আত্মবিশ্বাসী হতে হলে আমাদের জানতে হবে আত্মবিশ্বাসী এবং কম আত্মবিশ্বাসীদের মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে। তাহলে আমরা বুঝতে পারব যে আমরা কোন দলে পড়ি। আমরা যদি আত্মবিশ্বাসী হই তাহলে নিজেদের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সমাজের জন্য, দেশের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে হবে। আর যদি আমরা কম আত্মবিশ্বাসীদের দলে পড়ি তাহলে আমাদের চেষ্টা করতে হবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে। তাহলে আমরা দেশ ও দশের কল্যাণে কাজে লাগতে পারব। এসো এখন আমরা আত্মবিশ্বাসী ও কম আত্মবিশ্বাসী মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য দেখা যায় তা বোঝার চেষ্টা করি-
| আত্মবিশ্বাসী মানুষ | কম আত্মবিশ্বাসী মানুষ |
| অন্যের কথা শুনেই প্রভাবিত হয় না। আগে তা বুঝে, ভেবে তারপর সিদ্ধান্ত নেয় বা কাজ করে। | অন্যরা যা বলে তা-ই বিশ্বাস করে। সত্য-মিথ্যা যাচাই করে না, ভেবে-চিন্তেও দেখে না। |
| সবসময় নিত্য নতুন ভালো কাজ অংশ নিতে প্রস্তুত থাকে এবং সুযোগ পেলেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। | নতুন কিছু করতে ভয় পায়, কোনো কাজে অংশ নিতেও ভয় পায়। |
| নিজে কোনো ভুল করলে তা স্বীকার করে এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। | নিজের ভুল স্বীকার করতে ভয় পায়, সবসময় ভুলগুলোকে ঢেকে রাখতে চায়। |
| পরিবর্তনের কথা শুনেই ভয় পেয়ে যায় না; সম্ভব হলে অংশগ্রহণ করে। | যে কোনো পরিবর্তনের কথা শুনেই ভয় পেয়ে যায়। |
| যারা আত্মবিশ্বাসী তারা অন্যের কথা বা মতামতকে মূল্যায়ন করে; সবার সাথে বিনয়ী আচরণ করে। | যারা কম আত্মবিশ্বাসী তারা অন্যের কথা শুনতে চায় না। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখায় না। তারা আসলে অন্যের কথা বা মতামত শুনতে ভয় পায়। |
| ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না, বরং ঝুঁকি থাকলে খুব সাবধানী হয়ে সামনে এগিয়ে যায়। | যেকোনো ঝুঁকি নিতে ভয় পায়, ঝুঁকির ভয়ে কাজ এড়িয়ে চলে। |
| ভালোর কোনো শেষ নেই, কাজেই সবসময় আরও ভালো করার চেষ্টা করে। | এদের মধ্যে কাজ ফেলে রাখার মানসিকতা দেখা যায়। |
কাজ আমরা তো সবাই কমবেশি আত্মবিশ্বাসী, তাই না? এসো আজ আমরা প্রত্যেকে আমাদের নিজেদের জীবন থেকে একটি করে গল্প/ঘটনা লিখব যেখানে আত্মবিশ্বাসের পরিচয় পাওয়া যায়। আমরা কিন্তু আত্মমর্যাদাবান, আর যারা আত্মমর্যাদাবান তারা অন্যের লেখা দেখে লেখে না। যারা নিজে নিজে লেখার চেষ্টা করে না তারা কিন্তু আত্মমর্যাদাবান নয়। লেখা শেষ করে আমরা সবাই মিলে শান্ত হয়ে বসব। শিক্ষক আমাদের একজন একজন করে নিজের লেখা পড়ে শোনাতে বলবেন। আমরা সবাই শিক্ষকের কথা শুনব এবং সে অনুযায়ী কাজ করব। লেখা শেষে আমরা সবাই মিলে আমাদের লেখাগুলো দিয়ে খুব সুন্দর দেয়াল পত্রিকা তৈরি করব। অথবা আমরা আমাদের লেখাগুলো আলাদা আলাদা পৃষ্ঠায় লিখে সেলাই করে বইও বানাতে পারি। শক্ত কাগজের মলাট বানিয়ে তার উপর গমের নাড়া বা রং দিয়ে বইয়ের নাম লিখতে পারি। বইয়ের নাম দিতে পারি- "আত্মবিশ্বাসী আমরা"। বিশেষ দ্রষ্টব্য: দেয়াল পত্রিকা তৈরি বা বই বানানোর কাজটি আমরা সবাই মিলে শ্রেণিতে বসে করব। বাড়ির কাজ হিসেবে নেব না বা একজন শিক্ষার্থীর উপর দায়িত্ব দিয়ে সবাই নিজেকে অলস প্রমাণ করব না।
|
বাদল খুব আত্মবিশ্বাসী। তোমাদের মতো সেও তার জীবনের একটি ঘটনা বলবে যেখানে আমরা তার আত্মবিশ্বাসের পরিচয় পাব। চলো আমরা বাদলের মুখ থেকে শুনি-
আমার নাম বাদল। আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। আজ আমি আমার জীবন থেকে আত্মবিশ্বাসের একটি গল্প বলবো। একবার আমাদের গ্রামে খুব ঝড় হলো। ঝড়ে উড়ে গেলো বড়ো বড়ো গাছ। বেশিরভাগ ঘরের চাল উড়ে গেল। এত বড়ো ঝড় কেউ নাকি আগে দেখে নি। আহত হলো অনেক মানুষ। বড়ো রাস্তায় গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। কীভাবে এই আহত মানুষের চিকিৎসা হবে, কীভাবে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাবে- তা নিয়ে সবাই চিন্তা করছে। গ্রামের মোড়ে সমবেত হয়ে সবাই পরামর্শ করছেন কীভাবে কী করা যায়।
সবার মন খারাপ, আহত লোকদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা প্রয়োজন কিন্তু কোনো উপায় বের করা যাচ্ছে না। আমার মাথায় হঠাৎ এক বুদ্ধি এলো। আমি সবার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম- আমি হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তার ডেকে আনতে পারি। আমার খুব ভয় করছিল, সবাই ভাবছিল আমি যেতে পারব কি না। আমি বললাম, "আহতদের চিকিৎসা করা দরকার, বড়োরা সবাই মিলে যদি তাড়াতাড়ি ঘর-বাড়ি ঠিক না করে তাহলে আবার বৃষ্টি এলে খুব সমস্যা হয়ে যাবে। তাছাড়া আমি খুব ভালো দৌড়াতে পারি। আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না, শহর তো মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে। আমি ঠিকই ডাক্তার ডেকে আনতে পারব"। আমার একথা শুনে গ্রামের এক মুরুব্বি আমার হাতে ডাক্তার সাহেবকে লেখা একটি চিঠি ধরিয়ে দিয়ে রওয়ানা হয়ে যেতে বললেন। তিনি সুস্থ সবাইকে গ্রামের ঘর-বাড়ি ও রাস্তা-ঘাট মেরামতের জন্য কাজে লেগে যেতে বললেন। আমি ২ ঘণ্টা পর ডাক্তার সাহেব আর তার ব্যাগ ভর্তি ওষুধ-পত্র নিয়ে ফিরলাম। গ্রামের সবাই আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করলেন। মুরুব্বিরা বললেন, "বাদল আমাদের গর্ব"।
Read more