এসো নিচের গল্পটি পড়ি
জসিমরা তিন ভাইবোন। জসিমের বয়স ১৬ বছর, তার ভাই সোহেলের বয়স ১২ বছর আর ছোটো বোন মিলির বয়স ৮ বছর। তাদের নিজেদের কোনো আবাদি জমি নেই। তাদের বাবা অন্যের জমিতে সারাদিন হাঁড়ভাঙা পরিশ্রম করেন। অবসর সময়ে তিনি বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন জিনিস তৈরি করেন। এগুলো হাটে বিক্রি করে তিনি সামান্য আয় করেন। তাদের মা সংসারের কাজের পাশাপাশি বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন ও আঙ্গিনায় শাক-সবজি চাষ করেন। হাঁস-মুরগির ডিম ও শাক-সবজি বিক্রি করে তারা আয় করেন।
তাদের এই পরিশ্রমের ফলে জসিম কলেজে এবং সোহেল ও ছোটো বোন মিলি স্কুলে পড়ছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবা-মা তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ঘরের ব্যবস্থা করেছেন। তাদেরকে পুষ্টিকর খাবার দেন, অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সন্তানদের বিনোদনের জন্য তারা বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যান।
তোমরা এ গল্পটি পড়ে কী বুঝলে? পরিবারের কেউ যদি কোনো কাজে জড়িত না থাকে তাহলে যে যে সমস্যা হয় তা নিচের ছকটিতে লিখ-
| ক্রম | সমস্যা |
| ১ | |
| ২ | |
| ৩ | |
| ৪ | |
| ৫ |
তোমরা সকলেই জানো মানুষ হিসেবে ভালোভাবে বাঁচতে, শিক্ষা লাভ করতে, সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে আমাদের সকলের স্বপ্ন বা ইচ্ছা থাকে। আমাদের এ স্বপ্ন বা ইচ্ছাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন অর্থের। পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে জড়িত হওয়া আমাদের এস্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে। যদি পরিবারের কেউ কোনো কাজে জড়িত না হন তাহলে কী করে তাঁরা আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন? আমাদের ভরণ-পোষণ, শিক্ষা, বিনোদন, চিকিৎসা ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই তাঁরা সহযোগিতা করেন। এজন্য আমাদের জীবনে পরিবারের অন্যদের কাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। এ বিষয়ে আমরা নিচে আলোচনা করছি:
ভরণ-পোষণ: পরিবারের সদস্যদের কাজে জড়িত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা হয়। তারা যদি কেউ কোনো কাজ না করেন তাহলে আমাদের খাওয়া-দাওয়া, পোশাক এগুলো আসতো কোথা থেকে? এজন্য আমাদের পরিবারের কর্মপযোগীদের কাজে জড়িত হওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা: সবাই চায় তাদের সন্তানরা লেখাপড়া শিখে জ্ঞান অর্জন করুক। লেখাপড়ায় অর্থের প্রয়োজন হয়। পরিবারের সদস্যদের কাজের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার ব্যয় মেটানো সম্ভব হয়। সুতরাং আমাদের জীবনে পরিবারের সদস্যদের কোনো না কোনো পেশায় নিয়োজিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসা: অনেক সময় পরিবারের কোনো সদস্য দুর্ঘটনা বা বিভিন্ন কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এসময় চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিতে হয়, ডাক্তার দেখাতে হয়, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয় ও ওষুধ কিনতে হয়। এসব করার জন্য প্রয়োজন হয় অর্থের। পরিবারের কেউ যদি কোনো কাজে নিয়োজিত না থাকেন তাহলে এ অর্থের সংকুলান হবে কীভাবে?
বিনোদন: মানুষের সুস্থ-সবলভাবে বেঁচে থাকার জন্য বিনোদন হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিনোদনকে বলা হয় মনের খোরাক। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে যাওয়া, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, বিভিন্ন উৎসবে যোগ দেওয়া, বিশেষ দিনে মজা করা, নাটক দেখা ও গান শোনা-এসব বিনোদনের অংশ। এসব করার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয় তার জোগান দেন পরিবারের সদস্যরা।
পরনির্ভরশীলতা: পরিবারের সদস্যরা যদি কোনো কাজে নিয়োজিত না হন তাহলে জীবনধারণের জন্য আমাদেরকে অন্যের দয়ার উপর নির্ভরশীল হতে হবে। অন্যের দয়ার মাধ্যমে জীবনধারণ করা সকলের কাছেই অসম্মানের। এজন্য অসম্মান থেকে বাঁচতে পরিবারের সদস্যদেরকে কোনো না কোনো কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে হবে।
সামাজিক মর্যাদা: যে পরিবারের সদস্যরা কোনো না কোনো কাজে নিয়োজিত থাকেন সমাজে ঐ পরিবারের গুরুত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে যে পরিবারের সদস্যরা কোনো কাজ করে না সমাজে তাদের কোনো গুরুত্ব ও মর্যাদা নেই। কেউ তাদেরকে পছন্দ করে না, সম্মান করে না এবং এ কারণে সমাজে তাদেরকে হেয় হতে হয়। তাই সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসেবে বসবাস করার জন্য কাজে জড়িত হওয়া জরুরি।
কাজ তোমরা প্রত্যেকে নীরবে পাঠটি পড়। এবার পরিবারের অন্যরা কোনো কাজে জড়িত না হলে তোমাদের জীবনে আরও কী কী সমস্যা হতে পারে তা নিয়ে দুজন দুজন করে আলোচনা কর। নতুন কোনো সমস্যা চিহ্নিত হলে সেগুলো উপস্থাপন কর। |
Read more