এসো নিচের ঘটনাগুলো পড়ি
ঘটনা ১: হাসান সাহেব গ্রামের সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ ও সম্মানিত ব্যক্তি। গ্রামের সবাই তাকে খুব শ্রদ্ধা করে। তিনি ছিলেন একজন কৃষক। তার তিন ছেলে। তিন ছেলেকেই তিনি লেখাপড়া করিয়েছেন। তার বড়ো ছেলে লেখাপড়া শেষ করে কৃষিকাজ করে। তিনি নিজেদের জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করেন। মেজো ছেলে ঢাকার একটি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি তাদের গ্রামের একটি হাসপাতালের ডাক্তার। আর ছোটো ছেলে লেখাপড়া শেষ করে বর্তমানে তাঁতের কাজ করেন। গ্রামের কিছু লোক হাসান সাহেবের দুই ছেলের পেশা নিয়ে ঠাট্টা করে। তারা বলে লেখাপড়া করার পরও তার দুই ছেলে কৃষিকাজ ও তাঁতের কাজ করে। ছেলেদের পেশা নিয়ে হাসান সাহেবের কোনো দুঃখ নেই, বরং তিনি আনন্দিত। কারণ তিনি জানেন সব কাজেরই আলাদা সম্মান আছে।
ঘটনা ২: কাপড় তৈরি করার জন্য সুতা বানানোর যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন আর্করাইট। ১৭৩২ সালে যুক্তরাজ্যের প্রেসটন শহরে তার জন্ম। তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তিনি কখনো বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পান নি। নিজে নিজে যা পড়েছিলেন তাই ছিল তার সম্বল। তিনি তার পরিবার চালানোর জন্য চুলকাটার দোকানে কাজ করতেন। ঐ দোকানে কাজ শিখে তিনি নিজেই একটি দোকান খুলেন ও পরচুলা লাগানোর ব্যবসায় শুরু করেন। ঐ সময় অনেকে তার এ পেশাকে নীচুশ্রেণির কাজ বলে টিটকারি করত। তিনি বলতেন কাজ যেরকমেরই হোক না কেন সেটা তো একটি কাজ। কোনো কাজই মানুষকে কখনো ছোটো করে না।
ঘটনা ৩: প্লেটো একজন বিশ্ববিখ্যাত দার্শনিক। ইউরোপের গ্রিসে তাঁর জন্ম। তিনি ছিলেন বিভিন্ন বিষয়ে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী। তিনি আর এক বিশ্ববিখ্যাত জ্ঞানতাপস এরিস্টটলের শিক্ষক ছিলেন। এরিস্টটল ছোটোবেলা থেকেই প্লেটোর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। একবার প্লেটো বিশ্বকে জানতে ও জ্ঞান আহরণের জন্য বিশ্বভ্রমণে বের হলেন। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে তিনি মিসরে এসে উপস্থিত হলেন। মিসরে এসে তিনি অর্থশূন্য হয়ে পড়েন। এরপর তিনি তার পথের খরচ মেটানোর জন্য মাথায় করে মিসরের পথে পথে তেল বিক্রি করতেন। মিসরের মানুষ অবাক বিস্ময়ে তাঁর একাজ দেখত। তিনি বলতেন, "উন্নত কাজ করে উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া যায় না বরং যেকোনো কাজে কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ী হলেই উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হওয়া যায়"।
| কাজ তোমরা তিনটি দলে ভাগ হয়ে প্রত্যেক দল একটি করে গল্প পড়ে আলোচনা কর যে কেন গল্পে উল্লিখিত কাজটি অবহেলা করার মতো নয় বরং সম্মানের। আলোচনার পর প্রত্যেক দল নিজ নিজ গল্পের কাজটি যে সম্মানজনক তা ব্যাখ্যা করে উপস্থাপন কর। *এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |
আমরা প্রাত্যহিক জীবনে জীবনধারণ কিংবা ভালোভাবে বাঁচার জন্য বিভিন্ন কাজ করে থাকি। কেউ বা কৃষিকাজ, তাঁতের কাজ, মুচির কাজ আবার কেউ বা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নানান কাজ করে থাকি। মনে রাখবে কোনো কাজই ছোটো নয়; সব কাজই সমান। সততা, ধৈর্য, মনোযোগ, নিয়মানুবর্তিতা ও দক্ষতার সাথে যে কাজই তুমি কর না কেন তা হবে অত্যন্ত সম্মানজনক এবং তাতে তুমি সফলতা লাভ করবে। কেউ যদি শ্রমিক হয় এবং সততা, নিষ্ঠা, মনোযোগ, নিয়মানুবর্তিতা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে তাহলে তা হবে সম্মানজনক। আবার কেউ যদি বড়ো কর্মকর্তা হয়েও অসততা, অবহেলা, কাজে ফাঁকি দেওয়া ও মিথ্যার আশ্রয় নেন তাহলে তা হবে অসম্মানজনক ও অমর্যাদাকর।
| কাজ প্রত্যেকে যেকোনো একটি কাজ বা পেশা চিহ্নিত কর। কাজটি যে সম্মানজনক এর পক্ষে দশটি বাক্য লেখ এবং উপস্থাপন কর। *এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |
Read more