আমরা প্রায়ই শুনে থাকি মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। কিন্তু কেন এবং কীভাবে মানুষ সৃষ্টির সেরা?
পৃথিবীর সব প্রাণী খাবার সংগ্রহের জন্য পরিশ্রম করে, বেঁচে থাকার জন্য কষ্ট করে। একবার ভেবে দেখো, মানুষের চেয়ে বাঘ, সিংহ কিংবা হাতি কতো বেশি শক্তিশালী। তবুও হাতি মানুষকে নয় মানুষই হাতিকে নানা কাজে ব্যবহার করে। পাখি কতো সহজে নীল আকাশে উড়ে বেড়ায়। নীল আকাশই পাখির সীমানা। মানুষ নীল আসমান পার হয়ে পৌঁছে গেছে চাঁদে। মানুষ প্রকৃতির দানকে ব্যবহার করছে তার নিজের মতো করে। এ সবই সম্ভব হয়েছে তার সৃজনশীলতার কারণে।

গরমের দিনে প্রচণ্ড তাপে আমাদের ঠাণ্ডা পানির তৃষ্ণা লাগে। তাই সৃজনশীল মানুষ তৈরি করেছে রেফ্রিজারেটর যা আমরা সংক্ষেপে ফ্রিজ নামে চিনি। আকাশের বিদ্যুৎকে বেঁধে নিজের কাজে লাগানো আজ আর কল্পনা নয়, একেবারে সত্যি। এটা সম্ভব হয়েছে মানুষের সৃজনশীল ভাবনা আর নিত্য নতুন উপায় উদ্ভাবনের ফলে।
তোমাদের চারপাশে যারা বসবাস করে তাদের সবার কাপড়-চোপড় কি একই রকম? দেখো কতো বাহারি রং, তাতে কতো রকম নকশা; একেকটা পোশাক আবার একেক রকম। গলার কাছে, লম্বায়, হাতার নকশায় পার্থক্য আছে তাই না? আচ্ছা কখনো কি ভেবে দেখেছো যারা এসব পোশাক বানায়, নতুন রকমের পোশাক, নতুন নকশা আর রং দিয়ে তারা এসব কীভাবে পারে? সৃজনশীল চিন্তা করে বলেই তাঁরা পারেন। তোমাদের চারপাশের বাড়িঘরগুলো দেখো। এক একটি বাড়ি-ঘরের নকশা বানাবার উপকরণ একেক রকম। এর মধ্যেও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটেছে। আবার দেখ, তোমাদের মধ্যে কেউ সবসময় বেশ পরিপাটি হয়ে থাকে, কেউ বা আর সবার চেয়ে

আলাদাভাবে চুল বাঁধে, কেউ বা খুব সুন্দর করে কথা বলে, কেউ বা কাগজ দিয়ে অনেক কিছু বানাতে পারে, কেউবা অন্য কারও গলা অনুকরণ করে কথা বলতে পারে, এসবই কিন্তু সৃজনশীলতার উদাহরণ। নতুনভাবে কিছু করার মধ্যে লুকিয়ে আছে সৃজনশীলতা। এখন ভেবে দেখো, যদি সৃজনশীলতা না থাকত তবে হয়তো সবাই একই রঙের, একই নকশার, একই রকম পোশাক পরত, সব বাড়ি-ঘর দেখতে একই রকম হতো। সেটা হয়ত ভালো হতো না। তাছাড়া সৃজনশীলতা না থাকলে আমরা হয়ত আজও পাহাড়ের গুহায় বসবাস করতাম, কুড়ানো ফলমূল আর গাছের শেকড়-পাতা খেয়ে থাকতে হতো। এমনকি সৃজনশীলতা না থাকলে পোশাকও আবিষ্কার করা সম্ভব হতো না। কাজেই ভেবে দেখ, সৃজনশীলতা আমাদের কতো প্রয়োজন?
কাজ এসো প্রত্যেকে ছোট্ট করে একটা অনুচ্ছেদ লিখি।
|
সৃজনশীলতার অনুশীলন: আমরা কিছু কাজ করবো যেগুলো আসলে সৃজনশীলতার অনুশীলন। প্রথমেই এসো আমরা নিচের বামপাশের ছবির সাথে ডানপাশের পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ছবি দাগ টেনে মেলাই-

কাজ উপরের ছবিগুলো থেকে যে কোনো একটি ছবি বেছে নাও। ছবির বস্তুটিসম্পর্কে নিজ নিজ খাতায় ১০-১২ টি বাক্যের একটি অনুচ্ছেদ লিখ। অনুচ্ছেদের নিচে তুমি ঐ বস্তুর ছবি আঁকো এবং তাতে রং কর।
|
Read more