কায়িক শ্রমের গুরুত্ব (পাঠ ১)

কর্ম ও মানবিকতা - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

1.8k

তোমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে কায়িক শ্রম কী? কায়িক শ্রম হলো শারীরিক পরিশ্রম। আমরা প্রতিদিন নানা কাজ করে থাকি। এসব কাজ করতে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম হয় অর্থাৎ এসব কাজের ক্ষেত্রে আমরা কায়িক শ্রম দিয়ে থাকি।

অনেকে কায়িক শ্রম দিয়ে টাকা রোজগার করে থাকে। যেমন-রিকশাচালক, ভ্যানচালক। তোমরা নিশ্চয়ই রিকশা দেখেছো রিকশাচালক আরোহীদের নানা স্থানে পৌঁছে দেন। রিকশা চালানো কায়িক শ্রমের একটি উদাহরণ। এছাড়াও আরও অনেক কাজ আছে যেসব কাজে আমাদের কায়িক শ্রম দিতে হয়।

কাজ
কায়িক শ্রম প্রয়োজন হয় এমন আরও ৫টি উদাহরণ নিজের খাতায় লিখ এবং উদাহরণগুলো বন্ধুদের সাথে মিলিয়ে নাও। প্রয়োজনে শিক্ষকের সাহায্য নিতে পারো।

তোমরা নিশ্চয়ই দেখেছো ফসলের খেতে যারা কাজ করেন তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়। যারা ঐ ফসল থেকে আমাদের জন্য খাদ্য উৎপাদান করেন, তারাও অনেক শারীরিক পরিশ্রম করেন। আমাদের সমাজে নানা পেশার মানুষ রয়েছেন; যেমন- কামার, কুমার, তাঁতি, জেলে ইত্যাদি। তারা সবাই নিজ নিজ কাজ করেন বলেই আমরা আরামদায়ক জীবন-যাপন করতে পারি।

একবার ভেবে দেখত, কৃষক যদি আমাদের জন্য কষ্ট করে ফসল না ফলাতেন তবে আমরা কী খেয়ে থাকতাম? জেলেরা যদি পরিশ্রম করে আমাদের জন্য মাছ না ধরতেন তাহলে কি আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি হতে পারতাম? তাঁতি ও দর্জিরা যদি আমাদের জন্য পোশাক তৈরি না করতেন তা হলে আমরা কী পরতাম? তোমরা কি কখনো তাঁতির কাপড় বোনা দেখেছো? দেখেছো দর্জি কীভাবে কাপড় সেলাই করেন?

আজকাল আমাদের কায়িক শ্রমের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। এজন্য সহায়তা করছে প্রযুক্তি ও নানা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। ভেবে দেখো, আজ থেকে পাঁচশ বছর আগে মানুষ কীভাবে দূরের কোনো জায়গায় যেতেন? তাদের হয় পায়ে হেঁটে যেতে হতো না হয় গরু, মহিষ, ঘোড়া, গাধা ইত্যাদিকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করতে হতো। হাঁটলে আমাদের শারীরিক পরিশ্রম হয়। হাঁটা কায়িক শ্রমের উদাহরণ। জলপথে গেলে হয়ত নৌকা ব্যবহার করতে হতো। নৌকার দাঁড় টানতে এবং নৌকা চালাতে কায়িক শ্রমের প্রয়োজন হয়। বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। অনেক কায়িক শ্রমের কাজ আমাদের হয়ে যন্ত্র করে দিচ্ছে। আজ আমরা বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে খুব সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারি।

কায়িক শ্রম আমাদের দেহ ও মনের জন্য খুবই জরুরি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিনিয়ত আমরা নানা কাজ করে থাকি। এসব কাজ করতে আমাদের কায়িক শ্রম দিতে হয়। এসব কাজ আমাদেরকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ও পরিমিত কায়িক শ্রম আমাদেরকে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা থেকে রক্ষা করে। এ শ্রম শরীরের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুবই জরুরি। আর শুধু নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলেই হবে না, আমাদের চারপাশও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আমরা আমাদের বাড়ি ঘর, চারপাশ, বিদ্যালয়, এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখব। বিদ্যালয় চত্বর পরিষ্কার করা কায়িক শ্রমের উদাহরণ। আমাদের কায়িক শ্রমের ফলে চারপাশ এতো ঝকঝকে হয়েছে দেখে আমরা গর্বিত হবো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...