আমাদের এই সভ্যতা মানবসমাজের কঠোর কায়িক শ্রমের ফল। লক্ষ লক্ষ মানুষের হাজার বছরের কঠোর পরিশ্রমে আমরা অর্জন করেছি আজকের এই উন্নত মানবসভ্যতা। যুগে যুগে মানুষ এমন অনেক কিছু বানিয়েছে যা কঠোর কায়িক শ্রমের পরিচয় বহন করে। আজ আমরা তেমনি কিছু কীর্তির কথা জানব।

মিসরের পিরামিড
মিসরের পিরামিডের নাম কি শুনেছ? মিসরের এই পিরামিডের কথা পৃথিবীর প্রায় সব লোকেই জানে। প্রাচীনকাল থেকে এসব পিরামিড পৃথিবীব্যাপী বিখ্যাত ছিল। মিসরের এই পিরামিডের বয়স প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর। পিরামিড তৈরিতে মানুষের যেমন লেগেছে কারিগরি জ্ঞান তেমনি প্রয়োজন হয়েছে কায়িক শ্রমের। শোনা যায় প্রায় এক লক্ষ লোকের বিশ বছর লেগেছে গিজার মহাপিরামিডটি তৈরি করতে।

এই পিরামিড তৈরিতে যেসব পাথরখণ্ড ব্যবহৃত হয়েছে তাদের এক একটির ওজন কম করে হলেও কয়েক টন। এসব পাথর আবার বয়ে নিয়ে আসা হয়েছে বহুদূর থেকে। কিছু কিছু পাথর টেনে আনা হয়েছে পাঁচশ কিলোমিটার দূর থেকে। কিছু পাথর নিয়ে আসা হয়েছে নদী পার করে। এসব পাথরের গড়ে ওজন ২৫-৮০ টন অর্থাৎ২৫০০০-৮০০০০ কেজি।
আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে কোনো উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া কীভাবে মানুষ এই পিরামিড নির্মাণ করেছে তা এক বিস্ময়ের ব্যাপার! সন্দেহ নেই কঠোর কায়িক শ্রমের ফলেই তা সম্ভব হয়েছে।
চীনের মহাপ্রাচীর
চীনের মহাপ্রাচীর মানবসভ্যতার অন্যতম কীর্তি যা লক্ষাধিক মানুষের কঠোর কায়িক শ্রমের ফসল। মোঙ্গলদের হাত থেকে চীন সাম্রাজ্যকে রক্ষার জন্য চীনারা খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে এই মহাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু করে। ৮৮৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাপ্রাচীর নির্মাণে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক শতাধিক বছর ধরে বিরামহীন কায়িক শ্রম দিয়ে গেছেন।

আগ্রার তাজমহল
তাজমহলের নাম কে না শুনেছে। সম্রাট শাহজাহান তাঁর প্রিয়তমা পত্নী মমতাজের স্মরণে এই স্থাপনা নির্মাণ করেন। এই তাজমহল যেমন স্ত্রীর প্রতি সম্রাট শাহজাহানের গভীর ভালোবাসার পরিচয় বহন করে তেমনি স্মরণ করিয়ে দেয় এ কীর্তি নির্মাণে হাজার হাজার মানুষের

কঠোর কায়িক শ্রমের কথা। তাজমহল মার্বেল পাথরের তৈরি যা বয়ে নিয়ে আসতে হয়েছে অনেক দূর থেকে। এসব পাথরকে প্রয়োজন মতো কেটে নকশা অনুযায়ী জায়গা মতো স্থাপন করা সহজ কোনো ব্যাপার ছিল না। তাছাড়া এর অসাধারণ স্থাপত্য শৈলী, বিশাল নির্মাণযজ্ঞ, শত শত বছর ধরে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এড়িয়ে টিকে আছে। এ সবই সম্ভব হয়েছে কঠোর কায়িক শ্রমের ফলে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে সে সময় আজকের মতো এত উন্নত প্রযুক্তি ছিল না।
Read more