দুই বর্ণ পরস্পর মিলিত হলে ঐ মিলনকে সন্ধি বলে।
সন্ধি তিন প্রকার। যথা: সরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও নিগৃহিত বা অনুস্বার সন্ধি।
১। সর সন্ধি
স্বরবর্ণ ও স্বরবর্ণে মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বর সন্ধি বলে। যথা: নোহি এতং নোহেতং; কো + অসি = কোসি।
২। ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যঞ্জনবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ মিলে যে সন্ধি হয় তার নাম ব্যঞ্জন সন্ধি। যথা: মচ্চুনো পদং মচ্চুনোপদং, মুনি + চরে = মুনীচরে।
৩। নিগৃহিত বা অনুস্বার সন্ধি
নিগৃহিত বা অনুস্বারের সাথে স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের যে সন্ধি হয় তাকে নিগৃহীত বা অনুস্বার সন্ধি বলে। যথা: সচচং + চ = সচচঞ্চ; তং পি তম্পি
সন্ধির সংজ্ঞাসহ উদাহরণ
স্বর সন্ধি
১। সরা-সরে লোপং
স্বরবর্ণের পর স্বরবর্ণ থাকলে পূর্বস্বর লুপ্ত হয়। যথা- এক উন একুন; পঞ্চ ইন্দ্রিযানি পঞ্চিন্দ্রিযানি; অথ + এব = অথেব; পক্ক + ওদন পক্কোদন; সন্ধা ইধ সন্দ্বীধ; বুদ্ধ উত্পাদো বুদ্ধোপ্পাদো; ন এব নেব; পন + এতং = পনেতং।
২। বা পরো অসরূপা
পরস্পর সন্নিহিত স্বরবর্ণ যদি একরূপ হয় তাহলে পরবর্তী স্বরবর্ণ লোপ পায়। যথা- হ্রত্বা অপি হ্রত্বাপি; মিগী + ইব = মিগীব; চত্তারো + ইমে চত্তারোমে; ইতি অপি ইতিপি; তে + অপি তেপি।
৩। কুচা সবপ্নং লুত্তে
পূর্বের স্বরবর্ণ লুপ্ত হলে পরের স্বর কখনও কখনও অসমান প্রাপ্ত হয়। ই, ঈ, স্থানে এ কার এবং উ, ঊ স্থানে ওকার হয়। যথা- বুদ্ধস্স+ ইব বুদ্ধস্সেব; মহা + ইসি মহেসি; যথা ইদকং যথোদকং; ন + উপোতি = নোপতি; চন্দ + উদয = চন্দোদযো।
৪। দীঘং
পূর্বের ষর লুপ্ত হলে পরের ষর কুচিৎ দীর্ঘ হয়। যথা- তত্র + অহং = তত্রাহং; চ + উভযং = চুভ্যং; তথা + উপমং = তথুপমং; যানি + ইধ = যানীধ; সচে + অহং = সচাহং; কিঞ্চি অপি কিঞ্চাপি।
৫। পূব্বো চ
পরবর্তী স্বরবর্ণ লুপ্ত হলে পূর্বের স্বর কখনও কখনও দীর্ঘ হয়। যথা- কিংসু ইধ কিংসধং; সাধু + ইতি = সাধুতি; ন + অহং = নাহং; দস্সামি ইতি দস্সামীতি; বুমি + ইতি-বুমীতি।
৬। যমদন্তস্স্সা দেসো
অসমান স্বরবর্ণ পরে থাকলে পূর্বপদের অন্তঃস্থিত 'এ' কারের স্থানে কুচিৎ 'য'-কার আদেশ হয়। যথা- তে + অহং = ত্যাহং; তে + অণু = ত্যাথু; তে অজ্জ ত্যাজ্জ; মে অযং ম্যাযং; তে অসয ত্যাসয; অগ্নি + আগারে = অ্যাগারে।
৭। ইবল্লো যং ন বা
ই-বর্ণ ভিন্ন অন্য স্বরবর্ণ পরে থাকলে ই-বর্ণের সস্থানে কখনও কখনও য আদেশ হয়। যথা- ইতি + এতং = ইত্যেতং = ইচ্চেতং; ইতি + আদি ইত্যাদি ইচ্চাদি; বৃত্তি অস্ত্র বুত্ত্যস্স; পতি + অন্তং পত্যন্তং = পচ্চন্তং; বিত্তি + অনুভূয্যতে = বিভ্যনুভূয্যতে; বি + আপাদ = ব্যাপাদং; বি + অঞ্জনং ব্যঞ্জনং; বি + আকতো = ব্যাকতো।
৮। বমোদুদস্তানং
স্বরবর্ণ পরে থাকলে পূর্বপদের অন্তঃস্থিত ও-কার ও উ-কারের স্থানে কৃচিৎ ব আদেশ হয়। যথা- সো + অস্ = স্বস: খো + অ = খৃস্স; অনু এতি অন্বেতি; বহু আবাধো বহ্বাবাধো; সু আগতং = স্বাগতং; সো + অহং = স্বাহং; সো + অ = স্বস্স।
৯। দো ধস চ
স্বরবর্ণ পরে থাকলে ধ এর সম্মানে কৃচিৎ দ আদেশ হয়। যথা- ইধ অহং ইদাহং; ইধ ভিক্সবে = ইদভিকবে।
১০। সব্বোচন্তি
স্বরবর্ণ পরে থাকলে পূর্ববর্তী তি-কারের স্থানে চ আদেশ হয়। যথা- ইতি + অস্স = ইত্যস; পতি + অন্তং = পচ্চন্তং; পতি + আগমি পচ্চাগমি; অতি আসন্ন অচ্ছাসন্ন; অতি + অচ্চন্হ; জাতি + অন্ধো = জচ্চন্থো।
১১। এবাদিস রি পুঝো রসো
স্বরবর্ণের পর এব থাকলে 'এ'-র স্থানে বিকল্পে রি আদেশ হয় এবং পূর্বের স্বর হ্রষ হয়। যথা যথা + এব = যথরিব; তথা + এব = তথরিব; সা+এব সরিব।
১২। ঘ-ব-ম-দ-ন-ত-র-লা-চা-গমা।
স্বরবর্ণের পর স্বরবর্ণ থাকলে কখনও কখনও উভয় স্বরবর্ণের মধ্যে যব মদন তরল এই ব্যঞ্জন বর্ণের আগম হয়।
যথা:
য আগমে: যথা + ইদং যথযিদং; ন ইমস নযিম; পরি ওসানং পরিযোসানং; ন + ইদং = নষিদং; পরি + অন্তং = পরিযন্তং; পরি এসতি = পরিযেসতি।
ব আগমে : তি + অঙ্গিকং = তিবঙ্গিকং; প + উচ্চতি = পবুচ্চতি
ম আগমে: লহু + এসতি = লহুমেস্সতি; কসা ইব কসামিব; একং একং একমেকং; ইধ + আহ = ইধমাহ।
দ আগমে : অত্ত অর্থং অত্তদথং; সম্ম অঞা = সম্মদঞা; যাব এব যাবদেব; তাব এব = তাবদেব; য + অথং যদত্থং; কিঞ্চি এব কিঞ্চিদেব; অহু এব = অহুদেব।
ন আগমেঃ ইতো + আযাতি = ইতোনাযাতি; চিরং আযাতি চিরন্নাযাতি।
ত আগমেঃ অজ্জ+ অগ্নে = অজ্জতগৃঙ্গে; তস্মা ইহ = তস্মাতিহ; যা ইহ যস্মাতিহ।
র আগমে ঃ নি + অন্তরং নিরন্তরং; সব্বি এব নি + উত্তরো নিরুত্তরো; নি উপদ্দবো + নিরুপদ্দবো; দু+ অতিক্কমো = দূরতিক্কমো; দু + আগতং দুরাগতং; পাতু + অহোসি = পাতুরহোসি; পুন এব = পুনরেব; বি + অণু = ধিরথু; পুন + এতি = পুনরেতি; সাসপো ইব সাসপোরিব; পাত আসো পাতরাসো।
ল আগমে ৪ ছ + অভিঞা ছলাভিঞা; ছ+ আযতনং ছলাযতনং।
১৩। অবেভা অভি
স্বরবর্ণ পরে থাকলে 'অভি' উপসর্গের স্থানে 'অবভ' আদেশ হয়। যথা অভি উগতো অবভূগতো; অভি+ উদীরিতং = অবভূদীরিতং; অভি+ ওকাসো অভোকাসো।
১৪। অজুঝো অধি
স্বরবর্ণ পরে থাকলে অধি উপসর্গের স্থানে অজঝ আদেশ হয়। যথা অধি+ অভাসি = অজাভাসি; অধি ওকাসো = অজাভাসি; অধি ওকাসো = অঝোকাসো; অধি + আগমা অাগমা; অধি+ উপগতো = অকুপগতো; অধি + আসয অজঝাসয; অধি + উপেতি = অঝুপেতি।
১৫। পাস্স চন্তো রস
স্বরবর্ণ পরে থাকলে 'পা' শব্দের পরে গ আদেশ হয় এবং পা শব্দের অন্তঃস্বর হ্রস্ব হয়। যথা - পা + এব = পগেব।
১৬। গো সরে পুথসাগমো কুচি
স্বরবর্ণ পরে থাকলে পুথু শব্দের অন্তে কখনও কখনও গ আগম হয়। যথা - পুথ + এব = পুথগেব।
১৭। ইবন্ধু বপ্না ঝলা। ঝলানং ইযুবা সরে বা
অসদৃশ স্বরবর্ণ পরে থাকলে কখনও কখনও ই-বর্ণ স্থানে 'ইয়' এবং উ-বর্ণের স্থানে 'উব্' আদেশ হয়। যথা- তি+ অন্ধং = তিষদ্ধং; পঞ্চমী অন্তং পঞ্চমীযন্তং; তি+ অন্তং তিযন্তং; পুথু আসনে পুথুবাসনে; সত্তমী অথে = সত্তমীযথে।
১৮। ও সরে চ
স্বরবর্ণ পরে থাকলে 'গো' শব্দের ও কারের স্থানে অব আদেশ হয়। যথা গো অজিনং গবাজিনং; গো + এলকং = গবেলকং।
১৯। অতিস চন্তস
ই বর্ণ পরে থাকলে 'অতি'; 'ইতি' এবং 'পতি' শব্দের তি-কারের স্থানে চ-কার আদেশ হয় না। যথা অতি ইতো = অতীতো; অতি + ঈরিতং = অতীরিতং; ইতি ইতি ইতীতি; পতি + ইতো + পতীতো।
২০। তেন বা ইবপ্নে
ই বর্ণ পরে থাকলে 'অভি' এবং 'অধি' শব্দের স্থানে কখনও কখনও যথাক্রমে 'অব্ভ' এবং 'অজ্য' আদেশ হয় না।
যথাজ্জ অভি + ইজঝিতং অভিজঝিতং; অধি ঈরিতং অধীরিতং।
ব্যঞ্জন সন্ধি
১। সরা ব্যঞ্জনে দীঘং
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে কুচিৎ পূর্বস্বর দীর্ঘ হয়। যথা- দু রকখং দুরং; সম্ম ধম্মং সম্মধম্মং; খস্তি + বলং = খন্তীবলং: জাযতি + ভযং জাযতীভযং; উজ্ + চ = উচ্ছৃচ।
২। রসং
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে পূর্বের স্বর কখনও কখনও হ্রস্ব হয়। যথা- ভোবাদী নাম= ভোবাদিনাম; ভাবী + গুণেন = ভাবিগুণেন; পরা + কমো = পরক্কমো; আ+ সাদো = অসাদো; পুগ্গলা + ধম্মা = পুগ্গলধম্মা।
৩। পরদ্বেভাবো ঠানে
স্বরবর্ণের পরস্থিত ব্যঞ্জনবর্ণ কখনও কখনও দ্বিত্ব হয়। যথা-প গহো পদ্গহো; ইধ + পমাদো ইদপমাদো বিচ্ছু + লতা = বিজ্জ্বলতা; নি গতং = নিগতং; নানা পকারেহি নানাপকারেহি; জাতি সর = জাতিস্মর; বি + ভন্তো = বিবভন্তো; প + বজ্জং পব্বজ্জং; চতু দসো চতুদ্দসো; দু + সীলো = দুস্সীলো; অ+ পমাদো = অল্পমাদো; বি + ঞানং = বিজ্ঞানং; বহু + সুতো বহুসুতো; সীল + বতং = সীলব্বতং; পুন + পুন = পুনপুনং।
৪। লোপঞ্চ তত্রাকারো
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে কৃচিৎ 'সো' এবং 'এসো' শব্দের ও-কার স্থানে অ-কার হয়, এবং কখনও কখনও পূর্বস্থিত অকার সস্থানে উকার ও-কার স্থানে ওকার হয়। যথা এসো খো= এস খো; সো গচ্ছং = স গচ্ছং; সো + সীলবা = স সীলবা; সো + ভিষ্ণু স ভিষ্ণু; জানেম তং = জানেমুতং; নু + তুং = নোতুং।
৫। বঙ্গে ঘোসাঘোসানং ততিয - পঠমা
স্বরবর্ণের পরস্থিত বর্গীয় দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণের সাথে সেই বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ যুক্ত হয়। যথা- নি ঘোসো = নির্ঘোসো; পঠম + ঝানং পঠমজঝানং; অভি+ ঝাযতি অভিজ্ঝাযতি; বিং ধংসেতি বিধ্বংসেতি; মহা + ধনো = মহন্ধনো; পঞ্চ খন্ধা পঞ্চক্মন্ধা; বোধি ছাযা বোধিচ্ছাযা; নি + ঠিতং = নিঠিতং।
৬। ও-অবস
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে 'অব' শব্দের স্থানে কখনও কখনও ওকার আদেশ হয়। যথা- অব কামো = ওকামো; অব + নদ্ধা = ওনদ্ধা; অব বদতি ওবদতি; অব সানং = ওসানং।
৭। এতেসমো লোপে
বিভক্তির লোপ হলে মন গণাদি শব্দের অন্ত্য অ-কার সস্থানে ও কার হয়। যথা মন + মযং = মনোমযং; মন + সেঠো = মনোসেটঠো; অহ রত্তং অহোরত্তং; তম নুদো তমোনুদো; অয + পত্তো = অযোপত্তো; তপ + ধনো = তপোধনো; বায়ু ধাতু বাযোধাতু; তেজ কসিনং তেজোকসিনং; রহ +গতো = রহোগতো।
৮। কুচি ও ব্যঞ্জনে
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে 'অতিষ্প' এবং 'পর' শব্দের পর ওকার আগম হয়। যথা অতিষ্প খো = অতিস্পগোখো; পর + গতং = পরোগতং, পর + সহসং = পরোসহস্সং।
৯। যবতং ত-ল-ন-দকারানং ব্যঞ্জনানি চ-ল-ও-জকারত্তং।
ই বর্ণের স্থানে যকার আদেশ হলে শব্দের অন্ত্য ত্য ল্য ন্য এবং দ্য স্থানে কৃচিৎ যথাক্রমে চ ল ঞ ও জ আদেশ হয় এবং এদের দ্বিত্ব হয়। যথা- জাতি অন্ধো জচ্চন্ধো; বিপলি+ আসো বিপল্লাসো; যদি + এবং = যজ্জেবং; অপি + একচ্চে = অপেকচ্চে।
১০। কুচি পটি পতিস
স্বরবর্ণ অথবা ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে 'পতি' শব্দের কুচিৎ 'পটি' আদেশ হয়। যথা-পতি + হঞতি = পটিহঞতি।
১১। তবিপরিতুপদে ব্যঞ্জনে চ
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে 'অব' শব্দের স্থানে কখনও কখনও উকার আদেশ হয়। যথা- অব গতে = উগ্গতে; অব + গচ্ছতি = উগ্গচ্ছতি; অব গহেত্বা উগ্গহেত্বা।
নিগৃগহীত বা অনুস্বার সন্ধি
১। বঙ্গন্তং বা বঙ্গে
বর্গীয় বর্ণ পরে থাকলে অনুস্বারের স্থানে বিকল্পে বর্গের পঞ্চম বর্ণ হয়। যথা- তং + ঞাণং = তঞাণং; তং + ঠানং = তষ্ঠানং; কিং + কতো = কিঙ্কতো; সং। জাতো = সঞ্জাতো, জুতিং ধরো = জুতিনধরো।
২। সযে চ
অনুষ্কারের পর য থাকলে অনুস্বার এবং অন্তঃস্থ য উভয়ে মিলে ঞ হয়। যথা- সং+ যোগ= সঞোগ; বিসং + যোগ = বিসঞোগ; যং দেব যজ্ঞদেব; সং+ যতো = সঙ্ঞতো।
৩। নিগৃগহীতঞ্চ
স্বরবর্ণ কিংবা ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে কৃচিৎ নিগৃহীত আগম হয়। যথা- চক্ষু উদপাদি চঞ্চুং উদপাদি; অব + সিরো = অবংসিরো; অনু থুলানি অনুংথুলানি; পূর্ব্ব গমা পুরুঙ্গমা।
৪। কুচি লোপং
স্বরবর্ণ পরে থাকলে কখনও কখনও নিগ্রহীতের লোপ হয়। যথা- বিদূনং অগ্গং = বিদূনগং, তাসং অহং = তাসাহং।
কথং + অহং = কথাহং; কিং অহং ক্যাহং।
৫। ব্যঞ্জনে চ
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে কুচিৎ অনুস্বারের লোপ হয়। যথা- বুদ্ধানং সাসনং বুদ্ধানসাসনং; অরিযসচ্চানং + দস্সনং = অরিযসন্ধানদস্সনং, অবিসং হারো অবিসাহারো।
৬। পরো বা মরো
কখনও কখনও নিগৃহীতের পরবর্তী স্বরবর্ণের লোপ হয়। যথা- চক্কং ইব = চক্রংব; বীজং ইব = বীজংব; কিং+ ইতি = কিস্তি; দাতুং + অপি দাতুম্পি; ত্বং অসি = তুংসি।
৭। ব্যঞ্জনে চ বিসঞোগো
নিগৃহীতের পরবর্তী স্বরবর্ণ লুপ্ত হলে সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথমটাও লুপ্ত হয়। যথা- এবং অসস এবংস; পুপ্ফং + অত্সা = পুস্ফংসা; পুতং + অসসা = পুতং'সা।
৮। মদাসরে
স্বরবর্ণ পরে থাকলে অনুষারের সস্থানে বিকল্পে ম-কার এবং দ-কার আদেশ হয়। যথা- তং অহং = তমহং; যং + আহু = যমাহু; কিং + এতং কিমেতং; যং অনিচ্ছং যদনিচ্চং; এতং অবোচ এতদবোচ; এবং + অ = এবমস।
৯। অনুপদিষ্ঠানং বুত্তযোগতো
উপসর্গ, নিপাতাদির যোগে যে সকল সন্ধি পূর্বে বর্ণিত হয়নি, সেই স্বর, ব্যঞ্জন ও অনুস্বার সন্ধির সূত্রানুসারে তাদের রূপসিদ্ধি দেখানো হল।
১. স্বর সন্ধিতে প + অঙ্গনং পাঙ্গনং; পর আসনং পরাসনং; উপা আগতো উপাগতো; অধি + আসযো = অসযো; ধী অতিক্কমো ধীতিক্কমো।
২. ব্যঞ্জন সন্ধিতে - পরি গহো = পরিম্নহো; নি। খমতি = নিষ্ফমতি; নি কসাবো= নিক্কসাবো; দু + ভিক্সং = দুবিভক্সং; সু + গহো = সুন্নহো।
৩. অনুযার সন্ধিতে সং দিঠং সন্দিঠং; নি + গতং = নির্গতং।
১০। অং ব্যঞ্জনে নিগৃহীতং
ব্যঞ্জন বর্ণ পরে থাকলে অনুষারের ক্বচিৎ লোপ হয় না। যথা- এবং বুভে এবংবুত্তে, তং সাধু তংসাধু।
ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১। পালিভাষার সাথে বাংলাভাষার সম্পর্ক সংক্ষেপে আলোচনা কর।
২। সন্ধি কাকে বলে? সন্ধি কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেকটির সংজ্ঞা সহ উদাহরণ দাও।
৩। নিম্নের সূত্রগুলোর ব্যাখ্যা কর এবং উদাহরণ দাও:
সরাসরে লোপং; বা পরো অসরূপা; কৃচা সবপ্নং লুত্তে;
বামোদুদন্তানং; সব্বোচন্তি, পরদ্বেভাবো ঠানে; লোপঞ্চ তত্রাকারো;
বঙ্গে ঘোসা-ঘোসানং ততিয-পঠমা; পুথুস ব্যঞ্জনে;
নিগৃহীতঞ্চ; মদাসরে।
৪। সন্ধি কর:
পক্কোদন; নোপেতি; সাধুতি; পচ্চন্তং; যাবদেব; পাতরাসো; বিচ্ছুলতা; ওবদতি; পরোগতং; সঞোগ; তহং।
খ. নিচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
১। পালি ব্যাকরণ কাকে বলে?
২। পালিভাষা থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলাভাষায় আগত পাঁচটি শব্দের উদাহরণ দাও।
৩। নিগৃহীত সন্ধি কাকে বলে? দুটি উদাহরণ লেখ।
৪। লোপঞ্চ তত্রাকারো কোন সন্ধির অন্তর্গত সংজ্ঞা? তিনটি উদাহরণ দাও।
গ. সঠিক উত্তরের পাশে টিক চিহ্ন দাও:
১। পালিতে সন্ধি কত প্রকার?
ক. তিন
খ. চার
গ. পাঁচ
ঘ. ছয়
২। স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
ক. দুস্সীলো
খ. ওকামো
গ. পরোগতং
ঘ. সাধৃতি
৩। ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ কোনটি?
ক. পনেতং
খ. পব্বজং
গ. নিগ্গতং
ঘ. ক্যাহং
৪। পরবর্তী স্বরবর্ণ লুপ্ত হলে পূর্বের স্বর কখনও কখনও দীর্ঘ হয়। -এটির সংজ্ঞা কোনটি?
ক. কুচা সবপ্নং লুত্তে
খ. দীঘং
গ. পুব্বচ
ঘ. দো ধস চ
যে বিশেষ্য পদ দিয়ে সত্রী-পুরুষ-নপুংসক পার্থক্য করা যায় তার নাম লিঙ্গ। লিঙ্গ ধাতু, প্রত্যয় ও বিভক্তি বর্জিত হয়।
পালিতে লিঙ্গ তিন প্রকার। যথা পুংলিঙ্গ, ইথি লিঙ্গ (সত্রীলিঙ্গ) ও নপুংসক লিঙ্গ।
১। যেসব শব্দ পুরুষ জাতি বোঝায় তাকে পুংলিঙ্গ বলে। যথা- কুমারো, পিতা ইত্যাদি।
২। যেসব শব্দে সত্রী জাতি বোঝায় তাকে সত্রীলিঙ্গ বলে। যথা- মাতা, কুমারী, কঞা ইত্যাদি।
৩। যেসব শব্দে সত্রী বা পুরুষ কোনটাই বোঝায় না তার নাম ক্লীব লিঙ্গ। যেমন- ফল, বারি, বন ইত্যাদি।
নিম্নে লিঙ্গ পরিবর্তনের কিছু উদাহরণ দেওয়া হল:
ক. আ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের সত্রীলিঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগ হয়।
পুংলিঙ্গ
খত্তিযো (ক্ষত্রিয়)
মানুস (মানুষ)
অস (অশ্ব)
কণিষ্ঠ (কনিষ্ঠ)
সত্রীলিঙ্গ
খত্তিযা
মানুসা
অসা
কণিঠা
খ. অ-কারান্ত শব্দের উত্তর কোন কোন ক্ষেত্রে 'ঈ' প্রত্যয় যোগ হয়।
পুংলিঙ্গ
মাণব
সুন্দর
ব্রাহ্মণ
দেব
স্ত্রীলিঙ্গ
মাণবী
সুন্দরী
ব্রাহ্মণী
দেবী
গ. কতকগুলো শব্দ স্ত্রীলিঙ্গে 'নী' প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়।
পুংলিঙ্গ
মালী
দন্ডী
তপসী
মেধাবী
বিশেষণ
১। যা দ্বারা বিশেষ্যের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ পায় তাকে বিশেষণ বলে। যথা- ধবলো গো।
২। সাধারণত বিশেষ্যের যে লিঙ্গ, যে বচন ও যে বিভক্তি হয়, বিশেষণের ও সেই লিঙ্গ, সেই বচন ও সেই বিভক্তি হয়। যথা- সুন্দরো দারকো; সুন্দরী দারিকা, সুন্দরং ফলং।
৩। কতকগুলো বিশেষণের কখনও কখনও বচন, লিঙ্গ ও বিভক্তির পরিবর্তন হয় না। যেমন সতং দারকা; বীসতি চিত্তানি- একশতজন বালক, বিশ প্রকার চিত্ত।
৪। বিধেয় বিশেষণের লিঙ্গ কখনও কখনও উদ্দেশ্যের অনুযায়ী হয় না। যথা- গুণা পমাণং: পমাদো মচ্চুনো পদং গুণগুলোই প্রমাণ; প্রমাদ মৃত্যুর পথ।
বিশেষণের তারতম্য
বিশেষণের তারতম্য বোঝাতে পালিতে বেশ কিছু নিয়ম আছে। দুই পদের মধ্যে তুলনা বোঝাতে বিশেষণ পদের শেষে 'তর' বা ইয প্রত্যয় হয় এবং অনেকের মধ্যে তুলনা হলে 'তম', ইসিক, ইঠ প্রত্যয় যুক্ত হয়।
নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল:
বিশেষণ পদ
সুচি (শুচি)
পাপ
কাল
সাধু
কঠ (নিকৃষ্ট)
দুই এর মধ্যে তুলনা
সুচিতর
পাপতর
কালতর
সাধুতর
কঠিয
অনেকের মধ্যে তুলনা
সুচিতম
পাপতম
কালতম
সাধুতম
কটঠি্টঠ
মা, বা, বী, বিন প্রভৃতি প্রত্যয়ন্ত বিশেষণ শব্দের উত্তর ইধ, ইয্য, ইফ্ট ও ইসিক প্রত্যয় হলে ঐ সকল প্রত্যয়ের নিকটবর্তী পূর্ববর্তী স্বরের লোপ হয়।
গুণবা
জুতিমা (জ্যোতিষ্মান)
সতিমা (স্মৃতিমান)
মেধাবী
ধনবা
গুণিয
জুতিয
সতিয্য
মেধিয
ধনিয
গুণিঠ
জুতিষ্ঠ
সতিষ্ঠ
মেধিষ্ঠ
ধনিষ্ঠ
এমন কিছু বিশেষণ আছে যা সাধারণ নিয়মে পড়ে না। নিম্নে তার কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলঃ
অস্প (কতিপয়)
বুড্ড (বৃদ্ধ)
অস্তিক (নিকট)
গুরু (ভারী)
কনিয
সাদিয
নেদিয
গরিয
কনিষ্ঠ
সাদিঠট
নেদি্ঠট
গরিটষ্ঠ
ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১। লিঙ্গ কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণ সহ লেখ।
২। লিঙ্গান্তর কর:
খত্তিযো, অস্স, দেবী, মালিনী, তপসী, মেধাবী।
৩। বিশেষণের তারতম্যের কয়েকটি নিয়ম লিপিবদ্ধ কর।
৪। প্রত্যয়যোগে নিম্নের বিশেষণগুলোর প্রত্যেকটির তারতম্য দেখাও।
কণ্ঠ: সতিমা; ধনবা; মেধাবী; বুঢ়; অন্তিকঃ পাপ।
খ. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
১। লিঙ্গ কাকে বলে? প্রত্যেকটির দুটি করে উদাহরণ দাও।
২। বিশেষণ কাকে বলে? উদাহরণ সহ লেখ।
৩। বিশেষণের তারতম্য বলতে কী বোবা?
৪। বিশেষণের তারতম্যের সাধারণ নিয়মে পড়ে না এমন চারটি প্রত্যয়ন্ত্র শব্দের উদাহরণ দাও
গ. সঠিক উত্তরে টিক (√) চিহ্ন দাও:
১। সত্রীলিঙ্গ পদ কোনটি?
ক. সুন্দর
খ. দেব
গ. মানব
ঘ. খত্তিযা
২। পুংলিঙ্গ পদ কোনটি?
ক. কণিঠা
খ. মালিনী
গ. অসা
ঘ. মালী
৩। দুই এর মধ্যে তুলনামূলক বিশেষণ কোনটি?
ক. জুতিমা
খ. গুণবা
গ. গুরু
ঘ. মেধিয
৪। অনেকের মধ্যে তুলনার উদাহরণ কোনটি?
ক. সাধুতর
খ. ধনবা
গ. কণিষ্ঠ
ঘ. অল্প
Read more