পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও পেশা (পাঠ ২৮ ও ২৯)

পারিবারিক কাজ ও পেশা - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

436

তোমরা কি জানো পরিবারে কী কী ধরনের ব্যয় থাকতে পারে? কীভাবে একটি পরিবার চলে? কারা সেই ব্যয় বহন করেন? কী কাজ করে তারা সেই ব্যয় বহনের জন্য অর্থ উপার্জন করেন? আজকের আলোচনায় আমরা সে বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করব। আমরা সকলেই জানি একটি পরিবারে প্রতিদিনে, সপ্তাহে, মাসে কিংবা বছরে অনেক ধরনের ব্যয় হয় বা ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকে। এ ব্যয়গুলোকে আমরা ভরণ-পোষণ ব্যয় বলি। অর্থাৎ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটি পরিবারে এ খরচগুলো হয়।

ভরণ-পোষণের মধ্যে কী কী ব্যয় থাকতে পারে তা তোমরা নিচের টেবিলটিতে লিখ:

ক্রমব্যয়
খাদ্য
………………………………………………………………………………………………………………
পোশাক
………………………………………………………………………………………………………………
বিদ্যালয়ের বেতন ও ফিস
………………………………………………………………………………………………………………
………………………………………………………………………………………………………………
চিকিৎসা/ওষুধ
………………………………………………………………………………………………………………
১০………………………………………………………………………………………………………………

তোমরা কি জানো পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কার? পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পরিবারেরই কোনো না কোনো সদস্যকে নিতে হয়। আমাদের দেশে, সাধারণত আমরা দেখি মা-বাবা, বড়ো ভাই বা বোন পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। অর্থাৎ পরিবারের যিনি বা যারা বড়ো তিনিই বা তারাই পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। পরিবারের কেউ এই দায়িত্ব না নিলে পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ হবে কোথা থেকে? সেজন্য এই দায়িত্ব বর্তায় পরিবারের কোনো সদস্য বা সদস্যদের উপরই।

তোমরা কি জানো পেশা কী? পেশা হচ্ছে কাজ বা কাজের ক্ষেত্র। অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সামাজিকভাবে স্বীকৃত কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ বা বিশেষ কাজ করাকে পেশা বলে। যেমন: একজন কৃষক তার দক্ষতা অনুযায়ী জমিতে চাষাবাদের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করেন, এজন্য তার পেশা হচ্ছে কৃষি। আবার একজন ডাক্তার তার অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী রোগীর চিকিৎসা করে উপার্জন করেন এজন্য তার পেশা হচ্ছে চিকিৎসা। এভাবে প্রত্যেক মানুষ নিজের দক্ষতা অনুযায়ী যে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন সে কাজই হচ্ছে তার পেশা।

পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদেরকে আয় করতে হয় এবং এর জন্য কোনো না কোনো আয়সৃজনী কাজে জড়িত হতে হয়। প্রত্যেকের নিজ নিজ কাজই হচ্ছে তার পেশা। তোমরা একটু খেয়াল করলেই দেখবে তোমাদের মা-বাবা, চাচা-চাচি, ভাই-বোন বা পরিচিত অনেকেই কোনো না কোনো কাজ করছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের কাজের ক্ষেত্রগুলোতে শ্রম দেন এবং তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক অর্থাৎ টাকা পান। এই যে তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছেন বা শ্রম দিচ্ছেন সে কাজগুলোই তাদের প্রত্যেকের জন্য এক একটি পেশা। পরিবারের ভরণপোষণের কথা চিন্তা করেই তারা এসব পেশায় জড়িত হন।

এসো আমরা নিচের গল্পটি পড়ি-

সাবিনা আদর্শপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। সে পড়াশোনায় খুব ভালো। বিদ্যালয়ের সবাই তাকে খুব আদর করেন। সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে। সাবিনার বাবার নাম আব্দুল মুক্তাদির। মুক্তাদির সাহেব আদর্শপাড়া গ্রামে বসবাস করেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বাবা-মা নিয়ে তার পরিবার। তিনি সেলাইয়ের কাজ ভালো জানেন; এজন্য গ্রামের বাজারে একটি দোকান নিয়ে তিনি দর্জির কাজ করেন। তিনি কষ্ট করে হলেও তার দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাতে বদ্ধপরিকর। সাবিনার মা বাড়িতে পরিবারের গৃহস্থালির কাজগুলো করেন। তিনি বাঁশ ও বেত দিয়ে সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরি করতে পারেন। তিনি এগুলো তার মায়ের কাছ থেকে শিখেছেন। অবসর সময়ে তিনি বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেন। গ্রামের বিভিন্ন বাড়ির লোকজন এসে এগুলো কিনে নিয়ে যায়। আবার বেশি হলে তার বাবা হাটে নিয়ে এগুলো বিক্রি করেন। সাবিনার বড়ো বোন গত বছর উপজেলার সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি পাশের গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি তার বাবাকে সংসার চালাতে সহায়তা করেন।

কাজ
নিচের টেবিলে তোমার জানা পেশাগুলো লিখ এবং তার পাশে ঐ পেশায় জড়িত পরিচিতজনের নাম লিখ।
ক্রমপেশাপেশার সাথে জড়িত ব্যক্তির নাম
Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...