ষষ্ঠ শ্রেণি রাজবন বিহার গাইড ও নোট (পাঠ : ৫)

Class 6 Guide & Notes
636

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা শহরের একটি প্রসিদ্ধ বিহার হলো রাজবন বিহার। এটি ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিহারটি অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। বিহারের মনোরম এলাকায় পশুপাখি নির্ভয়ে বিচরণ ও চলাচল করে। শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির এই বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন। গভীর অরণ্যে ভাবনা করায় তিনি 'বনভন্তে' নামেই অধিক পরিচিত। বাংলাদেশি বৌদ্ধরা তাঁকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করেন। বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের পুনর্জাগরণে তাঁর অনন্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি চাকমা রাজপরিবার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের আমন্ত্রণে ১৯৭৪ সালে রাঙামাটি জেলার লংগদু থেকে এ বিহারে আগমন করেন। রাজপরিবার কর্তৃক দানকৃত জমিসহ রাজবন বিহারের মোট আয়তন ৪৭ একর। বিহারে উপাসনা মন্দির, চৈত্য, ভিক্ষুশালা, দেশনাঘর, চংক্রমণ কুটির, ভিক্ষুসীমা, ভোজনালয়, পাঠাগার, জাদুঘর, বয়নশালা, ভিক্ষু উপগুপ্তের মূর্তি ।

বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান

সপ্তস্বর্গের প্রতীক, বোধিবৃক্ষ প্রভৃতি রয়েছে। বিহারটির নির্মাণশৈলী অপূর্ব। পার্বত্য চট্টগ্রামে বন বিহারের ষাটের অধিক শাখা আছে এবং বনভন্তের শিষ্য-প্রশিষ্যের সংখ্যা সহস্রাধিক। তাঁর শিষ্যমণ্ডলী ধূতাঙ্গশীল পালন করেন। বৌদ্ধদের নিকট এই বিহারটি তীর্থস্থান হিসেবে খ্যাত। এ তীর্থস্থানে প্রতিদিন জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। বিভিন্ন স্থান থেকে জনগণ এই বিহারে প্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা গ্রহণ করতে আসেন। এছাড়া দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এ বিহারে সন্তানের অন্নপ্রাশন, সঙ্ঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবরদান প্রভৃতি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান করতে আসেন।
এ বিহারে পূর্ণিমা তিথিতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাঁকজমকপূর্ণভাবে বুদ্ধপূর্ণিমা, কঠিন চীবরদান এবং বনভন্তের জন্মদিন উদ্যাপন করা হয়। কঠিন চীবরদানের সময় চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা কেটে, রং করে, কোমর তাঁতে বুনে, সেলাই করে চীবর তৈরি করা হয়। এই দৃশ্য খুবই চমৎকার। চাকমা রাজমাতা বা চাকমা রানি দিনের শুরুতে সুতা কাটা উদ্বোধন করেন এবং দিনের শেষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধর্ম দেশনা প্রদানের পর চাকমা রাজা তৈরিকৃত চীবর দান করেন। এদিন প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। তখন বিহারটি একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। বনভন্তে এবং রাজবন বিহারের খ্যাতি দেশের সীমা অতিক্রম করে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক এবং ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ জনসাধারণ রাজবন বিহার দর্শন করতে আসেন। বৌদ্ধ তীর্থস্থান হিসেবে এই বিহারের আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে।

অনুশীলনমূলক কাজ
রাজবন বিহার অঙ্গনে অবস্থিত স্থাপনাসমূহের একটি তালিকা প্রস্তুত করো।
কঠিন চীবরদানের সময় রাজবন বিহারে কীভাবে চীবর তৈরি করা হয় তা বর্ণনা

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...