রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। রাষ্ট্র আছে বলেই সেখানে নাগরিক আছে। আবার নাগরিক ছাড়া রাষ্ট্রের অস্তিত্ব চিন্তা করা যায় না। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে আন্তরিক হলে সে সুনাগরিক বলে বিবেচিত হয়। তার দ্বারা দেশের অধিক উন্নয়ন সাধন হয়। একজন সুনাগরিক বুদ্ধিমান, বিবেকবান, আত্মসংযমী এবং নিবেদিত হয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা রাষ্ট্রের কাছ থেকে নানা অধিকার ভোগ করি। বিনিময়ে নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমাদেরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। যেমন- রাষ্ট্র প্রদত্ত শিক্ষা লাভ, রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, আইন মেনে চলা, নিয়মিত কর প্রদান করা, ভোট প্রদান করা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা ও সদ্ব্যবহার করা ইত্যাদি। দেশের উন্নয়নের জন্য আমাদের এসব দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে।
আধুনিক রাষ্ট্রে নাগরিকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সকল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মালিক। কেননা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণ ভোট দিয়ে একটি দলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকার গঠনে সহায়তা করে। সরকার যদি দেশের জন্য কল্যাণকর নয় এমন কোনো কাজ করে তাহলে জনগণই পরবর্তী সময়ে ঐ দলকে আর ভোট দেয় না। রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নসহ সবকিছুই তাই নির্ভর করে নাগরিকের সততা, দক্ষতা তথা নাগরিক হিসাবে যথাযথ ভূমিকা পালনের উপর। দেশের উন্নয়নের দায়িত্ব কেবল সরকারের একার নয়। নাগরিকদেরও নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। তাহলেই দেশ দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে।
| কাজ: নাগরিক হিসাবে তুমি দেশের উন্নয়নে কী ভূমিকা পালন করবে তার একটি তালিকা প্রস্তুত কর। |