চল আত্মমর্যাদাবান হই (পাঠ ১১ ও ১২)

কর্ম ও মানবিকতা - কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা - সপ্তম শ্রেণি | NCTB BOOK

632

আগের পাঠে আমরা আত্মমর্যাদার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জেনেছি। এই পাঠে আমরা একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানব।

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের প্রত্যেকের আত্মমর্যাদাবান হওয়া প্রয়োজন। একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:

কাজ
প্রত্যেকে নিজের পরিচিত একজন আত্মবিশ্বাসী মানুষ সম্পর্কে ২-৩ মিনিট কথা বলবে।
*এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে।

আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হওয়া কেন জরুরি?

আমাদের সবার আত্মমর্যাদাবান হওয়া উচিত। আত্মমর্যাদাহীন মানুষ একজন পরিপূর্ণ মানুষ হতে পারে না। যার আত্মসম্মান নেই সে যে কোনো অন্যায় করতে পারে, দুর্নীতি করতে তার বাধে না, অন্যের জিনিস না বলে নিতেও তার সঙ্কোচবোধ হয় না। যারা এসব করে তাদের আত্মমর্যাদাবোধে ঘাটতি রয়েছে। আমাদের চারপাশে এমন অনেকে আছে যারা নানা ধরনের দুর্নীতির সাথে যুক্ত। যারা জনসাধারণের সম্পদ নষ্ট করে নিজের উদর পূর্তি করে- তাদের আত্মমর্যাদা নেই। একজন আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ দেখায় না। একবার ভেবে দেখো তো, সবাই আত্মমর্যাদা নিয়ে চললে দেশ ও সমাজের চিত্র কেমন হতো?

ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বদেশ। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন আমাদের করতে হবে। লাখো শহিদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমাদের প্রয়োজন আত্মমর্যাদাবান মানুষ। আত্মমর্যাদাবান মানুষ একদিকে যেমন নির্ভীক দেশপ্রেমিক হয় তেমনি সৎ, সাহসী ও পরিশ্রমী হয়। স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের তাই প্রয়োজন যোগ্য ও আত্মমর্যাদাবান নাগরিক।

দেশের নাগরিক হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য। একজন আত্মমর্যাদাবান নাগরিক দেশের নিয়ম-কানুন ঠিকভাবে পালন করেন। দেশের উন্নতি তখনই সম্ভব হবে যখন দেশের সব নাগরিক যথাযথভাবে দেশের নিয়ম-কানুন পালন করবে। আমরা সবাই আমাদের দেশকে অনেক ভালোবাসি। আমরা সবাই চাই আমাদের দেশ হয়ে উঠুক লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্নে দেখা বাংলাদেশ। তাই আমাদের প্রত্যেকের আত্মমর্যাদাবান হওয়া উচিত।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...