বৌদ্ধরা নানা রকম আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। যেমন বুদ্ধপূর্ণিমা, আষাঢ়ী পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা, কঠিন চীবরদান ইত্যাদি। বৌদ্ধবিহার এবং পারিবারিক অঙ্গনে এসব আচার-অনুষ্ঠান উদ্যাপন করা হয়। ধর্মীয় বিধি-বিধানমতে আচরণীয় ও পালনীয় অনুষ্ঠানসমূহকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বলে। কিছু কিছু বৌদ্ধ আচার- অনুষ্ঠান ধর্মীয় ভাবধারায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হয়। সেই আচার-অনুষ্ঠানগুলো ধর্মীয় উৎসব নামে পরিচিত। বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় বছরের বিভিন্ন সময়ে এরূপ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এ অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। এ অধ্যায়ে বৌদ্ধদের কয়েকটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে পড়ব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- বৌদ্ধ ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিতে পারব;
- বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সামাজিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
চিন্ময় মিলনকে একটি অনুষ্ঠানে মধু দান করে। চিন্ময় বিশ্বাস করে এতে তাদের মধ্যকার সম্পর্ক আরও মধুর হবে। চিন্ময় পুনর্জন্ম ও নির্বাণ লাভেও বিশ্বাস করে।
বৌদ্ধ আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবসমূহ ধর্মীয় ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে সংগতি রেখেই অনুষ্ঠিত হয়। যে অনুষ্ঠানগুলো চান্দ্রবছরের নিয়মে অনুষ্ঠিত হয়, সেগুলো ধর্মীয় তিথি বা পর্ব। যেমন: বুদ্ধপূর্ণিমা, আষাঢ়ী পূর্ণিমা, মধু পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা, মাঘী পূর্ণিমা ইত্যাদি। এছাড়া যে অনুষ্ঠানগুলো বছরের যেকোনো সময় করা যায়, সেগুলোকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বলা হয়। যেমন: সঙ্ঘদান, অষ্টপরিষ্কারদান, প্রব্রজ্যা, উপসম্পদা অনুষ্ঠান ইত্যাদি। আবার 'কঠিন চীবরদান' অনুষ্ঠান করতে হয় বছরের নির্দিষ্ট মাসে। এটিও একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানগুলো পালনের ব্যাপকতায় উৎসবে পরিণত হয়। বর্তমানকালে প্রায় সব অনুষ্ঠানই উৎসবের আকার ধারণ করে।
বৌদ্ধদের বেশির ভাগ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। তবে অমাবস্যায় কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনে বাধা নেই। বৌদ্ধধর্ম মতে প্রতিটি দিনই শুভ। অশুভ বলে কোনো দিন নেই। নিজের কর্মের মধ্যেই শুভ-অশুভ নির্ভর করে। এমন কোনো সময় নেই, যে সময় ভালো কাজ করলে কোনো সুফল পাওয়া যায় না। ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা অত্যন্ত ভালো কাজ। যেকোনো দিন ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পাদন করা যায়। তবে কিছু আচার-অনুষ্ঠান নির্দিষ্ট দিনেই সম্পাদন করতে হয়। পবিত্র মন নিয়ে এসব দিনে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা সকলের উচিত। এতে মন প্রসন্ন হয়। চিত্ত শুদ্ধ হয়। সৎ কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। নৈতিকতা জাগ্রত হয় এবং জীবন সুখের হয়।
বৌদ্ধধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো প্রধানত পূর্ণিমাকেন্দ্রিক। প্রতিটি পূর্ণিমার সঙ্গে গৌতম বুদ্ধের জীবনের কোনো না কোনো স্মরণীয় ঘটনা জড়িত রয়েছে। বুদ্ধের জীবনাদর্শ স্মরণ ও অনুশীলনের জন্য বিবিধ ধর্মীয় আচার -অনুষ্ঠান ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। মূলত, এসব আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্মরণীয় ঘটনাগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। যুগ যুগ ধরে এই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলো বৌদ্ধরা পালন করে আসছে। প্রতিটি পূর্ণিমায় বৌদ্ধ নর-নারী সকলে বিহারে সমবেত হয়। সম্মিলিতভাবে বুদ্ধপূজা ও উপাসনা করে। পঞ্চশীল ও উপোসথশীল গ্রহণ করে। দুপুরে ধ্যান সমাধি চর্চা করে। বিকালে ভিক্ষুদের কাছ থেকে ধর্মকথা শোনে। সন্ধ্যায় প্রদীপ পূজা ও পানীয় পূজা করে। অনেক বৌদ্ধবিহারে বিকালে ধর্মসভা ও সন্ধ্যায় বুদ্ধকীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। রাতে নির্মল আনন্দচিত্তে সকলে বাড়ি ফিরে যায়।
এই ধর্মানুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধরা একত্র হয়। তাই এসব অনুষ্ঠানের সামাজিক গুরুত্ব রয়েছে। এ অনুষ্ঠানগুলো একরকম সামাজিক মিলনমেলা। এগুলো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালন করতে হয়। এ অনুষ্ঠানসমূহে জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনা করা হয়।
বৌদ্ধদের কিছু অনুষ্ঠান আছে পরিবারকে কেন্দ্র করে। সেগুলোকে পারিবারিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানও বলা যায়। যেমন: শ্রমণের প্রব্রজ্যা, মৃতদেহ সৎকার, সূত্র বা পরিত্রাণ পাঠ প্রভৃতি। এসব অনুষ্ঠানে আত্মীয় স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও এলাকার লোকজন সমবেত হয়। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পারস্পরিক ও সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়। তাই এ অনুষ্ঠানগুলোরও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব যথাযথ মর্যাদার সাথে প্রতিপালন করা হয়। স্ব স্ব ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের পাশাপাশি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসসমূহ উদযাপন করা প্রয়োজন।
অনুশীলনমূলক কাজ |
ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো সর্বজনীন। সম্মিলিতভাবেই এসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হয়। ফলে এসব অনুষ্ঠানে যোগদানের সুফল অনেক। যেমন: ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগদানের ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। ধর্মকথা শ্রবণ করে অস্থির মন শান্ত, প্রসন্ন ও উদার হয়। ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত হয়। কঠিন ধর্মবাণী বুঝতে সহজ হয়। পুণ্য অর্জিত হয়। দান চিত্ত উদয় হয়। নৈতিক চরিত্র গঠিত হয়। দয়াপরায়ণ ও পরোপকার করতে উৎসাহ সৃষ্টি হয়।
এখন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগদানের সুফল সম্পর্কে একটি কাহিনি তুলে ধরব। থেরী উত্তমা পূর্বজন্মে এক ধনশালীর গৃহপরিচারিকা ছিলেন। সেই ধনশালী প্রভু সব সময় নানা ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। একদিন উত্তমাও অত্যন্ত আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে প্রভুর ধর্মানুষ্ঠানে যোগদান করেন। তিনি নিজের ইচ্ছায় শ্রদ্ধাচিত্তে অনুষ্ঠানের সকল কাজ সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি মনে মনে কামনা করেন, ভবিষ্যতে তিনিও যেন একজন খ্যাতিসম্পন্ন দাতা হতে পারেন। এই সুকৃতি ও শুভ কামনার ফলে গৌতম বুদ্ধের সময় তিনি শ্রাবস্তীনগরের এক ধনীর কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রচুর দান করতেন এবং মহান দাতা হিসেবে সুখ্যাতি লাভ করেন। তাই সকলের একাগ্রচিত্তে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা উচিত।
বুদ্ধের সময় শ্রাবস্তীর একটি এলাকার অধিবাসীরা একটি সর্বজনীন ধর্মোৎসব আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। মহা উৎসাহে সকলে কাজে লেগে গেল। চতুর্দিকে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হলো। তথাগত বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের নিমন্ত্রণ জানানো হলো। অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল অন্ন-পানীয় দিয়ে বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বুদ্ধের দেশনা শ্রবণ করা। যথাসময়ে সকল আয়োজন সম্পন্ন হলো। অনুষ্ঠানের দিন বুদ্ধ তাঁর শিষ্যসহ অনুষ্ঠান মণ্ডপে উপস্থিত হলেন। সকলে মিলে তাঁদের অন্ন-পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করল। নিজেরাও দুপুরের খাবার খেল। তারপর শুরু হলো ধর্মালোচনা সভা। এসময় আয়োজকদের উৎসাহে ভাটা পড়ে গেল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাড়ি ফিরে গেল। কেউবা গল্পগুজব আরম্ভ করল। কিছু লোক ঘুমিয়ে পড়ল । কিছু লোক অন্যমনস্ক ছিল। শ্রদ্ধাচিত্তে ধর্মালোচনায় মনোনিবেশ করল মাত্র কয়েকজন। বুদ্ধশিষ্যরা বিষয়টি লক্ষ করলেন। তাঁরা তথাগত বুদ্ধকে জিজ্ঞাসা করলেন, এত বড় ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন করে এলাকাবাসী নিজেরা কেন ধর্ম শ্রবণে অপারগ হলো? উত্তরে বুদ্ধ বললেন, 'ধর্মাচরণের আনন্দ সকলে লাভ করতে পারে না। ধর্মের রসবোধ উপলব্ধিতে জ্ঞানের প্রয়োজন হয়। গভীর সমুদ্র যেমন সকলে পাড়ি দিতে পারে না, তেমনি ধর্মপথ পাড়ি দিতে পারে অল্প কয়জন ব্যক্তি মাত্র। যাঁরা একাগ্রচিত্ত ও সচেতন, তাঁরাই পারে জীবনে শান্তি সমৃদ্ধি অর্জন করতে।' তাই সর্বদা শ্রদ্ধাচিত্তে একাগ্রতার সাথে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগদান করা উচিত।
অনুশীলনমূলক কাজ |
বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিই বুদ্ধপূর্ণিমা নামে খ্যাত। এ দিনে সিদ্ধার্থ গৌতম হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত শাক্যরাজ্যে রাজপুত্র রূপে জন্মগ্রহণ করেন। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তিনি একই তিথিতে বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষমূলে বোধিজ্ঞান বা বুদ্ধত্ব লাভ করেন। আশি বছর বয়সে একই পূর্ণিমা তিথিতেই কুশীনগরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় ভাষায় এটিকে মহাপরিনির্বাণ বলে। গৌতম বুদ্ধের মহাজীবনের এই তিনটি মহান ঘটনা বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হয়েছিল। তাই বৈশাখী পূর্ণিমাকে বুদ্ধপূর্ণিমাও বলা হয়। বৌদ্ধদের কাছে এ পূর্ণিমার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জাঁকজমকের সাথে বৌদ্ধরা বুদ্ধপূর্ণিমা পালন করে থাকে।

সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সূত্র পাঠ ও বুদ্ধকীর্তনের মাধ্যমে প্রভাতফেরি করে বুদ্ধপূর্ণিমা উৎসবের সূচনা হয়।
আগের দিন বৌদ্ধবিহারগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নানা রকম ফুল, পাতা ও রঙিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়। এভাবে অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। পূর্ণিমার দিন সকালে বুদ্ধপূজা, সমবেত উপাসনায়, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করা হয়। দুপুর বারোটার আগে ভিক্ষুসঙ্ঘকে দুপুরের আহার দান করা হয়, যা পিন্ডদান নামে পরিচিত। দায়ক-দায়িকরাও দুপুরের আহার সম্পন্ন করে বৌদ্ধবিহারে ধ্যান সমাধি করেন। বিকালে ধর্মসভা হয়। এতে গৌতম বুদ্ধের জীবন, ধর্ম, দর্শন বিষয়ে আলোচনা হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ পূজা, বুদ্ধকীর্তন হয়। আজকাল অনেক বৌদ্ধবিহারে এ উপলক্ষে রক্তদানের ব্যবস্থা করা হয়। অনেকে মরণোত্তর চোখ দান করার প্রতিশ্রুতি দেন, যা অন্ধের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে। সন্ধ্যায় অনেক বৌদ্ধবিহারে ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সমস্ত অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মের লোকেরাও অংশগ্রহণ করে। বিশেষ করে ধর্মালোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরা অংশগ্রহণ করে। এতে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি গড়ে ওঠে, পরস্পরের প্রতি মৈত্রীভাব সৃষ্টি হয়।
বুদ্ধপূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত বুদ্ধের জীবনের তিনটি প্রধান ঘটনা প্রকৃতির সাথে সম্পৃক্ত। এ ঘটনাগুলো রাজপ্রাসাদের বাইরে প্রকৃতির মনোরম পরিবেশে, উন্মুক্ত আকাশের নিচে ঘটেছিল। যেমন: জন্ম হয়েছিল লুম্বিনী কাননে। এটি বর্তমানে নেপালের অন্তর্গত। গাছপালা তরুলতায় ভরা ছিল লুম্বিনী কানন। বুদ্ধত্ব লাভ হয়েছিল গয়ার উন্মুক্ত বোধিবৃক্ষমূলে। এটি বর্তমানে ভারতের বিহার প্রদেশের অন্তর্গত গয়া জেলায় অবস্থিত।
মহাপরিনির্বাণ হয়েছিল হিরণ্যবতী নদীর তীরস্থ কুশিনগরের জোড়া শালবৃক্ষের মূলে। তাই প্রকৃতির প্রতিও মৈত্রী প্রদর্শন করতে হবে। বিনা প্রয়োজনে গাছের পাতা ছেঁড়া ও ডালপালা কাটা উচিত নয়। বিদ্যালয় ও বাড়ির আঙিনার আশেপাশে গাছের পরিচর্যা করা সকলের উচিত। প্রকৃতির সাথে আমাদের জীবনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আন্তর্জাতিকভাবে এ দিবসটি 'বৈশাখ ডে' নামে উদ্যাপিত হয়।
অনুশীলনমূলক কাজ |
আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিই আষাঢ়ী পূর্ণিমা নামে খ্যাত। গৌতম বুদ্ধের জীবনের তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনা আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হয়েছিল। এগুলো হলো মাতৃগর্ভে প্রতিসন্ধি গ্রহণ, গৃহত্যাগ এবং প্রথম ধর্ম প্রচার।
কথিত আছে যে, এ শুভ পূর্ণিমা তিথির রাতে শাক্যরাজ্যের রানি মায়াদেবী একটি অপূর্ব স্বপ্ন দেখেন। স্বপ্নে তিনি দেখেন যে, দেবতারা তাঁকে একটি মনোরম পালঙ্কে করে অনোবতপ্ত হ্রদের তীরে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরই একটি সাদা হাতি ডান দিক দিয়ে তাঁর শরীরে একটি শ্বেতপদ্ম প্রবেশ করিয়ে দেয়। পরদিন রানি রাজা শুদ্ধোদনকে তাঁর সুন্দর স্বপ্নটি বর্ণনা করেন। রাজা শুদ্ধোদন জ্যোতিষীদের ডেকে স্বপ্নের কারণ জানতে চান। জ্যোতিষীরা বলেন, মহারাজ শীঘ্রই পুত্রসন্তান লাভ করতে যাচ্ছেন এবং এই ভাবী পুত্রসন্তানই হবেন মহাজ্ঞানী বুদ্ধ। এ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতেই সিদ্ধার্থ মাতৃজঠরে প্রতিসন্ধি গ্রহণ করেন।
এমনই এক আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে সংসারের সকল ভোগ-বিলাস ত্যাগ করে দুঃখমুক্তির পথ অন্বেষণে তিনি গৃহত্যাগ করেন। এ সময় সিদ্ধার্থ গৌতমের বয়স হয়েছিল উনত্রিশ বছর। রাজত্ব ও স্ত্রীপুত্রের মায়া ত্যাগ করে তিনি রাজপ্রাসাদ ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। এ ঘটনাটি 'মহাভিনিষ্ক্রমণ' নামে বৌদ্ধ সাহিত্যে পরিচিত। মহাভিনিষ্ক্রমণ বলতে বুদ্ধের গৃহত্যাগকে বোঝায়।
বুদ্ধত্ব লাভের পর আরো এক আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে তিনি সারনাথে পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের মাঝে প্রথম ধর্ম প্রচার করেন। পঞ্চবর্গীয় শিষ্যরা হলেন কোণ্ডণ্য, বঙ্গ, ভদ্রিয়, মহানাম ও অশ্বজিত। বুদ্ধের প্রচারিত প্রথম ধর্মবাণীকে বলা হয় 'ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র'। জীবজগতের কল্যাণে তিনি আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে এই সূত্র দেশনা করেছিলেন। বুদ্ধের মহৎ জীবনের স্মৃতি বিজড়িত এই আষাঢ়ী পূর্ণিমা বৌদ্ধদের কাছে বিশেষ স্মরণীয় ও বরণীয় তিথি।
এ পূর্ণিমার সাথে আরো কিছু ধর্মীয় বিষয় সংযুক্ত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১) আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতেই বুদ্ধ ভিক্ষুদের ত্রৈমাসিক বর্ষাবাসব্রত পালনের নির্দেশ দেন। তখন থেকে ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে কার্তিক পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করে থাকেন। এ সময় তাঁরা ধর্ম-বিনয় অধ্যয়ন এবং ধ্যানচর্চায় রত থাকেন। সে সময় জরুরি কারণ ছাড়া কোনো ভিক্ষু নিজ বিহারের বাইরে রাত্রিযাপন করতে পারেন না। এটি ভিক্ষুদের বিনয় বিধান। ২) আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতেই বুদ্ধ পরলোকগত মাতা মায়াদেবীকে ধর্ম দেশনার জন্য তাবতিংস স্বর্গে গমন করেন। সেখানে তিনি তিন মাস অবস্থান করেন এবং মাতা মায়াদেবী ও দেবতাদের নিকট অভিধর্ম দেশনা করেন। ৩) আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতেই তিনি যমক ঋদ্ধি প্রদর্শন করেন।

বুদ্ধপূর্ণিমার মতো, এ পূর্ণিমা তিথিতেও উপাসক উপাসিকাগণ বিহারে সমবেত হন। ভিক্ষুদের কাছ থেকে তাঁরা পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করেন। যাঁরা অষ্টশীল গ্রহণ করেন, তাঁরা ঐ দিন উপোসথ পালন করেন। এ সময় ভিক্ষুরা উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশে ধর্ম দেশনা করেন। এতে গৃহীদের মধ্যে ধর্মভাব বৃদ্ধি পায়। এছাড়া একসাথে সম্মিলিত হয়ে ধর্ম শ্রবণ ও ধর্ম চর্চা করার কারণে নিজেদের মধ্যেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে এবং পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়।
ভোর থেকেই আষাঢ়ী পূর্ণিমার উৎসব শুরু হয়। দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে বৌদ্ধবিহার। সন্ধ্যায় প্রদীপ পূজা, বুদ্ধকীর্তন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় সমগ্র কর্মসূচি। অনেকে এ তিথিকে উপলক্ষ করে নিজ বাড়িতে বসে রাত পর্যন্ত বিদর্শন ভাবনা করেন। আবার অনেকে তিন দিন বা এক সপ্তাহের জন্য ধ্যান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। এভাবে আষাঢ়ী পূর্ণিমায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
অনুশীলনমূলক কাজ |
দান, সেবা ও ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল মধুপূর্ণিমা তিথি। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিকেই বলা হয় মধুপূর্ণিমা। এরূপ নামকরণের ক্ষেত্রে দানের একটি কাহিনি রয়েছে, যা বৌদ্ধ ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
একসময় বুদ্ধ কৌশাম্বিতে অবস্থান করছিলেন। সে সময় ভিক্ষুদের মধ্যে বিনয় সম্পর্কীয় একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহ-বিবাদের সৃষ্টি হয়। ক্রমে কলহের প্রভাব কৌশাম্বির সকল আবাসিক ভিক্ষুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ভিক্ষুরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একসময় বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বুদ্ধ সকল ভিক্ষুদের আহ্বান করে কলহ-বিবাদ করা অনুচিত বলে বোঝাতে চেষ্টা করেন। রাগের বশবর্তী হয়ে কোনো বিষয়ে অনড় থাকা উচিত নয় বলে তিনি সকলকে জানান। এ উপদেশ প্রদানকালে বুদ্ধ তাদের দীর্ঘায়ু কুমারের কাহিনি বলেন। সে কাহিনিতে উল্লেখ আছে যে, কলহ ও রাগের প্রভাব জন্ম জন্মান্তরে প্রবাহিত হয়। কিন্তু এতে উভয়ের ক্ষতি ছাড়া কোনো মঙ্গল হয় না। এমনকি শুধু কলহজনিত রাগের কারণে কোনো ভালো কাজও উপযুক্ত সময়ে করা যায় না। তাই সব সময় কলহ-বিবাদ পরিত্যাগ করা উচিত। বুদ্ধের নানাবিধ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কৌশাম্বিবাসী ভিক্ষুরা কলহ থেকে বিরত হলেন না। নিজেদের মধ্যে কলহ ত্যাগ করে প্রীতির সম্পর্ক তৈরি করতে পারলেন না।
তখন বুদ্ধকৌশাম্বিবাসী ভিক্ষুদের সংসর্গ ত্যাগ করে নিজে একাকী নির্জন গহিন বনে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। একসময়তিনি চলে গেলেন পারিল্যেয় নামক বনে। ভিক্ষুদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে তিনি সেখানে স্বচ্ছন্দে অবস্থান করতে লাগলেন। বুদ্ধ বনের মধ্যে একটি ভদ্রশাল গাছের নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে অবস্থান করছিল একটি হাতি। হাতিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজের শুঁড় দিয়ে বুদ্ধের বসবাসের জায়গাটি পরিষ্কার করে দেয়। হাতিটি বুদ্ধের জন্য নিয়মিত পানীয় জলও সংগ্রহ করে আনত। সেবা দানের জন্য সব সময় তৎপর থাকত। এভাবে হাতিটি নিজের ইচ্ছাতেই বুদ্ধের সেবায় নিয়োজিত থাকত। বন্য প্রাণী হাতির এরূপ সেবাপরায়ণতা দেখে বনের এক বানরও বুদ্ধকে সেবা করতে আগ্রহী হয়। সেই চেতনায় বানরটি অত্যন্ত শ্রদ্ধাসহকারে বন থেকে মধু সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করে। বুদ্ধ বানরের দেওয়া মধু সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেন। এতে বানর খুবই প্রীত হয়। মনের সুখে এক বৃক্ষ থেকে অন্য বৃক্ষে লাফাতে থাকে। বানরটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে লাফানোর সময় হঠাৎ মাটিতে পড়ে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। বুদ্ধ দিব্যচক্ষুতে দেখলেন যে, মধুদানের ফলে বানর মৃত্যুর পর দেবলোকে পুনর্জন্ম গ্রহণ করেছে। এ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল ভাদ্র পূর্ণিমা তিথিতে। এ অনন্য ঘটনাকে স্মরণ করে বৌদ্ধরা এ পূর্ণিমা তিথিতে ভিক্ষুসঙ্ঘকে মধু দান করে।
এসব কারণে ভাদ্র পূর্ণিমাকে মধুপূর্ণিমা বলা হয়। এছাড়া কৌশাম্বির ভিক্ষুরাও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে কলহ ত্যাগ করেন এবং পারস্পরিক মধুময় সম্পর্ক সৃষ্টি করতে সমর্থ হন।

এ পূর্ণিমায় যেসব আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়, তা প্রায় অন্যান্য পূর্ণিমা অনুষ্ঠানের মতো। মধু দান করা এ পূর্ণিমার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ তিথিতে বৌদ্ধরা বুদ্ধ ও ভিক্ষুদের উদ্দেশে মধু দান করে। বিহারে আগত উপাসক-উপাসিকারা পরস্পরকে মধু ও পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করে। এভাবে দান ও সেবার ঐতিহ্যকে ধারণ করেই মধু পূর্ণিমা পালন করা হয়।
অনুশীলনমূলক কাজ |
প্রবারণা পূর্ণিমা আশ্বিন মাসে অনুষ্ঠিত হয়। আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিই প্রবারণা পূর্ণিমা। অন্যান্য পূর্ণিমার মতো এ পূর্ণিমা তিথির সঙ্গেও বুদ্ধের জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা জড়িত আছে। যেমন: এ পূর্ণিমা তিথিতেই বুদ্ধ মাতাকে এবং দেবতাদের অভিধর্ম দেশনা করে তাবতিংস স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে ফিরে এসেছিলেন। এ পূর্ণিমা তিথিতে ভিক্ষুদের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত পালন সমাপ্ত হয়। এ পূর্ণিমা তিথিতে বুদ্ধ ভিক্ষুদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, 'ভিক্ষুগণ! বহুজনের মঙ্গলের জন্য, হিতের জন্য তোমরা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ো। প্রচার করো সেই ধর্ম, যে ধর্মের আদিতে কল্যাণ, মধ্যে কল্যাণ এবং অন্তে কল্যাণ।' এ পূর্ণিমাকে প্রবারণা পূর্ণিমা বলা হয়। 'প্রবারণা' শব্দের অর্থ হলো সন্তুষ্টি বা ইচ্ছার পূর্ণতা, উৎসব, বরণ করা, বারণ করা ইত্যাদি। কুশলসমূহ প্রকৃষ্টরূপে বরণ করা এবং অকুশলসমূহ বারণ করাই হচ্ছে প্রবারণা। বর্ষাবাসব্রতের সমাপ্তি এবং মাসব্যাপী কঠিন চীবরদান উৎসবের সূচনা করে বলে প্রবারণাকে বৌদ্ধদের আনন্দের দিনও বলা হয়।
বর্ষাবাসব্রতের সমাপ্তি, কঠিন চীবরদান উৎসবের শুরু, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা প্রার্থনা করে পরিশুদ্ধিতা অর্জন, অভিধর্ম দেশনা করে তাবতিংস স্বর্গ থেকে বুদ্ধের প্রত্যাবর্তন, বুদ্ধ কর্তৃক যমক ঋদ্ধি প্রদর্শন প্রভৃতি কারণে প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ জগতে একটি অনন্য স্মরণীয় উৎসব।

প্রবারণা পূর্ণিমা একটি উৎসবমুখর দিন। এদিনে ফানুস ওড়ানো হয়। বিশেষ করে ফানুস বানানোর জন্য পূর্ণিমা তিথির কয়েকদিন আগে থেকেই বৌদ্ধ গ্রামসমূহে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সন্ধ্যায় প্রার্থনা ও প্রদীপ পূজার পর বৌদ্ধবিহারে ফানুস ওড়ানোর উৎসব শুরু হয়। অনেকে বাড়ির উঠানেও ফানুস উৎসবের আয়োজন করে। এ উৎসবে বৌদ্ধ-অবৌদ্ধ, আবাল বৃদ্ধবনিতা সর্বস্তরের লোক উপস্থিত হয় এবং ফানুস ওড়ানো উপভোগ করে। নানা রকম বাদ্যবাজনার তালে তালে, সংকীর্তনের ঝংকারে নেচে-গেয়ে বর্ণিল ফানুস আকাশে ওড়ানো হয়। রাতে এ দৃশ্য অপূর্ব মনে হয়। এভাবে প্রবারণা পূর্ণিমা অনুষ্ঠান সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়।
এ পূর্ণিমা উদ্যাপনে আমরা এই শিক্ষা লাভ করতে পারি যে, প্রত্যেক মানুষকে সর্বদা নির্দোষ ও পবিত্র থাকার ইচ্ছা পোষণ করতে হবে। এজন্য চেষ্টা করতে হবে। যেমন: প্রবারণা পূর্ণিমায় বৌদ্ধভিক্ষুরা ভিক্ষুসীমায় বসে পরস্পরের কাছে দোষ-ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এটি হলো আত্মশুদ্ধির প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে নিজের মন পবিত্র হয় এবং আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়। আমাদেরও দোষ-ত্রুটির জন্য পরস্পরের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। এতে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। মনের রাগ ও হিংসা দূর হয়।
অনুশীলনমূলক কাজ |
বৌদ্ধ আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবসমূহের মধ্যে মাঘী পূর্ণিমাও গুরুত্বপূর্ণ। এ পূর্ণিমার সঙ্গে বুদ্ধের জীবনের অনেক ঘটনা জড়িত আছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মহাপরিনির্বাণ লাভের ঘোষণা। এ তিথিতে বুদ্ধ নিজের আয়ু সংস্কার বিসর্জন বা মহাপরিনির্বাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই সময় তিনি বৈশালীর চাপাল চৈত্যে অবস্থান করছিলেন। তিনি ভিক্ষুসঙ্ঘকে বলেছিলেন, 'এখন হতে তিন মাস পর আগামী বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে আমি পরিনির্বাণ লাভ করব।' এভাবে নিজের জীবন অবসানের দিনক্ষণ ঘোষণা করা সাধারণের জীবনে বিরল। জগতে হয়তো আর দ্বিতীয়টি নেই।
স্বাভাবিক দৃষ্টিতে বুদ্ধের জীবন অবসানের ঘোষণার জন্য এই দিনটি শোকের বা দুঃখের মনে হতে পারে। কিন্তু বুদ্ধের ধর্ম ও দর্শনের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে এটি মহৎ ও মহান একটি দিন। কারণ বুদ্ধ বলেছেন, উৎপন্ন সকল কিছুরই বিনাশ অনিবার্য। অর্থাৎ জন্ম হলেই মৃত্যু হবে। জগতের সকল কিছুই অনিত্য ও অনাত্মা নিয়মে বাঁধা। বুদ্ধ এই সত্যকে সাধনা ও প্রজ্ঞা দ্বারা আবিষ্কার করেছিলেন। নিজের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে তিনি সম্যক দৃষ্টিতে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই তিনি তাঁর আয়ু সংস্কার ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
অন্য সকল পূর্ণিমা উৎসবের মতো মাঘী পূর্ণিমার অনুষ্ঠানমালাও খুব সকাল থেকে শুরু হয়। এ অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল ও উপোসথশীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা, সমবেত উপাসনা, দেশ, জাতি ও বিশ্ববাসীর সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। এছাড়া ধর্মালোচনা, সান্ধ্যকালীন বন্দনা ও পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদিও আয়োজন করা হয়।
Read more