প্রাত্যহিক জীবনের কাজগুলো নিজে করার গুরুত্ব (পাঠ ২১ - ২৪)

পারিবারিক কাজ ও পেশা - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

1.6k

নিজের কাজ নিজে করার গুরুত্ব অনেক। প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় কাজগুলো বেশিরভাগই নিজের সাথে সংশ্লিষ্ট। এ কাজগুলো যদি প্রত্যেকে নিজে নিজেই করি তাহলে কাজের সৌন্দর্য যেমন বাড়ে তেমনি কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়। নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করালে সে কাজের গুরুত্ব কমে যায়; কাজটি দায়সারা গোছের হয়। তাছাড়া অন্যকে দিয়ে করালে তারা কাজটি আন্তরিকভাবে করে না বা করতে চায় না। এছাড়াও এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো অন্যের মাধ্যমে করানো একেবারেই উচিত নয়। এজন্য নিজের কাজ নিজে করাই উত্তম। যেমন- নিজের জামা-কাপড় নিজেই ধোয়া ভালো। অন্যদের দিয়ে ধোয়ালে তা ভালোভাবে পরিষ্কার নাও হতে পারে এবং জামা-কাপড় নষ্ট হতে পারে।

কাজ

তোমরা দুটি দলে ভাগ হয়ে যাও। একটি দল মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে কী কী কাজ থাকতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি কর। আর অন্য দলটি নিজের কাজ নিজে করার গুরুত্ব আলোচনা করে লিপিবদ্ধ কর। উভয় দলের কাজ শ্রেণিতে উপস্থাপন কর।

নিজের কাজ নিজে করার গুরুত্ব

সঠিক পদ্ধতিতে কাজ করা যায়: নিজের কাজটি যদি নিজে করো তাহলে কাজটি তুমি যেভাবে করতে চাইবে সেভাবেই করতে পারবে। কাজটি তুমি যেভাবে করতে চাইবে সেটি তোমার চেয়ে আর কেউ ভালো বুঝতে পারবে না। অন্য কাউকে দিয়ে যদি তোমার কাজ করাতে চাও সেক্ষেত্রে তার নিজের পদ্ধতি বা ধরনের উপর তোমাকে নির্ভর করতে হবে যা তোমার পছন্দ নাও হতে পারে। যেমন: স্কুল ব্যাগ গুছানো। ব্যাগের কোন পকেটে কী রাখবে বা কী রাখলে ভালো হয় তা তুমিই ভালো বুঝবে; অন্যকে ব্যাগ গোছাতে দিলে সে এলোমেলো করে রাখবে এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পাবে না।

দক্ষতা বৃদ্ধি পায়: যে যত বেশি কাজ করে তার কাজের হাত তত পাকা হয়। নিজের কাজ নিজে করলে কাজ করতে করতে একসময় তোমার কাজ করার দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তুমি এই সুযোগ পাবে না এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন কাজ করার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। যেমন: বিছানা গোছানো। তুমি যদি এখন থেকেই বিছানা না গোছাও তাহলে পরবর্তীতে পরিবারের বাইরে অর্থাৎ হোস্টেলে বা অন্য কোথাও গেলে বিছানা গোছানো নিয়ে সমস্যায় পড়বে।

নিজের মনের মতো কাজ করা যায়: প্রত্যেক মানুষের একটা নিজস্ব ধ্যান-ধারণা আছে এবং সব মানুষই কাজ করার ক্ষেত্রে নিজের মনের মতো করে কাজটি করতে চায়। নিজের কাজ নিজে না করে অন্যকে দিয়ে করালে নিজের চিন্তা-চেতনার প্রয়োগ ঘটানোর সুযোগ থাকে না এবং কাজটি নিজের মনের মতো হয় না। যেমন: পড়ার টেবিল গোছানো। টেবিলের উপরে কী কী জিনিস রাখবে, টেবিলের পাশের দেয়ালে কী লাগানো থাকবে তা তুমি নিজেই ঠিক করবে। তাহলে তোমার পড়ার টেবিল তুমি নিজের মনমতো করে গোছাতে পারবে।

একান্তে কাজ করা যায়: এমন কিছু কাজ আছে যা একান্তে করা প্রয়োজন। এ কাজগুলো অন্যদের দিয়ে করালে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হয়। এসব ক্ষেত্রে নিজের কাজ নিজে করাই উত্তম।

অভিজ্ঞতা অর্জিত হয় : যে যত বেশি অভিজ্ঞ সে তত নিপুণভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারে এবং যে যত বেশি কাজ করে সে তত বেশি অভিজ্ঞ। কাজ করতে করতেই মানুষের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং তুমি যদি তোমার কাজগুলো নিজেই করো তাহলে তোমার অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে এবং যেকোনো কাজ দক্ষতার সাথে সম্পাদন করতে পারবে।

ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পায়: যেকোনো কাজে সফল হওয়ার জন্য ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি বেশি কাজ করলে কাজের ভুল থেকে শেখার সুযোগ হয় এবং ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পায়।

অর্থের সাশ্রয় হয়: নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করাতে গেলে তাকে তার শ্রমের দাম দিতে হয়; এজন্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। যেমন: ধোপাকে দিয়ে কাপড় ধোয়ালে অর্থ ব্যয় হয়। নিজের কাজ নিজে করলে সে অর্থ নিজেরই থেকে যাবে।

সৃজনশীলতার বিকাশ হয়: কাজ করতে করতে মানুষ দক্ষতা অর্জন করে। যেমন: কাজ করার নিত্য নতুন পদ্ধতি ও উপায় উদ্ভাবন, ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়ে নতুন কিছু তৈরি করা এবং সময় বাঁচিয়ে কাজ করা ইত্যাদি। তুমি যদি নিজের কাজ নিজেই কর তাহলে তুমিও এরকম নতুন কিছু করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে তোমার সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে।

সুস্থ দেহে সুস্থ মন: কাজ করলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। কাজ করার মাধ্যমে শরীরের পেশিগুলোর সঞ্চালন হয় ও শরীরের ব্যায়াম হয়। এতে মনও অনেক প্রফুল্ল থাকে। নিজের কাজ নিজে করলে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে।

সময়মতো কাজ সম্পাদন করা যায়: নিজের কাজ নিজে করলে সময়মতো কাজ শেষ করা যায়। অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তার উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। তাছাড়া সে তোমার সময় এবং প্রয়োজনের গুরুত্ব নাও বুঝতে পারে। সে যদি সময়মতো কাজ না করতে পারে এতে তুমি সমস্যায় পড়তে পারো। সুতরাং নিজের কাজ নিজে করাই ভালো।

কাজ

"শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে চারটি দলে ভাগ করবেন। প্রতিটি দল পরিবারে নিজের কাজ নিজে করার উপর একটি নাটিকা প্রস্তুত করবে। শ্রেণিতে ভূমিকাভিনয় করে দেখাবে।
*এ কাজে দুটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...