ষষ্ঠ শ্রেণিতে আমরা শিখেছি যে সৃজনশীলতা বলতে যেমন নতুন কিছু সৃষ্টি করা বোঝায় তেমনি কোনো কাজ নতুন উপায়ে করাকেও বোঝায়। আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে সৃজনশীল। অনেকে আছে অন্যকে অন্ধের মতো অনুকরণ করে। এটা কিন্তু সৃজনশীলতা নয়। সৃজনশীলতা হলো নিজের মতো করে কিছু করা, সবার চেয়ে আলাদা কিছু করা।

বিজ্ঞানীরা সৃজনশীল। তাঁরা এমন অনেক জিনিস তৈরি করেন যা আগে কখনো ছিল না। এমন অনেক জিনিস তাঁরা তৈরি করেন যেগুলোর কথা মানুষ আগে ভাবে নি। তাঁরা এসব জিনিসের কথা ভাবতে পারেন, তৈরি করতে পারেন বলেই তাঁরা সৃজনশীল।
আচ্ছা, আমরা কি ভাবতে পারি যে, হাতি আকাশে উড়বে? ভাবতেই কেমন হাস্যকর লাগে, তাই না?
প্রাচীনকালের মানুষেরা হয়ত ভাবত আহা, হাতি যদি আকাশে উড়ত তাহলে আমরা হয়ত হাতির পিঠে চড়ে উড়ে বেড়াতে পারতাম। বিজ্ঞানীরা মানুষের এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। আজ আমরা বিমানে চড়ে আকাশ ভ্রমণ করতে পারি। এমনকি রকেটে চড়ে মহাকাশেও পাড়ি দিতে পারি। এসবই সম্ভব হয়েছে কাজে সৃজনশীলতার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে।
বিজ্ঞানীরা কেন সৃজনশীল? কারণ তাঁরা মানুষের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার চেষ্টা করেন। আমাদের চারপাশের বিভিন্ন বস্তু ও ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে আরও ভালো কিছু তৈরির চেষ্টা করেন। আমাদের জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও আরামদায়ক করার জন্য বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন সামগ্রী তৈরি করেন। এই নিত্য নতুন জিনিস তৈরির জন্য সৃজনশীলতা প্রয়োজন। যেমন ধরো-বাইসাইকেল, যা আমরা সাইকেল নামে চিনি, খুবই প্রয়োজনীয় একটি বাহন। সাইকেলে ভারসাম্য রাখা বেশ কঠিন।

আবার বেশি মালামাল বা মানুষ বহনও করা যায় না। তাই বিজ্ঞানীরা সাইকেলে আর একটি বেশি চাকা যোগ করে দিলেন; হয়ে গেল ট্রাইসাইকেল। আজকালকার ভ্যান, রিকশা ইত্যাদি ট্রাইসাইকেলের সুপরিচিত উদাহরণ। আর এই চাকা যোগ করা কিন্তু সৃজনশীলতার একটি বড়ো উদাহরণ। আবার সময়ের সাথে সাথে আবিষ্কৃত হয়েছে মোটর ইঞ্জিন। সাইকেলের সাথে মোটর ইঞ্জিন জুড়ে দিয়ে আমরা পেয়েছি মোটরসাইকেল। কাজের ক্ষেত্রে এ ধরনের সৃজনশীলতা আমাদের সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে মানুষ কোনো না কোনো যন্ত্র আবিষ্কার করেছে; তারপর ধীরে ধীরে ঐ যন্ত্রটা উন্নত করেছে। আবার একই যন্ত্র দিয়ে যাতে অনেক কাজ করা যায় সেজন্য মানুষ বের করেছে নানা বুদ্ধি। যেমন ধরো মোবাইল টেলিফোন। মোবাইলফোন নামের এই ছোট্ট যন্ত্রটি দিয়ে আমরা যেমন কথা বলতে পারি তেমনি গান শুনতে পারি, করতে পারি হিসাব-নিকাশ, টুকে রাখতে পারি কোনো তথ্য, মেসেজ পাঠাতে পারি, ভিডিও দেখতে পারি, গেমস খেলতে পারি এমন কি ইন্টারনেটও ব্যবহার করতে পারি। একদিনেই মোবাইলফোন এতো উন্নত হয়ে যায় নি।

দিনের পর দিন শত শত মানুষ যারা মোবাইলফোন তৈরির কাজে যুক্ত, তাদের কাজে সৃজনশীলতা প্রয়োগের মাধ্যমেই আজ আমরা এক মোবাইলফোনের ভেতর এতো কিছু পেয়েছি। তাছাড়া মোবাইলফোনের চেহারাতেও আছে বৈচিত্র্য। নানা রং, নানা ডিজাইন। যারা মোবাইলফোনের ডিজাইন করেন তাদের কাজের ক্ষেত্রে সৃজনশীলতার প্রয়োগের ফলেই সম্ভব হচ্ছে নিত্য নতুন ডিজাইনের উদ্ভব।
Read more