save করা।

প্রায় সব ওয়ার্ড প্রসেসরেই লেখালেখি সংরক্ষণ করার নিয়ম একই রকম। তোমরা যদি ওয়ার্ড প্রসেসরের ওপরের দিকে তাকাও তাহলে একটি রিবন দেখতে পাবে রিবনের বাম পাশে File মেনুতে ক্লিক করলে একটা মেনু খুলে যাবে। সেখানে অনেক কিছু লেখা থাকতে পারে। সেখান থেকে Save শব্দটি খুঁজে বের করে ক্লিক কর, তাহলে তুমি যেটা লিখেছ ওয়ার্ড প্রসেসর সেটা সংরক্ষণ বা কম্পিউটারের ভাষায় Save করতে শুরু করে দেবে। তুমি যেটা লিখেছ যখন সেটাকে Save করবে তখন সেটাকে বলা হবে একটা File। প্রত্যেকটা File কে একটা নাম দিয়ে Save করা হয়। তুমি যখন প্রথমবার এটা Save করছ তখনো সেটার নাম দেওয়া হয়নি তাই ওয়ার্ড প্রসেসর তোমাকে একটা নাম দেওয়ার কথা বলবে, তখন তোমাকে টাইপ করে নাম লিখে দিতে হবে। যদি তোমার স্কুলের ল্যাবের কম্পিউটারগুলো অনেকেই ব্যবহার করে তাহলে তোমার ফাইলটাকে আলাদা করে চেনার জন্যে প্রথমবার তোমার নিজের নামটাই লিখতে পার। ফাইলটা Save করার পর এটা কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ড্রাইভে সংরক্ষিত হয়ে যাবে।
এবার তুমি তোমার ওয়ার্ড প্রসেসরটি বন্ধ করে দাও। অনেকগুলো নিয়ম আছে, আপাতত আবার File মেনুতে ক্লিক করে সেখান থেকে Exit option বেছে নাও। মাউসের কার্সর সেখানে নিয়ে ক্লিক করলেই ওয়ার্ড প্রসেসর বন্ধ হয়ে যাবে।
তোমাকে অভিনন্দন! তুমি কম্পিউটারের ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করে প্রথম একটি ফাইল তৈরি করেছ।
এবার আমরা তৃতীয় ধাপে যেতে পারি। যে ফাইলটা তৈরি করে তোমার নাম দিয়ে Save করা হয়েছে, এখন সেটা আবার খুলে তার মাঝে আরও কিছু কাজ করা যাক। অনেকভাবে করা যায়, আপাতত আমরা আমাদের পরিচিত পদ্ধতিটাই ব্যবহার করি।

আগের মতো আবার ওয়ার্ড প্রসেসরের আইকন ডাবল ক্লিক করি। ওয়ার্ড প্রসেসর আগের মতো নতুন একটা File খুলে দেবে, কিন্তু আমরা সেখানে কিছু লিখব না। আমরা আবার ফাইল মেনু (File menu) বাটনে ক্লিক করব। ক্লিক করলে যে মেনু আসবে তা হতে Open সাব মেনুতে ক্লিক করব। ক্লিক করলে যে ফাইল তৈরি হয়েছে তার নামগুলো (বা আইকনগুলো) দেখাবে। তুমি তোমার নাম লেখা ফাইলটি খুঁজি বের কর, সেখানে দুইবার ক্লিক কর, দেখবে ফাইলটি খুলে গেছে। তুমি শেষবার যে যে কাজ সংরক্ষণ করেছ তার সবগুলো সেখানে লেখা আছে- কিছুই মুছে যায় নি বা হারিয়ে যায়নি।
তুমি এই ফাইলটাতে আরও কিছু লেখালেখি কর। যখন লেখালেখি শেষ হবে তখন ফাইলটা আবার Save করে রেখে দাও।
আর একবার অভিনন্দন। তুমি ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করার একেবারে প্রাথমিক বিষয়টা শিখে গেছ। এখন তোমার শুধু প্র্যাকটিস করতে হবে। তার সাথে মেনুগুলো পরীক্ষা করে দেখতে পার আর কী কী করা যায়।

কাজ
১. একটা ফাইল খুলে সেখানে "The quick brown fox jumps over a lazy dog" এই বাক্যটা লিখ। এই বাক্যে বৈশিষ্ট্যটা কী বলতে পারবে?
২. ওপরের বাক্যটা বারবার লিখতে থাক। দেখা যাক কত তাড়াতাড়ি কতবার লিখতে পার। নিজেদের ভেতর একটা প্রতিযোগিতা শুরু করে দাও, দেখ কে সবচেয়ে তাড়াতাড়ি লিখতে পারে। ওপরের বাক্যটাতে ইংরেজিতে প্রত্যেকটা অক্ষর আছে তাই কেউ যদি এটা লিখতে পারে তার মানে সে ইংরেজির প্রত্যেকটা অক্ষর লিখতে পারে।
Content added By

১. কোন সফটওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটারে লেখালেখির কাজ করা যায়?

ক. গ্রাফিক্স সফটওয়‍্যার
খ. ইউটিলিটি সফটওয়্যার
গ. ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার
ঘ. স্প্রেডশিট সফটওয়্যার

২. ওয়ার্ড প্রসেসরে 'এন্টার' (Enter) কোন কাজে ব্যবহার করা হয়?

ক. নির্বাচিত অংশ মুছে ফেলতে
খ. কার্সরকে এক লাইন নিচে নামাতে
গ. কার্সরের বাম দিকের অক্ষর মুছতে
ঘ. মেনু বা ডায়লগ বক্স বাতিল করতে

৩. রিবন কী?

ক. ডকুমেন্টের শিরোনাম নির্দেশনা
খ. চিত্রের মাধ্যমে সাজানো কমান্ড তালিকা
গ. কাজের ধরন অনুযায়ী কমান্ড তালিকা
ঘ. চিত্রের সাজানো সম্পাদনার কমান্ড তালিকা

8. File বাটন ব্যবহার করে পুরাতন ফাইল খুলতে কোথায় ক্লিক করতে হয়?

ক. New
খ. Open
গ. Save
ঘ. Text

৫. File বাটন ব্যবহার করে লিখিত অংশ সংরক্ষণ করতে কোথায় ক্লিক করতে হয়?

ক. New
খ. Close
গ. Save
ঘ. File

৬. File বাটন ব্যবহার করে ফাইল বন্ধ করতে কোথায় ক্লিক করতে হয়?

ক. Exit
খ. Save
গ. File
ঘ. Open

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৭ ও ৮ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও।
মিনা জানলেন, পৃথিবীর পাঁচটি দেশে নারীদের অবস্থা বেশি শোচনীয়। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, এ বিষয়ে গবেষণা করে প্রাপ্ত ফলাফল সেমিনারে উপস্থাপন করবেন। এছাড়াও তিনি খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময়ের চিন্তা করলেন।

৭. সেমিনারে উপস্থাপনের জন্য মিনা কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন?

ক. গ্রাফিক্স সফটওয়্যার
খ. ইউটিলিটি সফটওয়্যার
গ. ওয়ার্ড প্রসেসিং সফটওয়্যার
ঘ. কাস্টমাইজড সফটওয়্যার

৮. মিনা খ্যাতিমান ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে কোন মাধ্যমটি বেশি উপযোগী বলে বিবেচনা করতে পারেন?

ক. মোবাইল ফোন
খ. ল্যান্ডফোন
গ. ইন্টারনেট
ঘ. ফ্যাক্স

৯. ৮ নম্বর প্রশ্নের যে উত্তরটি তুমি পছন্দ করেছ সে উত্তরটি পছন্দ করার কারণ যুক্তিসহ ব্যাখ্যা কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...