করোতি কিরিযং নিম্ফা 'দেতী' তি কারকং।
যা ক্রিয়ার কার্য নিষ্পন্ন করতে সাহায্য করে তাকে কারক বলে।
কারক ছয় প্রকার। যথা- কর্তা (কত্তা); কর্ম (কম্ম); করণ (করণ); সম্প্রদান (সম্পদান); অপাদান (অপাদান); এবং অধিকরণ (ওকাস)।
১। কর্তৃ কারক (কত্তা কারক)
যো করোতি সো কত্তা।
যে ক্রিয়া সম্পাদন করে সে কর্তা।
যথা- রামো গচ্ছতি = রাম যায়।
মাতা পুত্তং পঠযতি = মা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
২। কর্ম কারক (কম্ম কারক)
যং করোতি তং কম্মং।
কর্তার ক্রিয়ার দ্বারা যা হয় তাকে কর্ম কারক বলে। যথা- সো ভত্তং ভঞ্জতি = সে ভাত খাচ্ছে।
৩। করণ কারক (করণ কারক)
যেন বা কষিরতে তং করণং।
যার দ্বারা কর্তার ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয় তাকে করণ কারক বলে। যথা- সো ফরসুনা রুক্সং ছিন্দতি সে কুঠারের সাহায্যে বৃক্ষ ছেদন করছে। সো নেত্তেন চন্দং পস্সতি = সে চক্ষু দ্বারা চন্দ্র দেখছে।
৪। সম্প্রদান কারক (সম্পদান কারক)
যস্স দাতুকামো রোচতে বা ধারযতে বা তং সম্প্রদানং। কর্তা যাকে দান করতে ইচ্ছা করেন, যার প্রতি কর্তার রুচি উৎপন্ন হয় এবং যার নিকট কর্তা ঋণগ্রস্ত তাকে সম্প্রদান কারক বলে। যথা- ভিক্ষুস অন্নং দেহি ভিক্ষুকে অন্ন দান কর।
৫। অপাদান কারক (অপাদান কারক)
যস্মা দপেতি ভযং আদত্তে বা তদ অপাদানং।
যা থেকে ভয়, গমন, ভীতি উৎপন্ন হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। যথা- রুক্মস্মা পততি ফলং বৃক্ষ থেকে ফল পড়ছে।
৬। অধিকরণ কারক (ওকাস)
যে ধারো তং ওকাসং।
যা ক্রিয়ার আধার তাকে অধিকরণ কারক বলে। যথা- আকাসে বিহগা বিচরপ্তি পাখিরা আকাশে বিচরণ করে।
বিভক্তিভেদ (Case endings)
যার দ্বারা কারক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় তাকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দ্বারা কারকের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। কিন্তু কারক ও বিভক্তি এক নয়। একই বিভক্তি বিভিন্ন কারকে ব্যবহার করা যায়। তার ফলে কারকের পরিবর্তন হয় না। বিভক্তি সাত প্রকার: যথা- প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী।
প্রথমা বিভক্তি (পঠমা বিভত্তি)
১। লিঙ্গথে পঠমা- লিঙ্গার্থে শব্দের উত্তর প্রথমা বিভক্তি হয়। যথা- বুদ্ধ, কঞঞা (কন্যা); ফলং।
২। কত্তরি চ- কর্তৃকারকে পঠমা বিভক্তি হয়। যথা- দারকো রোদতি।
৩। করণ-কম্মে- কর্মবাচ্যে কর্মে পঠমা বিভক্তি হয়। যথা- বুদ্ধেন দেসিত ধম্মো বুদ্ধ কর্তৃক দেশিত ধর্ম।
৪। নামাদিযোগে - নাম প্রভৃতি অব্যয় যোগে পঠমা বিভক্তি হয়। যথা পসনেদি নামকো রাজা কোসল রঠে রজ্জং করি = প্রসেনজিং নামে এক রাজা কোশল রাজ্যে রাজত্ব করতেন।
দ্বিতীয়া বিভক্তি (দুতিযা বিভত্তি)
১। কম্মানি দুতিযা - কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যথা-দাসো কম্মং করোতি।
২। কালদ্ধানং অচ্চন্ত সংযোগে কাল সস্থানের সঙ্গে কোন দ্রব্য, গুণ বা ক্রিয়ার নিবিড় সম্পর্কে বোঝালে সেই কাল বা পদবাচক শব্দের উত্তর দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যথা থেরো মাসং ঝাযতি। স্থবির একমাস ধরে ধ্যান করছেন।
৩। কম্মম্পবচনযুত্তে - কর্মপ্রবচনীয় পদের প্রয়োগে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। এটা অনু, পতি, পরি, অভি- ভাগ, সহ ও হীন অর্থে প্রযুক্ত হয়। যথা পব্বতং অনু বায়ু পর্বতের দিকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে।
৪। গতি - বুদ্ধি-ভুজ-পঠ- হর- করসযা দীনং কারিতে বা- গতিবোধক, বুদ্ধি বোধক এবং ভুজ, মঠ, হর, কর, সর ইত্যাদি ধাতু ণিজন্ত হলে ণিজন্ত ক্রিয়ার কর্ম বিকল্পে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যথা- মাতা পুত্তং বিজ্জালযং গমযতি = মাতা পুত্রকে বিদ্যালয়ে প্রেরণ করছেন।
৫। কুচি দূতিযা ছঠিনং অথে ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থে কখনও কখনও শব্দের উত্তর দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যথা- তং খো পন ভগবন্তং এবং কল্যাণো কিত্তিসদ্দো অব্বুগতো সেই ভগবানের এ রকম সুযশ উত্থিত হয়েছে।
তৃতীয়া বিভক্তি (ততিযা বিভত্তি)
১। করণে ততিযা করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যথা সো পাদাসা গচ্ছতি সে পায়ে হাঁটছে।
২। কত্তরি চ-কর্ম ও ভাব বাচ্যে কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যথা- স্বাস্থাতো ভগবতা ধম্মা = ভগব কর্তৃক ধর্ম সুন্দরভাবে ব্যাখ্যাত হয়েছে।
৩। সহাদিযোগে চ- সহ, অলং, কিং, সম্পিং, বিনা ইত্যাদি শব্দের যোগে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যথা- পিতা পুত্তেনসহ গচ্ছতি = পিতা পুত্রের সংগে যাচ্ছে।
৪ । হেতু অথে চ - হেতু অর্থে এবং হেতু শব্দযোগে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যথা সীলেন সুদ্ধিং হোতি = শীলের দ্বারা শুদ্ধ হয়।
চতুর্থী বিভক্তি (চতুখী বিভত্তি)
১। সম্পদানে চতুর্থী - সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যথা সো ভিক্ষুস্স চীবরং দদাতি = সে ভিক্ষুকে চীবর দান করছে।
২। আরোচনাখে- জ্ঞাপনার্থে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যথা- আমন্তযামি বো ভিবে হে ভিকখবে, আপনাদের আহবান করছি।
৩। নিমিত্তথে বা তদখে নিমিত্ত বা তদর্থবাচক শব্দের উত্তর চতুর্থী বিভক্তি হয়। যথা ভিষ্ণু ভিক্কায চরতি = ভিক্খ ভিকখবে জন্য বিচরণ করছেন।
৪। অলমথে নিষ্প্রয়োজন বা সমকক্ষ অর্থে অলং শব্দ যখন প্রযুক্ত হয় তখন চতুর্থী বিভক্তি হয়। যথা মল্লো মল্লস অলং।
পঞ্চমী বিভক্তি (পঞ্চমী বিভত্তি)
১। অপাদানে পঞ্চমী-অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যথা- রুদ্ধস্মা ফলং পততি = বৃক্ষ থেকে ফল পড়ছে।
২। হেতুখে- হেতু অর্থে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যথা কেন হেতুনা ত্বং ইধাগতো = কিসের জন্য তুমি এখানে এসেছ।
৩। দিসাযোগে দিকবাচক শব্দযোগে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। অবীচিতো উপরি অবীচি নরকের উপরে।
৪। অন্ধান-কাল নিম্মানে- স্থান ও কালের পরিধি নির্ণয় করতে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যথা- ততো পঠায তে নিহতমানা অহেসুং = তখন থেকে তারা হতমান হল।
ষষ্ঠী বিভক্তি (হট্টী বিভত্তি)
১। সামিসিং ছট্টী স্বামী বা সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যথা রঞ্জঞো সাসনং রাজার আদেশ।
২। নির্ধারণে ছট্টী একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু হতে একটির উৎকর্ষ বা অপকর্ষ অবধারণ করাকে নির্ধারণ বলে। নির্ধারণে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যথা পসুনং সীহো সুরতমো পশুদের মধ্যে সিংহ অধিক সাহসী।
৩। অনাদরে চ- অনাদর বা অবজ্ঞা বুঝালে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যথা- সো রোদন্তস দারক পব্বজি। ছেলেটির ক্রন্দন সত্ত্বেও তিনি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করলেন।
৪। ততিযা সত্তমীঞ্চ তৃতীয় ও সপ্তমীর অর্থে কখনও কখনও ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যথা পুস্স বুদ্ধং পূজেতি = ফুল দিয়ে বুদ্ধ পূজা করা হয়।
যে ক্রিয়া পরিসমাপ্তি বা শেষ নির্দেশ করে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। অসমাপিকা ক্রিয়া দুভাবে গঠিত হয়।
১। ত্বা প্রত্যয় (Gerund)
ধাতুর উত্তর ত্বা, য প্রত্যয় যোগ করে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে Gerund বলে। এ জাতীয় অসমাপিকা ক্রিয়া দুটি ঘটনার ওপর নির্ভরশীল। যেমন- বাড়ি এসে আমি তাকে দেখলাম- ঘরং আগস্থা অহং তং পসিং। এ অসমাপিকা ক্রিয়া বাংলায় 'ইয়া' (যাইয়া, গিয়ে) এবং ইংরেজিতে 'ing' (going) থাকে। এ সমস্ত অসমাপিকা ক্রিয়াই পালিতে 'ত্বা' প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়।
ক. ত্বা প্রত্যয় যোগে (Gerund)
√গম = গন্থা; √পিচ = পচিত্বা; √লভ লভিত্বা, লম্বা; √দা = দত্বা; √নি = নেতৃা; √ভিজ = ভুত্বা ইত্যাদি।
খ. য প্রত্যয় যোগে:
√কম = কৰ্ম্ম; √গম = গম্ম; √চিন্ত = চিন্তিয়; √ভিজ = ভূজ্জেয্য।
২। তুং (তুম) প্রত্যয় (Infinitive)
ধাতুর সাথে তুং, তুন, তাবে, তুষে এবং তাযে প্রত্যয় যোগ করে ওহভরহরঃরাব গঠিত হয়। বাংলায় 'আসতে', 'আনতে' এবং ইংরেজিতে 'to come', 'to bring' প্রভৃতি যে অসমাপিকা ক্রিয়া থাকে সেগুলো পালিতে "তুং' প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়।
যেমন- সে জল আনতে নদীতে গেল সো উদকং আনেতং নদিযং গচ্ছি।
ক. তুং প্রত্যয় যোগে:
√পচ = পচিতুং; √সু = সোতুং; √ছিদ = ছিন্দিতং ইত্যাদি।
খ. তাবে, তুয়ে এবং তায়ে প্রত্যয়যোগে:
√দা = দাতবে; √মির = মরিতযে; √দিস = দক্তৃিতাযে।
ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
ধাতুর উত্তর অন্ত, মান, তব্ব ইত্যাদি প্রত্যয়যোগে ক্রিয়াবাচক বিশেষণ গঠিত হয়। এটা বিশেষ্য পদের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্রিয়াবাচক বিশেষণ তিন প্রকার। যথা (১) বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণ (২) অতীত ক্রিয়াবাচক বিশেষণ; (৩) ভবিষ্যৎ ক্রিয়াবাচক বিশেষণ।
১। বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
ধাতুর সঙ্গে অন্ত, মান, আন, অং ইত্যাদি প্রত্যয়যোগে বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণ গঠিত হয়। যেমন-√পচ- পচং, পচন্ত; √ভূ- ভবং, ভবন্ত; √কর- করং, করন্ত; √পা-পিবং, পিবন্ত; √গম- গচ্ছং, গচ্ছন্ত। √দা- দদমান, দদান; √সু-সুণমান, সুত্বান।
২। অতীত ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
অতীত ক্রিয়াবাচক বিশেষণ ত, তবস্তু, তাবী প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়। যথা-
√নিহা- এ্যাত; √জী-জীত; √ভূ- ভূত; √ভূজ- ভুত্ত; √বুধ- বুদ্ধ; √চির- ছিন্ন; √মির- মত; √দিন- দন্ত; √ভিজ- ভত্ত্বা;
√জি- জিতা; √হ- হ্রতা।
ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১। কারক কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকার কারকের উদাহরণ দাও।
২। অসমাপিকা ক্রিয়া কীভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা সহ উদাহরণ দাও।
৩। ক্রিয়াবাচক বিশেষণ কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেকটির সংজ্ঞা সহ উদাহরণ দাও।
৪। কী কী অর্থে তৃতীয়া বিভক্তি হয়? বিস্তারিত আলোচনা কর।
৫। সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও:
নামাদিযোগে, কত্তরি চ; আরোচনাখে; নিদ্ধারণে ছট্টী; নিমিত্তথে বা তদখে; হেতুথে; করণ-কম্মে
খ. সংক্ষেপে উত্তর দাও:
১। 'ত্বা' প্রত্যয় কিভাবে গঠিত হয়? উদাহরণ দাও।
২। বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণ কাকে বলে? ব্যাখ্যা কর।
৩। সম্প্রদান কারক কাকে বলে উদাহরণ সহ বল।
৪। কম্মানি দুতিযা বলতে কী বোঝ?
৫। চতুর্থ বিভক্তি প্রয়োগের চারটি উদাহরণ দাও।
গ. সঠিক উত্তরে টিক (√) চিহ্ন দাও:
১। অসমাপিকা ক্রিয়া কোনটি?
ক. গচ্ছতি
খ. আগমিংসু
গ. খাদিত্বা
ঘ. কম্মং
২। বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
ক. পচন্ত
খ. পেয্য
গ. করণীয়
ঘ. ছিন্ন
৩। কর্তৃ কারকের উদাহরণ কোনটি?
ক. সো গচ্ছতি
খ. নেত্তেন চন্দং পস্সতি
গ. রুম্মা পততি ফলং
ঘ. বুদ্ধেন ধম্মং দেসিতো
৪। কারক কত প্রকার?
ক. চার
খ. পাঁচ
গ. ছয়
ঘ. সাত
৫। 'ভিক্ষুস অন্নং দেহি'। এটা কোন কারকের উদাহরণ?
ক. করণ
খ. সম্প্রদান
গ. অপাদান
ঘ. অধিকরণ
Read more