প্রাচীন বাংলার সমাজ, অর্থনীতি ও ধর্ম
কৃষি: প্রাচীনযুগে বাংলার অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। ধান ছিল প্রধান ফসল। প্রচুর আখও উৎপাদন হতো। আখ থেকে উৎপাদন করা হতো গুড় ও চিনি। এই গুড় ও চিনি বিদেশে রপ্তানির কথা জানা গিয়েছে। তুলা, সরিষা ও পান চাষের জন্যও পরিচিতি ছিল বাংলার। তখন নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা, ডুমুর প্রভৃতি ফলের কথাও জানা যায়।
কুটিরশিল্প: প্রাচীনযুগ থেকেই বাংলার তাঁতিরা মিহি সুতি ও রেশমি কাপড় বুনতে পারদর্শী ছিল। আমাদের মসলিন কাপড় ছিল পৃথিবী বিখ্যাত যা রপ্তানি হতো। তখন উন্নতমানের মৃৎপাত্র, ধাতবপাত্র ও অলংকারও নির্মাণ করা হতো। প্রাচীন বাংলার পোড়ামাটি, ধাতু ও পাথরের ভাস্কর্য এবং মূর্তি ছিল প্রশংসনীয়। ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা, স্বল্প- মূল্যবান পাথর ও কাচের পুঁতিও তৈরি হতো তখন।
ব্যবসা-বাণিজ্য: কৃষির অতিরিক্ত ফসল এবং শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশ লাভ করে। নদীর তীরগুলোতে গড়ে উঠেছিল হাট-বাজার ও গঞ্জ। ব্যবসা-বাণিজ্য নদীপথেই হতো বেশি। উয়ারী-বটেশ্বর ও পুণ্ড্রনগর তথা মহাস্থানগড় ছিল সমৃদ্ধ নদীবন্দর। ভারতবর্ষের বিভিন্ন বন্দর ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে প্রেরণ করা হতো তৎকালীন বাংলার পণ্য।
ধর্মমত ও সম্প্রদায়: অনুমান করা হয় পাথর যুগে এ অঞ্চলের মানুষ পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের মতো পাহাড়- পর্বত, নদ-নদী, চন্দ্র, সূর্য প্রভৃতির পূজা করত। দীর্ঘসময় বৌদ্ধ শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় এদেশে বৌদ্ধধর্ম প্রাধান্য লাভ করে। পাল সম্রাটগণ বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। ধর্মীয় সম্প্রীতিকে পাল যুগের বৈশিষ্ট্য হিসাবে চিহ্নিত হয়।
| কাজ: বাংলাদেশের কুটিরশিল্প একটি তালিকা প্রস্তুত কর। |
Read more