বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা (পাঠ-৪)

বাংলাদেশের অর্থনীতি - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

908

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। স্বাধীনতার পর অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট উন্নতি করেছি। কিন্তু পথিবীর অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেরও উন্নয়নের পথে কতগুলো বাধা বা সমস্যা রয়েছে। যেমন- সুশাসন ও গণতন্ত্রের অভাব, দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও শিক্ষার অভাব। অন্যদিকে উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশের চমৎকার সম্ভাবনাও আছে। যার মধ্যে প্রধান হলো আমাদের বিরাট জনশক্তি ও উর্বর ভূমি। আমাদের সমস্যাগুলোকে ঠিকভাবে চিনে তা সমাধান করতে হবে। সেই সঙ্গে আমাদের সম্ভাবনাগুলোকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। আমরা অনেক ভাগ্যবান যে আমাদের মাটি, পানি ও বিরাট জনশক্তি উন্নয়নের পথে একটি বড়ো সহায়। আমাদের দেশের মানুষ পরিশ্রমী। আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকেরা বিদেশের মাটিতে তার প্রমাণ দিচ্ছে। গার্মেন্টস বা পোশাক-শিল্পে বাংলাদেশ যে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে তাও উন্নয়নের পথে আমাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথ

ক. জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে তার জন্য দরকার শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ। বিশাল জনসংখ্যার দেশ আমাদের বাংলাদেশ। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের শিক্ষার হার কম। শিক্ষায় সরকারের বরাদ্দও অপ্রতুল। শিক্ষার অভাবে আমাদের দেশের অনেক মানুষ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম। দেশের মানুষকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে আমরা তাদের জীবনমান বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়নের ব্যাপারে আগ্রহী ও সচেতন করে তুলতে পারি। সেই সঙ্গে উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের বিরাট জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে পারি।

খ. কৃষির উন্নতি

গ্রামপ্রধান বাংলাদেশে কৃষি এখনও উন্নয়নের প্রধান খাত। আধুনিক যন্ত্রপাতি, বীজ, সার ও কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার, প্রাকৃতিক কৃষি এবং সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের দ্বারা আমরা আমাদের কৃষি উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়াতে পারি। এতে আমাদের গ্রামের মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটবে, পরিবেশ দূষণ কমবে ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

গ. প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার

গ্যাস, তেল প্রভৃতি যেসব প্রাকৃতিক সম্পদ এখনও অব্যবহৃত রয়েছে সেগুলো মধ্যে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে বিকল্পভাবে সম্পদ ব্যবহার করতে হবে। কয়লা উত্তোলন করে বায়ু ও সৌরশক্তি কাজে লাগিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প না টেকসই উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে যা আগামীর জন্য দরকারী।

ঘ. শিল্পের প্রসার

গার্মেন্টস, ঔষধ, সিমেন্ট, সিরামিকসহ দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পখাতকে সম্প্রসারণ করতে হবে। যাতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে এসব পণ্য আমরা আরও অধিক পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করতে পারি। তাতে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পরিমাণ বাড়বে ও অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

ঙ. অবকাঠামো নির্মাণ

সড়ক, সেতু, রেলপথ এবং পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি বা সম্প্রসারণ করতে হবে। তা না হলে শিল্প বা কৃষি, বাণিজ্য বা সেবা কোনো ক্ষেত্রেই একটি দেশ উন্নতি করতে পারে না। অর্থনৈতিক উন্নয়নের শর্ত হিসেবে এই অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়টিকে তাই আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তবে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় বেখে অবকাঠামো নির্মাণের পন্থা বের করতে বিজ্ঞানের নতুন উদ্ভাবনকে কাজে লাগাতে হবে।

চ. পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন

যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দরকার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার হবে সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। যারা পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন ও যারা তা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন তাদের সবাইকে এ ব্যাপারে দেশের স্বার্থ ও প্রকৃতির সুরক্ষার কথাকেই সবার উপরে স্থান দিতে হবে।

কাজ: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...