ওয়েব ব্রাউজার: ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট দেখার জন্যে দুটো জিনিসের দরকার; (১) তোমার কম্পিউটারের সাথে ইন্টারনেটের সংযোগ (২) ওয়েব খুঁজে বের করে তার থেকে তথ্য আনতে পারে, সে রকম একটি বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।
ইন্টারনেটকে অনেকটা কাল্পনিক জগতের মতো মনে কর, ওয়েবসাইটগুলো যেন সেই কাল্পনিক জগতের তথ্যভাণ্ডারের ঠিকানা! কেউ যদি ওয়েবসাইটগুলো দেখে তাহলে তার মনে হবে, সেটা যেন কাল্পনিক জগতে ঘুরে বেড়ানোর মতো। ইংরেজিতে যেটাকে বলে ব্রাউজিং। তাই ওয়েবসাইট দেখার জন্য যে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে, সেটার নাম দেওয়া হয়েছে ব্রাউজার। এই মুহূর্তে যে ব্রাউজারগুলো বেশি ব্যবহৃত হয় সে গুলো হচ্ছে- মজিলা ফায়ারফক্স, গুগল ক্রোম, অপেরা, মাইক্রোসফট এজ, সাফারি ইত্যাদি।

ওয়েবসাইটে ঘুরে বেড়ানোর জন্যে বা কম্পিউটারের ভাষায় ওয়েব ব্রাউজ করার জন্যে একটা ব্রাউজার ব্যবহার করার কাজটি অসম্ভব সোজা। তোমাকে কেবল ব্রাউজার আইকনটিকে দুবার ক্লিক করে ওপেন করতে হবে। সেখানে আগে থেকে কোনো ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া থাকলে সেই ওয়েবসাইটটি শুরুতে আপনাআপনি খুলে যাবে। এখন তুমি যে ওয়েবসাইটে যেতে চাও সেটা নির্দিষ্ট জায়গায় লিখতে হবে। প্রত্যেকটা ব্রাউজারের ওয়েবসাইটের ঠিকানা লেখার জন্য ওপরে একটা জায়গা আলাদা করা থাকে (সেটাকে বলে এড্রেস বার)। সেখানে লেখা শেষ হলে Enter বাটন চাপ দিতে হবে-আর কিছুই না! তোমার ইন্টারনেট সংযোগ কত ভালো তার ওপর নির্ভর করে কত তাড়াতাড়ি ওয়েবসাইট তোমার চোখের সামনে খুলে যাবে।
তুমি যদি প্রথমবার একটা ব্রাউজার ব্যবহার কর তখন তুমি হয়ত ওয়েবসাইটের ঠিকানা জান না বলে কোথাও যেতে পারবে না। তাই তোমাকে কয়েকটা ওয়েবসাইটের ঠিকানা দিয়ে দেওয়া হলো, তুমি সেগুলো টাইপ করে দেখ:
বাংলাদেশ জাতীয় ওয়েব পোর্টাল: www.bangladesh.gov.bd
বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান দেখার জন্য: www.parjatan.gov.bd
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর দেখার জন্য: www.liberationwarmuseum.org
নাসার ওয়েবসাইট দেখার জন্য: www.nasa.gov
উপগ্রহ থেকে কোন এলাকা কেমন দেখায় তা জানার জন্য: maps.google.com
তবে মনে রেখো, এই ওয়েবসাইটগুলোর ঠিকানা টাইপ করলে তুমি ওয়েবসাইটে হাজির হবে। কিন্তু ওয়েবসাইটে তথ্যগুলো কিন্তু নানা স্তরে সাজানো থাকে-তোমাকে সেগুলো খুঁজে নিতে হবে!
| কাজ ওয়েবসাইট থেকে বাংলাদেশের দশটি দর্শনীয় স্থানের নাম খুঁজে বের কর, নাসার ওয়েবসাইট থেকে সাতটি গ্রহের হবি খুঁজে বের কর। তোমার উপজেলা/থানার ম্যাপটি খুঁজে বের কর। |
ইন্টারনেটে যেহেতু অসংখ্য ওয়েবসাইট আছে এবং হতে পারে কিছু কিছু ওয়েবসাইট তোমার খুব প্রিয় হয়ে যাবে। তুমি হয়ত মাঝে মাঝেই সেই ওয়েবসাইটে যেতে চাইবে-প্রত্যেকবারই যেন ওয়েবসাইটের ঠিকানা লিখতে না হয় সেজন্যে প্রিয় ওয়েবসাইটের ঠিকানা ব্রাউজারকে শিখিয়ে দেওয়া যায়। ব্রাউজার সেগুলো মনে রাখবে এবং তুমি চাইলেই তোমাকে সেখানে নিয়ে যাবে।
সার্চ ইঞ্জিন: তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, ইন্টারনেট একটা বিশাল ব্যাপার, সেখানে আছে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার এবং হাজার হাজার ওয়েবসাইট। সব ওয়েবসাইট যে ভালো তা নয়। অনেক ওয়েবসাইট তৈরি হয়েছে অবহেলায়, অনেক ওয়েবসাইট হয়তো তৈরি হয়েছে খারাপ উদ্দেশ্যে। যেহেতু ইন্টারনেটের কোনো মালিক নেই, এটি চলছে নিজের মতো করে। তাই তুমি যদি ইন্টারনেটে নিজে নিজে তথ্য খুঁজতে যাও তুমি কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্ত হয়ে যাবে। মনে হবে তুমি বুঝি গোলক ধাঁধার মাঝে আটকে গেছ! তাই যখন কোনো তথ্য খোঁজার দরকার হয় তখন আমাদের বিশেষ এক ধরনের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের সাহায্য নিতে হয়। এই সফটওয়্যারগুলোর নাম সার্চ ইঞ্জিন। এগুলো তোমার হয়ে তোমার যেটা দরকার সেটা খুঁজে দেবে। এই মুহূর্তে পৃথিবীর জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনগুলো হচ্ছে
গুগল
www.google.com
ইয়াহু
www.yahoo.com
বিং
www.bing.com
এগুলো ব্যবহার করাও খুব সোজা। প্রথমে ব্রাউজারটি ওপেন করে সেটার এড্রেসবারে যে সার্চ ইঞ্জিনটি ব্যবহার করতে চাও তার ঠিকানাটি লিখ। তারপর এন্টার চাপ দাও, সাথে সাথে সার্চ ইঞ্জিন চলে আসবে। সব সার্চ ইঞ্জিনেই তুমি যেটা খুঁজতে চাইছ সেটা লেখার জন্যে একটা জায়গা থাকে। তোমার সেখানে কাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তুর নামটি লিখতে হবে। তারপর এন্টার চাপ দিলেই যে যে ওয়েবসাইটে তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি থাকতে পারে তার একটা বিশাল তালিকা চলে আসবে। এখন তুমি তালিকার একটি একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখ আসলেই তুমি তোমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি পাও কি না। যদি না পাও, তাহলে আরেকটা ওয়েবসাইটে খুঁজে দেখ!


কাজ
কোনো একটি সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তালিকা বের করে তোমার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো দেখ। সেটার ওপর ভিত্তি করে একটা প্রতিবেদন লিখ।
|