বাংলাদেশের সংস্কৃতির কিছু কিছু উপাদান আমরা খালি চোখে দেখতে পারি, ধরতে পারি। আবার এ দেশের সংস্কৃতির অনেক উপাদানই আমরা দেখতে পাই না, ধরতেও পারি না। যেমন- বাংলাদেশের মানুষের তৈরি ঘরবাড়ি আমরা দেখতে পাই; কিন্তু এগুলো তৈরির জ্ঞান ও কৌশল দেখা যায় না। এদিক থেকে বিবেচনা করলে বাংলাদেশের সংস্কৃতির উপাদানসমূহকেও দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (১) বস্তুগত বা দৃশ্যমান উপাদানসমূহ ও (২) অবস্তুগত বা অদৃশ্যমান উপাদানসমূহ। এ দেশের সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানসমূহ হচ্ছে- বিভিন্ন ধরনের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, পোশাক, যানবাহন, খাবার, চাষাবাদের উপকরণ, বইপত্র ইত্যাদি।
আমাদের সংস্কৃতির অবস্তুগত উপাদানসমূহ হচ্ছে- সামগ্রিক জ্ঞান, মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নীতিবোধ, ভাষা, বর্ণমালা, শিল্পকলা, সাহিত্য, সংগীত, আদর্শ ও মূল্যবোধ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা ইত্যাদি।
আমাদের দেশের মানুষ নিজস্ব প্রয়োজনেই বস্তুগত সংস্কৃতির উপাদানসমূহ সৃষ্টি করেছে। এসব উপাদান শত শত বছর ধরে টিকে থাকতে পারে। যেমন- আমরা জাদুঘরে গেলে এমন অনেক জিনিস দেখতে পাই, যেগুলো শত বছরের পুরানো। সেগুলো দেখে আমরা বাংলাদেশের সে সময়ের মানুষ ও তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।
বাংলাদেশের সংস্কৃতির বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদানসমূহ কোনোভাবেই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কেননা, সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানসমূহের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতির অবস্তুগত উপাদানসমূহের পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন- নকশিকাঁথা বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি বস্তুগত উপাদান। এর মধ্যে যখন ফুল-পাতা, হাতি-ঘোড়া বা অন্য কোনো দৃশ্য সেলাই করা হয়, তখন তা হয়ে ওঠে এদেশের নারী মনের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশের সংস্কৃতির উপাদানগুলোর একটির পরিবর্তনে অন্যগুলোরও পরিবর্তন হয়। যেমন- বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে শাড়ি একটি উপাদান। প্রযুক্তির পরিবর্তনে শাড়ির রং ও ডিজাইনে পরিবর্তন এসেছে। শাড়ি পরার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে।
| কাজ: বাংলাদেশের সংস্কৃতির বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদানের তালিকা প্রস্তুত কর। |
Read more