শিশুশ্রমের ধারণা, কারণ ও প্রভাব (পাঠ-৪ ও ৫)

শিশুর বেড়ে ওঠা ও প্রতিবন্ধকতা: সামাজিকীকরণ - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.3k

আমরা প্রায়ই লক্ষ করি অনেক শিশু বিদ্যালয়ে না গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে। আবার অনেক শিশু বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম কাজ করে। তবে কোনো কোনো কাজ প্রায় প্রতিটি শিশুকে করতে হয় যা তার জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং তা তার ও তার পরিবারের ভালোভাবে জীবনযাপনের জন্য সহায়ক। যেমন- মা-বাবার বা পরিবারের সদস্যদের কোনো কাজে সহায়তা করা। এসব কাজ করতে সে বাধ্য থাকে না। কিন্তু কোনো কোনো কাজ আছে যা শিশুর জন্য ক্ষতিকর। এ ধরনের কাজকে শিশুশ্রম বলা হয়। সুতরাং উপার্জন করার জন্য কাজ করতে গিয়ে শিশুরা বিপদ, ঝুঁকি, শোষণ ও বঞ্চনার সম্মুখীন হলে সে কাজকে শিশুশ্রম বলা হয়। বাংলাদেশে শিশুশ্রম বেআইনি।

আমাদের দেশের অনেক শিশু অন্যের বাসাবাড়িতে সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছে। বাসাবাড়ির বাইরেও বিভিন্ন কলকারখানায় যেমন-চুড়ি, বিড়ি, ব্যাটারি, জুতা তৈরির কাজ করছে। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য তৈরির কারখানায়, লেদ ও ওয়েল্ডিং মেশিনেও কাজ করছে। গাড়ি বা টেম্পুর সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করছে। বর্জ্য ঘেটে তা থেকে প্রয়োজনীয় বিক্রয়যোগ্য জিনিসপত্র সংগ্রহ করছে। কিন্তু কেন শিশুরা এসব কাজ করছে?

শিশুশ্রমের কারণ অনেক। অনেক অভিভাবক দরিদ্রতা বা পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে শিশুদের স্কুলের পরিবর্তে কাজে পাঠাতে বাধ্য হয়। আবার মা-বাবা অসুস্থ হলে কিংবা তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটলে অনেক সময় শিশুরা অর্থ উপার্জনে বাধ্য হয়। খুব কম মজুরিতে শিশুদের পাওয়া যায় বলে গৃহকর্মে বা ইটের ভাটার মতো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম ব্যবহার হয়। এছাড়া বড়ো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অনেক শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে এবং শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। ছেলে ও মেয়ে শিশুর প্রতি অভিভাবকদের বৈষম্যমূলক আচরণও অনেক সময় মেয়ে শিশুকে শ্রমিকে পরিণত করে।

ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত শ্রমের কারণে নানা ধরনের সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। একই বয়সী শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে দেখে, খেলতে দেখে এবং মা-বাবার সাথে বেড়াতে যেতে দেখে শিশু শ্রমিকদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তারাও এসব পেতে চায়। তাই চাহিদার অপূর্ণতা থেকে শিশু মনে হীনমন্যতা সৃষ্টি হয়। শিশু স্বাভাবিক আচরণ করতে পারে না। সমাজ ও সমাজের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে শিশু মনে এক প্রকার হিংস্রতা ও ক্ষিপ্রতার জনন্ম নেয়। এসব শিশু আবেগহীন, ভয়হীন হয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। অপুষ্টি, অনিদ্রা, বিশ্রামহীন জীবন শিশু শ্রমিকের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। আমরা জীবনের জন্য ক্ষতিকর ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে নিজেদেরকে বিরত রাখব এবং অন্যদেরকে বিরত থাকতে সহায়তা করব।

কাজ: দলে ভাগ হয়ে ৫টি ঝুঁঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম ও এগুলোর ক্ষতিকর দিক চিহ্নিত কর।
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...