তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সারা পৃথিবীতে যে বিশাল পরিবর্তন শুরু হয়েছে তার পেছনে যে যন্ত্রটি সবচেয়ে বড়ো ভূমিকা রেখেছে সেটি হচ্ছে কম্পিউটার। আমরা আগেই বলেছি, কম্পিউটার বললেই একসময় আমাদের সামনে টেলিভিশন স্ক্রিনের মতো একটা মনিটর, কী-বোর্ড আর বাক্সের মতো একটা সিপিইউ এর ছবি ভেসে ওঠে। কারণ আমরা সবাই সেটা দেখে সবচেয়ে বেশি অভ্যস্ত। আজকাল কম্পিউটার বললেই বড়ো একটা খোলা বইয়ের মতো ল্যাপটপের ছবি ভেসে ওঠে; কিন্তু এ ছাড়াও আরও অনেক রকম কম্পিউটার আছে ছবিতে যা দেখানো হলো ।

কম্পিউটার যন্ত্রটি কেন সারা পৃথিবীতে এত বড়ো পরিবর্তন আনতে পারে আমরা ইতোমধ্যে সেটা তোমাদের বলেছি। যন্ত্রপাতিগুলো তৈরি করা হয় একটা নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য। ক্রু ড্রাইভার দিয়ে শুধু স্ক্রু খোলা যায়। গাড়ি দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। আমরা গাড়ি দিয়ে ক্রু খুলতে পারব না কিংবা স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে না। কিন্তু কম্পিউটার অন্য রকম যন্ত্র, সেটা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অসংখ্য কাজ করা যায়। কম্পিউটার দিয়ে একদিকে যেরকম জটিল হিসাব নিকাশ করা যায়, অন্যদিকে সেটা ব্যবহার করে ছবিও আঁকা যায়। কাজেই অনেক কাজ করার উপযোগী একটা যন্ত্র যে পৃথিবীতে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলতে পারে তাতে অবাক হওয়ার কী আছে?
তোমরা সবাই নিশ্চয়ই জানতে চাও কম্পিউটার কেমন করে কাজ করে। তোমাদের অনেকের হয়ত মনে হতে পারে যে, কম্পিউটারের কাজ করার পদ্ধতিটা খুবই জটিল। কিন্তু আসলে সেটি সত্যি নয়। কম্পিউটারের কাজ করার মূল পদ্ধতিটা খুবই সোজা। নিচে তোমাদের একটা কম্পিউটারের কাজ করার ছবি দেখানো হলো ঃ

ছবিটিতে তোমরা দেখতে পাচ্ছ এর পাঁচটি মূল অংশ রয়েছে। যথা-ইনপুট ইউনিট, আউটপুট ইউনিট, মেমরি, প্রসেসর ও কন্ট্রোল ইউনিট। যখন ইনপুট ইউনিট দিয়ে কম্পিউটারের ভেতরে উপাত্ত বা ডেটা দাও, তখন কম্পিউটারের মেমরিতে সেগুলো জমা রাখা হয়। প্রসেসর মেমরি থেকে উপাত্ত নিয়ে সেগুলো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকরণ করে ফলাফল মেমরিতে জমা রাখে। কাজ শেষ হলে আউটপুট ইউনিট দিয়ে তোমাকে তথ্য বা ইনফরশেন ফিরিয়ে দেয় এবং কন্ট্রোল ইউনিট পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে।
তোমরা যারা কম্পিউটার দেখেছ বা ব্যবহার করেছ তারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ কম্পিউটারের কী-বোর্ড কিংবা মাউস হচ্ছে ইনপুট দেওয়ার মাধ্যম, এটা দিয়ে আমরা কম্পিউটারের ভেতরে উপাত্ত পাঠাই। কম্পিউটার কাজ শেষ হলে তার ফলাফলগুলো মনিটরে দেখায় কিংবা প্রিন্টারে প্রিন্ট করে দেয়। কাজেই এগুলো হচ্ছে আউটপুট পাঠানোর মাধ্যম। কম্পিউটারের মেমোরি কিংবা প্রসেসর আমরা বাইরে থেকে দেখতে পাই না, সেগুলো ভেতরে থাকে।
আমরা ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইস হিসেবে এখানে কী-বোর্ড, মাউস, মনিটর এবং প্রিন্টারের কথা বলেছি। তোমরা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ এগুলো ছাড়াও আরও অনেক ধরনের যন্ত্রপাতি থাকতে পারে, পরের পাঠগুলোতে আমরা সেই বিষয়গুলোর কথা বলব।

কম্পিউটার কীভাবে কাজ করে সেটা আমরা বলেছি। কিন্তু কীভাবে একই কম্পিউটার কখনো ছবি আঁকার কাজে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো গান শোনার কাজে ব্যবহৃত হয়, কিংবা কখনো জটিল হিসাবনিকাশ করার জন্য ব্যবহৃত হয়, সেটি এখনো বলিনি। সেই বিষয়টির কথা যদি না জানো, তাহলে কম্পিউটার সম্পর্কে তোমার জ্ঞান অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
একটু আগে আমরা ইনপুট, আউটপুট, মেমোরি আর প্রসেসরের কথা বলেছি, সেগুলো হচ্ছে কোনো না কোনো যন্ত্রপাতি। কম্পিউটারের যন্ত্রপাতির এই অংশগুলোকে বলে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার। কম্পিউটার দিয়ে কাজ করার সময় তার মেমোরিতে নির্দিষ্ট ধরনের উপাত্ত রাখতে হয়, সেগুলো প্রসেসরে গিয়ে প্রসেসরকে দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কাজ করাতে পারে সেইগুলোকে বলে সফটওয়্যার। তাই যখন একটা কম্পিউটার দিয়ে জটিল হিসাবনিকাশ করা হয়, তখন হিসাবনিকাশ করার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়, আবার যখন ছবি আঁকতে হয় তখন ছবি আঁকার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়। মানুষের বুদ্ধিমত্তা পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ এবং শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার থেকেও বেশি ক্ষমতাশালী। তাই কখনোই একজন মানুষের মস্তিষ্ককে কম্পিউটারের সাথে তুলনা করা ঠিক নয়-তারপরও হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের উদাহরণ দেওয়ার জন্যে সহজ করে এভাবে বলা যায়-একটা শিশু যখন জন্ম নেয় তখন সে নিজে থেকে কিছুই করতে পারে না; তার কারণ তার মস্তিষ্কটাকে বলা যায় সফটওয়্যারবিহীন হার্ডওয়্যার। শিশুটি যখন তোমাদের বয়সী হয় তখন সে তোমাদের মতো অনেক কাজ করতে পারে- বলা যেতে পারে তার হার্ডওয়্যারে অনেকগুলো সফটওয়্যার এখন ঢোকানো হয়েছে-তাই সে সেই কাজগুলো করতে পারছে।
আবার তোমাদের মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মানুষের মস্তিষ্ককে কম্পিউটারের সাথে তুলনা করা হলে মস্তিষ্ককে অপমান করা হয়। মানুষের মস্তিষ্ক কিন্তু পৃথিবীর চমকপ্রদ এবং অসাধারণ একটি বিষয়।
কাজ ১. তোমরা চারজন করে একটি দল তৈরি কর। একজন ইনপুট ডিভাইসের দায়িত্ব পালন করবে একজন আউটপুট ডিভাইসের দায়িত্ব পালন করবে। অন্য দুজনের একজন হবে মেমোরি, অন্যজন হবে প্রসেসর। তোমাদের শিক্ষক দুটি সংখ্যা লিখে ইনপুট ডিভাইসকে দেবেন। সে মেমোরিতে সেটি জানাবে। প্রসেসর মেমোরি থেকে সেটি জেনে নিয়ে সংখ্যা দুটো যোগ করে আবার মেমোরিকে বলবে। আউটপুট ডিভাইস মেমোরি থেকে সেটি জেনে নিয়ে শিক্ষককে ফেরত দেবে। বিভিন্ন দল একই সাথে শুরু করে দেখো কারা দ্রুত করতে পারে। |
Read more