দর্শনীয় স্থান ভ্রমণের সুফল অনেক। দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করলে ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। মন উদার হয়। দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। সামাজিক সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় অনুভূতির বিকাশ ঘটে। দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব ধারণা সৃষ্টি হয়। দেশের সম্পদ ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রেরণা জাগে। তাই সময় পেলে মাতা-পিতা, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন এবং শিক্ষকের সঙ্গে দর্শনীয় স্থানসমূহ ভ্রমণ করা উচিত।
দর্শনীয় স্থানসমূহ জাতীয় সম্পদ। এগুলো দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখে। বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরে। পর্যটনশিল্প হিসেবে রাজস্ব আয় করে। তাই দর্শনীয় স্থানসমূহের গুরুত্ব অপরিসীম। এগুলো সংরক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের সবার।
বিভিন্ন কারণে দর্শনীয় স্থানসমূহ ধ্বংস বা নষ্ট হতে পারে। যেমন: সংরক্ষণের অভাব, অযত্ন, নদীভাঙন, বন্যা, ঝড়-বৃষ্টি, তুফান, পশু-পাখির মল ত্যাগ, কীটপতঙ্গের উপদ্রব, অপ্রয়োজনীয় লতা-পাতা, গাছ পালা জন্মে বা উদ্ভিদজাত সংক্রমণ, বায়ুদূষণ, অজ্ঞ মানুষের অহেতুক কৌতূহল, লুটেরাদের দৌরাত্ম্য, যুদ্ধবিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতি কারণে দর্শনীয় স্থানগুলো ধ্বংস বা নষ্ট হতে পারে। তাই ওপরে বর্ণিত কারণে যাতে দর্শনীয় স্থানগুলোর ক্ষতি না হয়, সে জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। দর্শনীয় স্থানের চারদিক প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। দেখাশোনার ব্যবস্থা করতে হবে। সব সময় পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এ-জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণ করার জন্য সর্ব-সাধারণকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের অগ্রণী ভূমিকা থাকা দরকার।
অনুশীলনমূলক কাজ |