সংজ্ঞা
১. যে শাস্ত্রে কোন ভাষা বিশ্লেষণ করে তার স্বরূপ, প্রকৃতি ও প্রয়োগরীতি বুঝিয়ে দেওয়া হয়, সে শাস্ত্রকে সে ভাষার ব্যাকরণ বলে।
২ দেশ ভেদে ভাষা নানা প্রকার। যথা- পালি, বাংলা, উর্দু, ইংরেজি, সংস্কৃত ইত্যাদি। বুদ্ধ যে ভাষায় তাঁর ধর্ম প্রচার করেছেন, তার নাম পালিভাষা।
৩. যে পুস্তক পাঠ করলে পালিভাষা শুদ্ধ করে লিখতে, পড়তে ও বলতে পারা যায় এবং ভাষা সম্বন্ধে ব্যুৎপত্তি বা জ্ঞান জন্মে তাকে পালি ব্যাকরণ বলে।
পালি ও বাংলা ভাষার সম্পর্ক
পালিভাষার সাথে বাংলাভাষার সম্পর্ক গভীর। পালিভাষা দীর্ঘদিন ভারতের জাতীয় ভাষা ছিল। বাংলাভাষা সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করতে হলে প্রথমে পালিভাষার জ্ঞান একান্ত অপরিহার্য। বিশেষত বাংলাভাষার ক্রম বিকাশের ধারা, ধ্বনি, শব্দগুচ্ছ, বাগধারা প্রভৃতি পালিভাষাও সাহিত্যের বিবর্তনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পণ্ডিতেরা স্বীকার করেছেন, বৌদ্ধ চর্যাপদের ভাষাই প্রাচীন বাংলাভাষা।]
এক হাজার বছর আগে বাংলাভাষার উদ্ভব হয়। প্রাকৃতভাষা কালক্রমে পরিবর্তিত হয়ে জনসাধারণের ভাষায় রূপ নেয়। তার পরবর্তী রূপ অপভ্রংশ। এর পূর্ববর্তী রূপ মাগধী। মাগধীভাষা পরিশীলিত হয়ে পালিভাষা নামধারণ করে বিশাল পালিসাহিত্য গড়ে উঠেছে। এ পালিভাযার ধ্বনি কখনও সোজাসুজি, কখনো প্রাকৃতের মাধ্যমে বাংলাভাষায় পরিণত হয়েছে। যেমন- কম্ম > কর্ম; হথ হস্ত > হাত; ভত্ত> ভাত; অন্ব> আম > আম; খণে খণে > ক্ষণে ইত্যাদি ।
দুই বর্ণ পরস্পর মিলিত হলে ঐ মিলনকে সন্ধি বলে।
সন্ধি তিন প্রকার। যথা: সরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও নিগৃহিত বা অনুস্বার সন্ধি।
১। সর সন্ধি
স্বরবর্ণ ও স্বরবর্ণে মিলে যে সন্ধি হয় তাকে স্বর সন্ধি বলে। যথা: নোহি এতং নোহেতং; কো + অসি = কোসি।
২। ব্যঞ্জন সন্ধি
ব্যঞ্জনবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ মিলে যে সন্ধি হয় তার নাম ব্যঞ্জন সন্ধি। যথা: মচ্চুনো পদং মচ্চুনোপদং, মুনি + চরে = মুনীচরে।
৩। নিগৃহিত বা অনুস্বার সন্ধি
নিগৃহিত বা অনুস্বারের সাথে স্বরবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের যে সন্ধি হয় তাকে নিগৃহীত বা অনুস্বার সন্ধি বলে। যথা: সচচং + চ = সচচঞ্চ; তং পি তম্পি
সন্ধির সংজ্ঞাসহ উদাহরণ
স্বর সন্ধি
১। সরা-সরে লোপং
স্বরবর্ণের পর স্বরবর্ণ থাকলে পূর্বস্বর লুপ্ত হয়। যথা- এক উন একুন; পঞ্চ ইন্দ্রিযানি পঞ্চিন্দ্রিযানি; অথ + এব = অথেব; পক্ক + ওদন পক্কোদন; সন্ধা ইধ সন্দ্বীধ; বুদ্ধ উত্পাদো বুদ্ধোপ্পাদো; ন এব নেব; পন + এতং = পনেতং।
২। বা পরো অসরূপা
পরস্পর সন্নিহিত স্বরবর্ণ যদি একরূপ হয় তাহলে পরবর্তী স্বরবর্ণ লোপ পায়। যথা- হ্রত্বা অপি হ্রত্বাপি; মিগী + ইব = মিগীব; চত্তারো + ইমে চত্তারোমে; ইতি অপি ইতিপি; তে + অপি তেপি।
৩। কুচা সবপ্নং লুত্তে
পূর্বের স্বরবর্ণ লুপ্ত হলে পরের স্বর কখনও কখনও অসমান প্রাপ্ত হয়। ই, ঈ, স্থানে এ কার এবং উ, ঊ স্থানে ওকার হয়। যথা- বুদ্ধস্স+ ইব বুদ্ধস্সেব; মহা + ইসি মহেসি; যথা ইদকং যথোদকং; ন + উপোতি = নোপতি; চন্দ + উদয = চন্দোদযো।
৪। দীঘং
পূর্বের ষর লুপ্ত হলে পরের ষর কুচিৎ দীর্ঘ হয়। যথা- তত্র + অহং = তত্রাহং; চ + উভযং = চুভ্যং; তথা + উপমং = তথুপমং; যানি + ইধ = যানীধ; সচে + অহং = সচাহং; কিঞ্চি অপি কিঞ্চাপি।
৫। পূব্বো চ
পরবর্তী স্বরবর্ণ লুপ্ত হলে পূর্বের স্বর কখনও কখনও দীর্ঘ হয়। যথা- কিংসু ইধ কিংসধং; সাধু + ইতি = সাধুতি; ন + অহং = নাহং; দস্সামি ইতি দস্সামীতি; বুমি + ইতি-বুমীতি।
৬। যমদন্তস্স্সা দেসো
অসমান স্বরবর্ণ পরে থাকলে পূর্বপদের অন্তঃস্থিত 'এ' কারের স্থানে কুচিৎ 'য'-কার আদেশ হয়। যথা- তে + অহং = ত্যাহং; তে + অণু = ত্যাথু; তে অজ্জ ত্যাজ্জ; মে অযং ম্যাযং; তে অসয ত্যাসয; অগ্নি + আগারে = অ্যাগারে।
৭। ইবল্লো যং ন বা
ই-বর্ণ ভিন্ন অন্য স্বরবর্ণ পরে থাকলে ই-বর্ণের সস্থানে কখনও কখনও য আদেশ হয়। যথা- ইতি + এতং = ইত্যেতং = ইচ্চেতং; ইতি + আদি ইত্যাদি ইচ্চাদি; বৃত্তি অস্ত্র বুত্ত্যস্স; পতি + অন্তং পত্যন্তং = পচ্চন্তং; বিত্তি + অনুভূয্যতে = বিভ্যনুভূয্যতে; বি + আপাদ = ব্যাপাদং; বি + অঞ্জনং ব্যঞ্জনং; বি + আকতো = ব্যাকতো।
৮। বমোদুদস্তানং
স্বরবর্ণ পরে থাকলে পূর্বপদের অন্তঃস্থিত ও-কার ও উ-কারের স্থানে কৃচিৎ ব আদেশ হয়। যথা- সো + অস্ = স্বস: খো + অ = খৃস্স; অনু এতি অন্বেতি; বহু আবাধো বহ্বাবাধো; সু আগতং = স্বাগতং; সো + অহং = স্বাহং; সো + অ = স্বস্স।
৯। দো ধস চ
স্বরবর্ণ পরে থাকলে ধ এর সম্মানে কৃচিৎ দ আদেশ হয়। যথা- ইধ অহং ইদাহং; ইধ ভিক্সবে = ইদভিকবে।
১০। সব্বোচন্তি
স্বরবর্ণ পরে থাকলে পূর্ববর্তী তি-কারের স্থানে চ আদেশ হয়। যথা- ইতি + অস্স = ইত্যস; পতি + অন্তং = পচ্চন্তং; পতি + আগমি পচ্চাগমি; অতি আসন্ন অচ্ছাসন্ন; অতি + অচ্চন্হ; জাতি + অন্ধো = জচ্চন্থো।
১১। এবাদিস রি পুঝো রসো
স্বরবর্ণের পর এব থাকলে 'এ'-র স্থানে বিকল্পে রি আদেশ হয় এবং পূর্বের স্বর হ্রষ হয়। যথা যথা + এব = যথরিব; তথা + এব = তথরিব; সা+এব সরিব।
১২। ঘ-ব-ম-দ-ন-ত-র-লা-চা-গমা।
স্বরবর্ণের পর স্বরবর্ণ থাকলে কখনও কখনও উভয় স্বরবর্ণের মধ্যে যব মদন তরল এই ব্যঞ্জন বর্ণের আগম হয়।
যথা:
য আগমে: যথা + ইদং যথযিদং; ন ইমস নযিম; পরি ওসানং পরিযোসানং; ন + ইদং = নষিদং; পরি + অন্তং = পরিযন্তং; পরি এসতি = পরিযেসতি।
ব আগমে : তি + অঙ্গিকং = তিবঙ্গিকং; প + উচ্চতি = পবুচ্চতি
ম আগমে: লহু + এসতি = লহুমেস্সতি; কসা ইব কসামিব; একং একং একমেকং; ইধ + আহ = ইধমাহ।
দ আগমে : অত্ত অর্থং অত্তদথং; সম্ম অঞা = সম্মদঞা; যাব এব যাবদেব; তাব এব = তাবদেব; য + অথং যদত্থং; কিঞ্চি এব কিঞ্চিদেব; অহু এব = অহুদেব।
ন আগমেঃ ইতো + আযাতি = ইতোনাযাতি; চিরং আযাতি চিরন্নাযাতি।
ত আগমেঃ অজ্জ+ অগ্নে = অজ্জতগৃঙ্গে; তস্মা ইহ = তস্মাতিহ; যা ইহ যস্মাতিহ।
র আগমে ঃ নি + অন্তরং নিরন্তরং; সব্বি এব নি + উত্তরো নিরুত্তরো; নি উপদ্দবো + নিরুপদ্দবো; দু+ অতিক্কমো = দূরতিক্কমো; দু + আগতং দুরাগতং; পাতু + অহোসি = পাতুরহোসি; পুন এব = পুনরেব; বি + অণু = ধিরথু; পুন + এতি = পুনরেতি; সাসপো ইব সাসপোরিব; পাত আসো পাতরাসো।
ল আগমে ৪ ছ + অভিঞা ছলাভিঞা; ছ+ আযতনং ছলাযতনং।
১৩। অবেভা অভি
স্বরবর্ণ পরে থাকলে 'অভি' উপসর্গের স্থানে 'অবভ' আদেশ হয়। যথা অভি উগতো অবভূগতো; অভি+ উদীরিতং = অবভূদীরিতং; অভি+ ওকাসো অভোকাসো।
১৪। অজুঝো অধি
স্বরবর্ণ পরে থাকলে অধি উপসর্গের স্থানে অজঝ আদেশ হয়। যথা অধি+ অভাসি = অজাভাসি; অধি ওকাসো = অজাভাসি; অধি ওকাসো = অঝোকাসো; অধি + আগমা অাগমা; অধি+ উপগতো = অকুপগতো; অধি + আসয অজঝাসয; অধি + উপেতি = অঝুপেতি।
১৫। পাস্স চন্তো রস
স্বরবর্ণ পরে থাকলে 'পা' শব্দের পরে গ আদেশ হয় এবং পা শব্দের অন্তঃস্বর হ্রস্ব হয়। যথা - পা + এব = পগেব।
১৬। গো সরে পুথসাগমো কুচি
স্বরবর্ণ পরে থাকলে পুথু শব্দের অন্তে কখনও কখনও গ আগম হয়। যথা - পুথ + এব = পুথগেব।
১৭। ইবন্ধু বপ্না ঝলা। ঝলানং ইযুবা সরে বা
অসদৃশ স্বরবর্ণ পরে থাকলে কখনও কখনও ই-বর্ণ স্থানে 'ইয়' এবং উ-বর্ণের স্থানে 'উব্' আদেশ হয়। যথা- তি+ অন্ধং = তিষদ্ধং; পঞ্চমী অন্তং পঞ্চমীযন্তং; তি+ অন্তং তিযন্তং; পুথু আসনে পুথুবাসনে; সত্তমী অথে = সত্তমীযথে।
১৮। ও সরে চ
স্বরবর্ণ পরে থাকলে 'গো' শব্দের ও কারের স্থানে অব আদেশ হয়। যথা গো অজিনং গবাজিনং; গো + এলকং = গবেলকং।
১৯। অতিস চন্তস
ই বর্ণ পরে থাকলে 'অতি'; 'ইতি' এবং 'পতি' শব্দের তি-কারের স্থানে চ-কার আদেশ হয় না। যথা অতি ইতো = অতীতো; অতি + ঈরিতং = অতীরিতং; ইতি ইতি ইতীতি; পতি + ইতো + পতীতো।
২০। তেন বা ইবপ্নে
ই বর্ণ পরে থাকলে 'অভি' এবং 'অধি' শব্দের স্থানে কখনও কখনও যথাক্রমে 'অব্ভ' এবং 'অজ্য' আদেশ হয় না।
যথাজ্জ অভি + ইজঝিতং অভিজঝিতং; অধি ঈরিতং অধীরিতং।
ব্যঞ্জন সন্ধি
১। সরা ব্যঞ্জনে দীঘং
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে কুচিৎ পূর্বস্বর দীর্ঘ হয়। যথা- দু রকখং দুরং; সম্ম ধম্মং সম্মধম্মং; খস্তি + বলং = খন্তীবলং: জাযতি + ভযং জাযতীভযং; উজ্ + চ = উচ্ছৃচ।
২। রসং
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে পূর্বের স্বর কখনও কখনও হ্রস্ব হয়। যথা- ভোবাদী নাম= ভোবাদিনাম; ভাবী + গুণেন = ভাবিগুণেন; পরা + কমো = পরক্কমো; আ+ সাদো = অসাদো; পুগ্গলা + ধম্মা = পুগ্গলধম্মা।
৩। পরদ্বেভাবো ঠানে
স্বরবর্ণের পরস্থিত ব্যঞ্জনবর্ণ কখনও কখনও দ্বিত্ব হয়। যথা-প গহো পদ্গহো; ইধ + পমাদো ইদপমাদো বিচ্ছু + লতা = বিজ্জ্বলতা; নি গতং = নিগতং; নানা পকারেহি নানাপকারেহি; জাতি সর = জাতিস্মর; বি + ভন্তো = বিবভন্তো; প + বজ্জং পব্বজ্জং; চতু দসো চতুদ্দসো; দু + সীলো = দুস্সীলো; অ+ পমাদো = অল্পমাদো; বি + ঞানং = বিজ্ঞানং; বহু + সুতো বহুসুতো; সীল + বতং = সীলব্বতং; পুন + পুন = পুনপুনং।
৪। লোপঞ্চ তত্রাকারো
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে কৃচিৎ 'সো' এবং 'এসো' শব্দের ও-কার স্থানে অ-কার হয়, এবং কখনও কখনও পূর্বস্থিত অকার সস্থানে উকার ও-কার স্থানে ওকার হয়। যথা এসো খো= এস খো; সো গচ্ছং = স গচ্ছং; সো + সীলবা = স সীলবা; সো + ভিষ্ণু স ভিষ্ণু; জানেম তং = জানেমুতং; নু + তুং = নোতুং।
৫। বঙ্গে ঘোসাঘোসানং ততিয - পঠমা
স্বরবর্ণের পরস্থিত বর্গীয় দ্বিতীয় ও চতুর্থ বর্ণের সাথে সেই বর্গের প্রথম ও তৃতীয় বর্ণ যুক্ত হয়। যথা- নি ঘোসো = নির্ঘোসো; পঠম + ঝানং পঠমজঝানং; অভি+ ঝাযতি অভিজ্ঝাযতি; বিং ধংসেতি বিধ্বংসেতি; মহা + ধনো = মহন্ধনো; পঞ্চ খন্ধা পঞ্চক্মন্ধা; বোধি ছাযা বোধিচ্ছাযা; নি + ঠিতং = নিঠিতং।
৬। ও-অবস
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে 'অব' শব্দের স্থানে কখনও কখনও ওকার আদেশ হয়। যথা- অব কামো = ওকামো; অব + নদ্ধা = ওনদ্ধা; অব বদতি ওবদতি; অব সানং = ওসানং।
৭। এতেসমো লোপে
বিভক্তির লোপ হলে মন গণাদি শব্দের অন্ত্য অ-কার সস্থানে ও কার হয়। যথা মন + মযং = মনোমযং; মন + সেঠো = মনোসেটঠো; অহ রত্তং অহোরত্তং; তম নুদো তমোনুদো; অয + পত্তো = অযোপত্তো; তপ + ধনো = তপোধনো; বায়ু ধাতু বাযোধাতু; তেজ কসিনং তেজোকসিনং; রহ +গতো = রহোগতো।
৮। কুচি ও ব্যঞ্জনে
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে 'অতিষ্প' এবং 'পর' শব্দের পর ওকার আগম হয়। যথা অতিষ্প খো = অতিস্পগোখো; পর + গতং = পরোগতং, পর + সহসং = পরোসহস্সং।
৯। যবতং ত-ল-ন-দকারানং ব্যঞ্জনানি চ-ল-ও-জকারত্তং।
ই বর্ণের স্থানে যকার আদেশ হলে শব্দের অন্ত্য ত্য ল্য ন্য এবং দ্য স্থানে কৃচিৎ যথাক্রমে চ ল ঞ ও জ আদেশ হয় এবং এদের দ্বিত্ব হয়। যথা- জাতি অন্ধো জচ্চন্ধো; বিপলি+ আসো বিপল্লাসো; যদি + এবং = যজ্জেবং; অপি + একচ্চে = অপেকচ্চে।
১০। কুচি পটি পতিস
স্বরবর্ণ অথবা ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে 'পতি' শব্দের কুচিৎ 'পটি' আদেশ হয়। যথা-পতি + হঞতি = পটিহঞতি।
১১। তবিপরিতুপদে ব্যঞ্জনে চ
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে 'অব' শব্দের স্থানে কখনও কখনও উকার আদেশ হয়। যথা- অব গতে = উগ্গতে; অব + গচ্ছতি = উগ্গচ্ছতি; অব গহেত্বা উগ্গহেত্বা।
নিগৃগহীত বা অনুস্বার সন্ধি
১। বঙ্গন্তং বা বঙ্গে
বর্গীয় বর্ণ পরে থাকলে অনুস্বারের স্থানে বিকল্পে বর্গের পঞ্চম বর্ণ হয়। যথা- তং + ঞাণং = তঞাণং; তং + ঠানং = তষ্ঠানং; কিং + কতো = কিঙ্কতো; সং। জাতো = সঞ্জাতো, জুতিং ধরো = জুতিনধরো।
২। সযে চ
অনুষ্কারের পর য থাকলে অনুস্বার এবং অন্তঃস্থ য উভয়ে মিলে ঞ হয়। যথা- সং+ যোগ= সঞোগ; বিসং + যোগ = বিসঞোগ; যং দেব যজ্ঞদেব; সং+ যতো = সঙ্ঞতো।
৩। নিগৃগহীতঞ্চ
স্বরবর্ণ কিংবা ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে কৃচিৎ নিগৃহীত আগম হয়। যথা- চক্ষু উদপাদি চঞ্চুং উদপাদি; অব + সিরো = অবংসিরো; অনু থুলানি অনুংথুলানি; পূর্ব্ব গমা পুরুঙ্গমা।
৪। কুচি লোপং
স্বরবর্ণ পরে থাকলে কখনও কখনও নিগ্রহীতের লোপ হয়। যথা- বিদূনং অগ্গং = বিদূনগং, তাসং অহং = তাসাহং।
কথং + অহং = কথাহং; কিং অহং ক্যাহং।
৫। ব্যঞ্জনে চ
ব্যঞ্জনবর্ণ পরে থাকলে কুচিৎ অনুস্বারের লোপ হয়। যথা- বুদ্ধানং সাসনং বুদ্ধানসাসনং; অরিযসচ্চানং + দস্সনং = অরিযসন্ধানদস্সনং, অবিসং হারো অবিসাহারো।
৬। পরো বা মরো
কখনও কখনও নিগৃহীতের পরবর্তী স্বরবর্ণের লোপ হয়। যথা- চক্কং ইব = চক্রংব; বীজং ইব = বীজংব; কিং+ ইতি = কিস্তি; দাতুং + অপি দাতুম্পি; ত্বং অসি = তুংসি।
৭। ব্যঞ্জনে চ বিসঞোগো
নিগৃহীতের পরবর্তী স্বরবর্ণ লুপ্ত হলে সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথমটাও লুপ্ত হয়। যথা- এবং অসস এবংস; পুপ্ফং + অত্সা = পুস্ফংসা; পুতং + অসসা = পুতং'সা।
৮। মদাসরে
স্বরবর্ণ পরে থাকলে অনুষারের সস্থানে বিকল্পে ম-কার এবং দ-কার আদেশ হয়। যথা- তং অহং = তমহং; যং + আহু = যমাহু; কিং + এতং কিমেতং; যং অনিচ্ছং যদনিচ্চং; এতং অবোচ এতদবোচ; এবং + অ = এবমস।
৯। অনুপদিষ্ঠানং বুত্তযোগতো
উপসর্গ, নিপাতাদির যোগে যে সকল সন্ধি পূর্বে বর্ণিত হয়নি, সেই স্বর, ব্যঞ্জন ও অনুস্বার সন্ধির সূত্রানুসারে তাদের রূপসিদ্ধি দেখানো হল।
১. স্বর সন্ধিতে প + অঙ্গনং পাঙ্গনং; পর আসনং পরাসনং; উপা আগতো উপাগতো; অধি + আসযো = অসযো; ধী অতিক্কমো ধীতিক্কমো।
২. ব্যঞ্জন সন্ধিতে - পরি গহো = পরিম্নহো; নি। খমতি = নিষ্ফমতি; নি কসাবো= নিক্কসাবো; দু + ভিক্সং = দুবিভক্সং; সু + গহো = সুন্নহো।
৩. অনুযার সন্ধিতে সং দিঠং সন্দিঠং; নি + গতং = নির্গতং।
১০। অং ব্যঞ্জনে নিগৃহীতং
ব্যঞ্জন বর্ণ পরে থাকলে অনুষারের ক্বচিৎ লোপ হয় না। যথা- এবং বুভে এবংবুত্তে, তং সাধু তংসাধু।
ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১। পালিভাষার সাথে বাংলাভাষার সম্পর্ক সংক্ষেপে আলোচনা কর।
২। সন্ধি কাকে বলে? সন্ধি কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেকটির সংজ্ঞা সহ উদাহরণ দাও।
৩। নিম্নের সূত্রগুলোর ব্যাখ্যা কর এবং উদাহরণ দাও:
সরাসরে লোপং; বা পরো অসরূপা; কৃচা সবপ্নং লুত্তে;
বামোদুদন্তানং; সব্বোচন্তি, পরদ্বেভাবো ঠানে; লোপঞ্চ তত্রাকারো;
বঙ্গে ঘোসা-ঘোসানং ততিয-পঠমা; পুথুস ব্যঞ্জনে;
নিগৃহীতঞ্চ; মদাসরে।
৪। সন্ধি কর:
পক্কোদন; নোপেতি; সাধুতি; পচ্চন্তং; যাবদেব; পাতরাসো; বিচ্ছুলতা; ওবদতি; পরোগতং; সঞোগ; তহং।
খ. নিচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
১। পালি ব্যাকরণ কাকে বলে?
২। পালিভাষা থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাংলাভাষায় আগত পাঁচটি শব্দের উদাহরণ দাও।
৩। নিগৃহীত সন্ধি কাকে বলে? দুটি উদাহরণ লেখ।
৪। লোপঞ্চ তত্রাকারো কোন সন্ধির অন্তর্গত সংজ্ঞা? তিনটি উদাহরণ দাও।
গ. সঠিক উত্তরের পাশে টিক চিহ্ন দাও:
১। পালিতে সন্ধি কত প্রকার?
ক. তিন
খ. চার
গ. পাঁচ
ঘ. ছয়
২। স্বরসন্ধির উদাহরণ কোনটি?
ক. দুস্সীলো
খ. ওকামো
গ. পরোগতং
ঘ. সাধৃতি
৩। ব্যঞ্জন সন্ধির উদাহরণ কোনটি?
ক. পনেতং
খ. পব্বজং
গ. নিগ্গতং
ঘ. ক্যাহং
৪। পরবর্তী স্বরবর্ণ লুপ্ত হলে পূর্বের স্বর কখনও কখনও দীর্ঘ হয়। -এটির সংজ্ঞা কোনটি?
ক. কুচা সবপ্নং লুত্তে
খ. দীঘং
গ. পুব্বচ
ঘ. দো ধস চ
যে বিশেষ্য পদ দিয়ে সত্রী-পুরুষ-নপুংসক পার্থক্য করা যায় তার নাম লিঙ্গ। লিঙ্গ ধাতু, প্রত্যয় ও বিভক্তি বর্জিত হয়।
পালিতে লিঙ্গ তিন প্রকার। যথা পুংলিঙ্গ, ইথি লিঙ্গ (সত্রীলিঙ্গ) ও নপুংসক লিঙ্গ।
১। যেসব শব্দ পুরুষ জাতি বোঝায় তাকে পুংলিঙ্গ বলে। যথা- কুমারো, পিতা ইত্যাদি।
২। যেসব শব্দে সত্রী জাতি বোঝায় তাকে সত্রীলিঙ্গ বলে। যথা- মাতা, কুমারী, কঞা ইত্যাদি।
৩। যেসব শব্দে সত্রী বা পুরুষ কোনটাই বোঝায় না তার নাম ক্লীব লিঙ্গ। যেমন- ফল, বারি, বন ইত্যাদি।
নিম্নে লিঙ্গ পরিবর্তনের কিছু উদাহরণ দেওয়া হল:
ক. আ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের সত্রীলিঙ্গে 'আ' প্রত্যয় যোগ হয়।
পুংলিঙ্গ
খত্তিযো (ক্ষত্রিয়)
মানুস (মানুষ)
অস (অশ্ব)
কণিষ্ঠ (কনিষ্ঠ)
সত্রীলিঙ্গ
খত্তিযা
মানুসা
অসা
কণিঠা
খ. অ-কারান্ত শব্দের উত্তর কোন কোন ক্ষেত্রে 'ঈ' প্রত্যয় যোগ হয়।
পুংলিঙ্গ
মাণব
সুন্দর
ব্রাহ্মণ
দেব
স্ত্রীলিঙ্গ
মাণবী
সুন্দরী
ব্রাহ্মণী
দেবী
গ. কতকগুলো শব্দ স্ত্রীলিঙ্গে 'নী' প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়।
পুংলিঙ্গ
মালী
দন্ডী
তপসী
মেধাবী
বিশেষণ
১। যা দ্বারা বিশেষ্যের দোষ, গুণ, অবস্থা প্রকাশ পায় তাকে বিশেষণ বলে। যথা- ধবলো গো।
২। সাধারণত বিশেষ্যের যে লিঙ্গ, যে বচন ও যে বিভক্তি হয়, বিশেষণের ও সেই লিঙ্গ, সেই বচন ও সেই বিভক্তি হয়। যথা- সুন্দরো দারকো; সুন্দরী দারিকা, সুন্দরং ফলং।
৩। কতকগুলো বিশেষণের কখনও কখনও বচন, লিঙ্গ ও বিভক্তির পরিবর্তন হয় না। যেমন সতং দারকা; বীসতি চিত্তানি- একশতজন বালক, বিশ প্রকার চিত্ত।
৪। বিধেয় বিশেষণের লিঙ্গ কখনও কখনও উদ্দেশ্যের অনুযায়ী হয় না। যথা- গুণা পমাণং: পমাদো মচ্চুনো পদং গুণগুলোই প্রমাণ; প্রমাদ মৃত্যুর পথ।
বিশেষণের তারতম্য
বিশেষণের তারতম্য বোঝাতে পালিতে বেশ কিছু নিয়ম আছে। দুই পদের মধ্যে তুলনা বোঝাতে বিশেষণ পদের শেষে 'তর' বা ইয প্রত্যয় হয় এবং অনেকের মধ্যে তুলনা হলে 'তম', ইসিক, ইঠ প্রত্যয় যুক্ত হয়।
নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল:
বিশেষণ পদ
সুচি (শুচি)
পাপ
কাল
সাধু
কঠ (নিকৃষ্ট)
দুই এর মধ্যে তুলনা
সুচিতর
পাপতর
কালতর
সাধুতর
কঠিয
অনেকের মধ্যে তুলনা
সুচিতম
পাপতম
কালতম
সাধুতম
কটঠি্টঠ
মা, বা, বী, বিন প্রভৃতি প্রত্যয়ন্ত বিশেষণ শব্দের উত্তর ইধ, ইয্য, ইফ্ট ও ইসিক প্রত্যয় হলে ঐ সকল প্রত্যয়ের নিকটবর্তী পূর্ববর্তী স্বরের লোপ হয়।
গুণবা
জুতিমা (জ্যোতিষ্মান)
সতিমা (স্মৃতিমান)
মেধাবী
ধনবা
গুণিয
জুতিয
সতিয্য
মেধিয
ধনিয
গুণিঠ
জুতিষ্ঠ
সতিষ্ঠ
মেধিষ্ঠ
ধনিষ্ঠ
এমন কিছু বিশেষণ আছে যা সাধারণ নিয়মে পড়ে না। নিম্নে তার কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলঃ
অস্প (কতিপয়)
বুড্ড (বৃদ্ধ)
অস্তিক (নিকট)
গুরু (ভারী)
কনিয
সাদিয
নেদিয
গরিয
কনিষ্ঠ
সাদিঠট
নেদি্ঠট
গরিটষ্ঠ
ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১। লিঙ্গ কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণ সহ লেখ।
২। লিঙ্গান্তর কর:
খত্তিযো, অস্স, দেবী, মালিনী, তপসী, মেধাবী।
৩। বিশেষণের তারতম্যের কয়েকটি নিয়ম লিপিবদ্ধ কর।
৪। প্রত্যয়যোগে নিম্নের বিশেষণগুলোর প্রত্যেকটির তারতম্য দেখাও।
কণ্ঠ: সতিমা; ধনবা; মেধাবী; বুঢ়; অন্তিকঃ পাপ।
খ. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও:
১। লিঙ্গ কাকে বলে? প্রত্যেকটির দুটি করে উদাহরণ দাও।
২। বিশেষণ কাকে বলে? উদাহরণ সহ লেখ।
৩। বিশেষণের তারতম্য বলতে কী বোবা?
৪। বিশেষণের তারতম্যের সাধারণ নিয়মে পড়ে না এমন চারটি প্রত্যয়ন্ত্র শব্দের উদাহরণ দাও
গ. সঠিক উত্তরে টিক (√) চিহ্ন দাও:
১। সত্রীলিঙ্গ পদ কোনটি?
ক. সুন্দর
খ. দেব
গ. মানব
ঘ. খত্তিযা
২। পুংলিঙ্গ পদ কোনটি?
ক. কণিঠা
খ. মালিনী
গ. অসা
ঘ. মালী
৩। দুই এর মধ্যে তুলনামূলক বিশেষণ কোনটি?
ক. জুতিমা
খ. গুণবা
গ. গুরু
ঘ. মেধিয
৪। অনেকের মধ্যে তুলনার উদাহরণ কোনটি?
ক. সাধুতর
খ. ধনবা
গ. কণিষ্ঠ
ঘ. অল্প
পালিতে লিঙ্গ-এ সাত প্রকার বিভক্তি যুক্ত হয়। যথা: প্রথমা, দ্বিতীযা, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী। এক সংখ্যা বুঝালে একবচন ও একাধিক সংখ্যা বুঝালে বহুবচন। বচন ভেদে প্রত্যেক বিভক্তি দ্বিবিধ। সম্বোধন পদকে পালিতে 'আলাপনং' বলে।
বিভক্তির স্বরূপ

অ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের বিভক্তির আকৃতি

বুদ্ধ (Buddha)


দ্রষ্টব্য: ধম্ম, সংঘ, কায়, যক্স, নাগ, দোস, মোহ, অস্স, সুর, অজ, দেব, অসুর, কচ্ছপ, বক, মিগ, যব, লোক, নিলয়, রথ, গম, নিবাম, আগম, সকুণ, আলয়, গন্ধব্ব, কিন্নব, মনুস, পিসাচ, মাতঙ্গ, তুরগ, তুরঙ্গ, সীহ, ব্যগ্ঘ, পসদ, তাল, বকুল, কিংসুক, পচিন্দ ইত্যাদি রূপ উপরোক্ত বুদ্ধ, দারক, নর শব্দের ন্যায়।
আ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দ
সখা (Friend)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | সখা | সখা, সথাযো, সখিনো, লখা। |
| দুতিযা | সখং, সখানং, সখারং | সখা, সখাষো, সখিনো, সখানো |
| ততিযা | সখিনা | সখারেহি, সথারেভি, সখেহি, সখেভি |
| চতুর্থী | সখিনো, সখিস | সখারানং, সথিনং, সখানং |
| পঞ্চমী | সখারা, সখিনা, সখারস্মা | সখারেহি, সখারেভি, সখেহি, সখেভি |
| ছটঠী | সখিনো, সখিসস | সখারানং, সখীনং, সখানং |
| সত্তমী | সখে | সখেসু, সথারেসু |
| আলাপনং | সখ, সখা, সখি | সখী, সখে সখা, সখাযো, সখিনো, সখানো |
সা = (সন = Dog)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | সা | সা, সানো |
| দুতিযা | সানং, সং | সানে |
| ততিযা | সানা, সেন | সানেহি, সানেভি, সেহি, সেভি |
| চতুর্থী | সাম্স, সায় | সানং |
| পঞ্চমী | সানা, সম্মা, সম্হা | সানেহি, সানেভি, সেহি, সেভি |
| ছটঠী | সাস্স | সানং |
| সত্তমী | সানে, সস্মিং, সহি | সানেসু, সাসু |
| আলাপনং | সা | সা, সানো |
ই-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দ
বিভক্তির আকৃতি
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | + | ঈ, যো |
| দুতিযা | ং | ঈ, যো |
| ততিযা | না | হি, ভি |
| চতুথী | স্স, নো | নং |
| পঞ্চমী | না, স্মা, মুহা | হি, ভি |
| ছট্ঠী | স্স, নো | নং |
| সত্তমী | স্মিং, মুহি | সু |
| আলাপনং | + | ঈ , যো |
মুনি (মুনি - Sage)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | মুনি | মুনী, মুনযো |
| দুতিযা | মুনিং | মুনী, মুনযো |
| ততিযা | মুনিনা | মুনীহি, মুনীভি |
| চতুর্থী | মুনিস্স, মুনিনো | মুনীনং |
| পঞ্চমী | মুনিনা, মুনিস্মা মুনিম্হা | মুনীহি, মুনীভি |
| ছট্ঠী | মুনিনো, মুনিস | মুনীনং |
| সত্তমী | মুনিস্মিং, মুনিহ | মুনীসু |
| আলাপনং | মুনি | মুনী, মুনযো |
ই-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দ
কপি (Monkey)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | কপি | কপী, কপযো |
| দুতিযা | কপিং | কপী, কপযো |
| ততিযা | কপিনা | কপী, কপযো |
| চতুর্থী | কপিনা, কপিস | কপীনং |
| পঞ্চমী | কপিনা, কপিস্মা, কপিম্হা | কপীহি, কপীভি |
| ছট্ঠী | কপিনো, কপিস্স | কপীনং |
| সত্তমী | কম্পে, কপিস্মিং কম্পিি | কপীসু |
| আলাপনং | কপি | কপী, কপয়ো |
অগ্নি (Fire)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | অগ্নি | অগ্নী, অগ্নযো |
| দুতিযা | অগ্নিং | অগ্নী, অম্লযো |
| ততিযা | অগ্নিনা | অগ্নীতি, অম্লীভি |
| চতুর্থী | অগ্নিনো, অগ্নিস | অম্লীনং |
| পঞ্চমী | অগ্নিনা, অগ্নিস্থা, অগ্নিমহা | অগ্নীহি, অম্লীভি |
| ছট্ঠী | অগ্নিনো, অগ্নিস | অগ্নীনং |
| সত্তমী | অগ্নিহি, অগ্নিসিং | অগ্নিসু, অম্লাসু |
| আলাপনং | অগ্নি | অগ্নী, অগ্নযো |
দ্রষ্টব্য: জোতি, পানি, মুঠি, বোধি, সন্ধি, মতি, কবি, অপি, অহি, কলি, হরি ইত্যাদি রূপ উপরোক্ত কপি এবং অগ্নি শব্দের ন্যায়।
ঈ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দ
বিভক্তির আকৃতি

মস্তী (Minister)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | মন্তী | মস্তী, মস্তিনো |
| দুতিযা | মস্তিনং, মস্তিং | মন্তী, মন্তিনো |
| ততিযা | মস্তিনা | মস্তীহি, মস্তীভি |
| চতুর্থী | মস্তিনো, মস্তিস | মন্তীনং |
| পঞ্চমী | মস্তিনা, মস্তিম্হা, মস্তিস্মা | মস্তীহি, মস্তীভি |
| ছট্ঠী | মন্তিনো, মস্তিস | মস্তীনং |
| সত্তমী | মস্তিনি, মস্তিস্মিং, মস্তিমূহি | মন্তীসু, মস্তিসু |
| আলাপনং | মস্তি | মন্তী, মন্তিনো |
দন্ডী (Mendicent)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | দন্ডী | দন্ডী, দণ্ডিনো |
| দুতিযা | দন্ডিং, দণ্ডিনং | দন্ডী, দণ্ডিনো |
| ততিযা | দণ্ডিনা | দন্ডীহি, দণ্ডীভি |
| চতুর্থী | দণ্ডিনো, দণ্ডিস্স | দণ্ডীনং |
| পঞ্চমী | দণ্ডিনা, দডিমহা দণ্ডিস্মা | দণ্ডীহি, দণ্ডীতি |
| ছট্ঠী | দণ্ডিনো, দণ্ডিস | দন্ডীনং |
| সত্তমী | দণ্ডিনি, দণ্ডিহি, দণ্ডিস্মিং | দন্ডীসু, দণ্ডিসু |
| আলাপনং | দণ্ডি | দন্ডী, দণ্ডিনো |
দ্রষ্টব্য: ধম্মী, সংঘী, মালী, ভাগী, কামী, মামী, সুখী, গণী, দন্তী, পন্থী, হথী ইত্যাদি রূপ উপরোক্ত মন্তী এবং দন্ডী ঈ-কারান্ত শব্দের ন্যায়।
আ-কারান্ত সত্রীলিঙ্গ শব্দ বিভক্তির আকৃতি

লতা (Creeper)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | লতা | লতা, লতায়ো |
| দুতিযা | লতং | লতা, লতাযো |
| ততিযা | লতায | লতাহি, লতাভি |
| চতুথী | লতায | লতানং |
| পঞ্চমী | লতায | লতাহি, লতাভি |
| ছট্ঠী | লতায | লতানং |
| সত্তমী | লতায, লতাযং | লতাসু |
| আলাপনং | লতে | লতা, লতাযো |

দ্রষ্টব্য: নিদ্দা, ভিক্স্থা, বাহা, নাবা, তগৃহা, মেত্তা, পঞা, সদ্ধা ইত্যাদি রূপ উপরোক্ত লতা এবং কঞা শব্দের ন্যায়।
ই-কারান্ত স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ
বিভক্তির আকৃতি

মতি (Intellect)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | মতি | মতী, মতিযো |
| দুতিযা | মতিং | মতী, মতিযো |
| ততিযা | মতিযা, মত্যা | মতীহি, মতীভি |
| চতুর্থী | মতিযা, মত্যা | মতীনং |
| পঞ্চমী | মতিযা, মত্যা | মতীহি, মতীভি |
| ছট্ঠী | মতিযা, মতিযং | মতীনং |
| সত্তমী | মতিযা, মতিযং, মত্যা, মত্যং | মতীসু |
| আলাপনং | মতি | মতী, মতিযো |
রত্তি (Night)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | রত্তি | রত্তী, রত্তিযো, রত্যো |
| দুতিযা | রত্তিং | রত্তী, রত্তিযো, রত্যো |
| ততিযা | রত্তিযা, রত্যা | রত্তীহি, রত্তীভি |
| চতুথী | রত্তিযা, রত্যা | রঙীনং |
| পঞ্চমী | রত্তিযা, রত্যা | রত্তীহি, রক্তীভি |
| ছট্ঠী | রত্তিযা, রত্যা | রত্তীনং |
| সত্তমী | রত্তিযং, রত্যং, রত্যা রত্তং, রত্তো, রত্তিযা | রত্তীসু |
| আলাপনং | রত্তি | রঙী, রত্তিযো, রত্যো |
দ্রষ্টব্য: পত্তি, কিত্তি, মুত্তি, কস্তি, সন্তি, বোধি, জাতি, মতি, ছবি ইত্যাদি রূপ উপরোক্ত মতি এবং রত্তি শব্দের ন্যায়।
ঈ-কারান্ত স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ
বিভক্তি আকৃতি

নদী (River)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | মদী | নদী, নদিযো, নজ্জো |
| দুতিযা | নদিযা, নদ্যা, নজ্জা | নদী, নদিযো, নজ্জো |
| ততিযা | নদিযা, নদ্যা, নজ্জা | নদীহি, নদীভি |
| চতুর্থী | নদিযা, নদ্যা, নজ্জা | নদীনং |
| পঞ্চমী | নদিযা, নদ্যা, নজ্জা | নদীহি, নদীভি |
| ছট্ঠী | নদিযা, নদ্যা, নজ্জা | নদীনং |
| সত্তমী | নদিযা, নদিযং, নজ্জং, নদ্যা | নদীসু |
| আলাপনং | নদি | নদী, নদিযো নজ্জো |
ইথী (স্ত্রী = Woman)
| বিভক্তি | একবচন | বহুবচন |
| পঠমা | ইথী | ইথী, ইথিযো |
| দুতিযা | ইথিয়ং, ইথিং | ইথী, ইখযো |
| অতিযা | ইথিযা | ইথীহি, ইখীভি |
| চতুর্থী | ইথিযা | ইথীনং |
| পঞ্চমী | ইথিযা | ইত্থীহি, ইত্থীভি |
| ছট্ঠী | ইথিযা | ইখীনং |
| সত্তমী | ইথিযা | ইথীসু |
| আলাপনং | ইথি | ইথী, ইথিযো |
দ্রষ্টব্য: মাতুলানী, গুণবতী, মাণৰী, ভিক্ষুণী, গাবী ইত্যাদি রূপ উপরোক্ত নদী এবং ইত্থী শব্দের ন্যায়।
ধাতুর উত্তর যে সকল বিভক্তি হয়, তাদের আখ্যাতিক বিভক্তি বলা হয়। পালিতে আখ্যাতিক বিভক্তি আট প্রকার। যথা-
১। বত্তমানা (বর্তমান কাল);
২। পঞ্চমী,
৩। সত্তমী (সপ্তমী);
৪। পরোদ্ধা (পরোক্ষা);
৫। হীযত্তনী (ঘটমান);
৬। অদ্ভুতনী (অতীত কাল);
৭। ভবিস্সন্তি (ভবিষ্যত কাল);
৮। কালাতিপত্তি।
১। বত্তমানা (বর্তমান কাল)
বর্তমান কালে ক্রিয়া নিষ্পন্ন হলে ধাতুর উত্তর বড়মানা বিভক্তি হয়। তি, অন্তি, সি, থ প্রভৃতি বত্তমানার বিভক্তি। যথা- সে যায় সো গচ্ছতি।
২। পঞ্চমী
আদেশ ও আশীর্বাদ অর্থে ধাতুর উত্তর পঞ্চমী বিভক্তি হয়। তু, অন্তু, হি, য প্রভৃতি পঞ্চমীর বিভক্তি। যেমন-সো সুখী ভবত - সে সুখী হোক।
৩। সত্তমী (সপ্তমী)
অনুমতি ও পরিকল্পনা অর্থে ধাতুর উত্তর সপ্তমী বিভক্তি হয়। এয্য, এয়্যুং প্রভৃতি সপ্তমী বিভক্তি। যথা- সো কম্পং করেয্য তার কাজ করা উচিৎ।
৪। পরোক্কা (পরোক্ষা)
অতীতকালে অধিকতর পূর্বের ঘটনায় পরোক্কা বিভক্তি হয়। এতে অ, ইমূহ প্রভৃতি বিভক্তি ধাতুর সাথে যুক্ত হয়। যেমন- পাচক ভাত পাক করেছিল সূদো ওদনং পপচ।
৫। হীযত্তনী (পুরাঘটিত)
গতকল্য প্রভৃতি বোঝানোর জন্য ধাতুর উত্তর হীযত্তনী (পুরাঘটিত অতীত) বিভক্তি যোগ হয়। এতে ই, ইমহে প্রভৃতি হীযত্তনীর বিভক্তি। যথা- পাচক ভাত পাক করেছে সূদো ওদনং অপচা।
৬। অজ্জতনী (অতীত কাল)
সাধারণ অতীতকালে অজ্জতনী বিভক্তি হয়। ই, ইংসু প্রভৃতি যুক্ত হয়। যথা- পাচক ভাত পাক করল সূদো ওদনং অপচি।
৭। ভবিস্সস্তি (ভবিষ্যত কাল)
ভবিষ্যতকালে ধাতুর উত্তর 'ভবিস্সন্তি' বিভক্তি হয়। ইসস্তি, ইস্সন্তি প্রভৃতি বিভক্তি হয়। যেমন- পাচক ভাত পাক করবে সূদো ওদনং পচিসতি।
৮। কালাতিপত্তি
ক্রিয়ার সময় অতীত হয়ে গেলে কালাতিপত্তি হয়। ইস্সং, ইস্সম্হা বিভক্তি এতে প্রয়োগ হয়। যথা যদি রাম প্রথম বয়সে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করত, তাহলে সে অর্হৎ হত = সচে রামো পঠম বসে পব্বজ্জং অলভিস, সো অরহো অভবিস্স।
(ক) আখ্যাতিক বিভক্তিসমূহ দুভাগে বিভক্ত। যথা- ১। পরসস্পদ (কর্তৃবাচ্য) ও ২. অত্তনোপদ (কর্মবাচ্য)।
১। পরসম্পদ (কর্তৃবাচ্য) আমি চন্দ্র দেখি = অহং চন্দং পস্সামি।
২। অত্তনোপদ আমা কর্তৃক চন্দ্র দৃষ্ট হয় = মযা চন্দো দিতে।
(খ) প্রত্যেক আখ্যাতিক বিভক্তির দুটি বচন। যথা- ১। আমি হাসছি অহং হসামি। ২। আমরা হাসছি মযং হসাম।
(গ) আখ্যাতিক বিভক্তির তিনটি পুরুষ। যথা- পঠম পুরিসো প্রথম পুরুষ; মঝিম পুরিসো মধ্যম পুরুষ এবং উত্তমো পুরিসো উত্তম পুরুষ।
১. পঠমো পুরিসো - সো (সে), সকুণো (পাখি); তে (তারা), সকুণা (পাখিরা)।
২. মঝিমো পুরিসো তুং (তুমি); তুমহে (তোমরা)।
৩. উত্তমো পুরিসো - অহং (আমি); মযং আমরা।
দ্রষ্টব্য:
উত্তম পুরুষের অহং, মযং এবং মধ্যম পুরুষের ত্বং, তুমহে ছাড়া অন্যান্য নামবাচক পদ প্রথম পুরুষের অন্তর্গত।
বিভক্তির আকৃতি
বত্তমানা (বর্তমান কাল)
পরস্সপদ




ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১। অ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দবিভক্তির আকৃতিগুলো লেখ।
২। নিম্নের শব্দগুলোর সকল বিভক্তি ও বচনে পূর্ণরূপ লেখঃ
বুদ্ধ; সখা; মুনি; মন্তী; লতা; নদী; ফল।
৩। আ-কারান্ত সত্রীলিঙ্গ শব্দের আকৃতিগুলো লেখ।
৪। আখ্যাতিক বিভক্তি কত প্রকার ও কী কী? সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও।
৫। বচন ও পুরুষভেদে আখ্যাতিক বিভক্তির প্রয়োগ দেখাও।
৬। ধাতু বিভক্তির পরসম্পদ (কর্তৃবাচ্য) এর আকৃতি অবিকল উদ্ধৃত কর।
৭। নিম্নলিখিত ধাতুগুলোর কর্তৃবাচ্যে পূর্ণরূপ লেখঃ
√ভু; √পচ; √গম; √ঠা; √খদা।
খ. সংক্ষেপে উত্তর দাও:
১। পালিতে বিভক্তি কত প্রকার ও কী কী?
২। ই-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের একবচনে ও বহুবচনে বিভক্তির আকৃতিগুলো লেখ।
৩। পালিতে 'দন্ডী' শব্দের পঞ্চমী ও ষষ্ঠী বিভক্তির রূপগুলো লেখ।
৪। বর্তমান কালের ক্রিয়াবিভক্তি কীভাবে গঠিত হয়? উদাহরণ দাও।
৫। কালাতিপত্তি বলতে কী বোঝ?
৬। গিম ধাতুর বর্তমান কালের রূপ লেখ।
গ. সঠিক উত্তরে টিক (√) চিহ্ন দাও:
১। সম্বোধন পদকে পালিতে কী বলে?
ক. আরাধনং
খ. আলাপনং
গ. লেপনং
ঘ. অধিকরণং
২। অ-কারান্ত পুংলিঙ্গ শব্দের দ্বিতীয়া বিভক্তির একবচনে আকৃতি কোনটি?
ক. আ
খ. এভি
গ. এসু
ঘ. অং
৩। ধাতুর উত্তর যে সকল বিভক্তি যুক্ত হয় তার নাম কী?
ক. ক্রিয়াবিভক্তি
খ. শব্দবিভক্তি
গ. আখ্যাতিক বিভক্তি
ঘ. প্রত্যয়যুক্ত বিভক্তি
৪। আদেশ ও আশীর্বাদ অর্থে ধাতুর উত্তর কোন বিভক্তিযুক্ত হয়?
ক. পঞ্চমী
খ. ষষ্ঠী
গ. সপ্তমী
ঘ. বর্তমানা
৫। 'ত্বং' পদটি কোন পুরুষ?
ক. উত্তম পুরুষ
খ. মধ্যম পুরুষ
গ. প্রথম পুরুষ
ঘ. উভয় পুরুষ
৬। 'গচ্ছতি' কোন কালের ক্রিয়া?
ক. বর্তমান
খ. অতীত
গ. ভবিষ্যৎ
ঘ. ঘটমান অতীত
৭। 'পরসম্পদ' বলতে কী বোঝায়?
ক. কর্তৃবাচ্য
খ. কর্মবাচ্য
গ. ভাববাচ্য
ঘ. কর্ম-কর্তৃবাচ্য
৮। অত্তনোপদের উদাহরণ কোনটি?
ক. অহং চন্দং পস্সামি
খ. মযং হসাম পস্সামিতি
গ. অহং পচিস্সামি
ঘ. মযা চন্দো দিতে
করোতি কিরিযং নিম্ফা 'দেতী' তি কারকং।
যা ক্রিয়ার কার্য নিষ্পন্ন করতে সাহায্য করে তাকে কারক বলে।
কারক ছয় প্রকার। যথা- কর্তা (কত্তা); কর্ম (কম্ম); করণ (করণ); সম্প্রদান (সম্পদান); অপাদান (অপাদান); এবং অধিকরণ (ওকাস)।
১। কর্তৃ কারক (কত্তা কারক)
যো করোতি সো কত্তা।
যে ক্রিয়া সম্পাদন করে সে কর্তা।
যথা- রামো গচ্ছতি = রাম যায়।
মাতা পুত্তং পঠযতি = মা ছেলেকে পড়াচ্ছেন।
২। কর্ম কারক (কম্ম কারক)
যং করোতি তং কম্মং।
কর্তার ক্রিয়ার দ্বারা যা হয় তাকে কর্ম কারক বলে। যথা- সো ভত্তং ভঞ্জতি = সে ভাত খাচ্ছে।
৩। করণ কারক (করণ কারক)
যেন বা কষিরতে তং করণং।
যার দ্বারা কর্তার ক্রিয়া নিষ্পন্ন হয় তাকে করণ কারক বলে। যথা- সো ফরসুনা রুক্সং ছিন্দতি সে কুঠারের সাহায্যে বৃক্ষ ছেদন করছে। সো নেত্তেন চন্দং পস্সতি = সে চক্ষু দ্বারা চন্দ্র দেখছে।
৪। সম্প্রদান কারক (সম্পদান কারক)
যস্স দাতুকামো রোচতে বা ধারযতে বা তং সম্প্রদানং। কর্তা যাকে দান করতে ইচ্ছা করেন, যার প্রতি কর্তার রুচি উৎপন্ন হয় এবং যার নিকট কর্তা ঋণগ্রস্ত তাকে সম্প্রদান কারক বলে। যথা- ভিক্ষুস অন্নং দেহি ভিক্ষুকে অন্ন দান কর।
৫। অপাদান কারক (অপাদান কারক)
যস্মা দপেতি ভযং আদত্তে বা তদ অপাদানং।
যা থেকে ভয়, গমন, ভীতি উৎপন্ন হয়, তাকে অপাদান কারক বলে। যথা- রুক্মস্মা পততি ফলং বৃক্ষ থেকে ফল পড়ছে।
৬। অধিকরণ কারক (ওকাস)
যে ধারো তং ওকাসং।
যা ক্রিয়ার আধার তাকে অধিকরণ কারক বলে। যথা- আকাসে বিহগা বিচরপ্তি পাখিরা আকাশে বিচরণ করে।
বিভক্তিভেদ (Case endings)
যার দ্বারা কারক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় তাকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দ্বারা কারকের পার্থক্য নির্ণয় করা যায়। কিন্তু কারক ও বিভক্তি এক নয়। একই বিভক্তি বিভিন্ন কারকে ব্যবহার করা যায়। তার ফলে কারকের পরিবর্তন হয় না। বিভক্তি সাত প্রকার: যথা- প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী।
প্রথমা বিভক্তি (পঠমা বিভত্তি)
১। লিঙ্গথে পঠমা- লিঙ্গার্থে শব্দের উত্তর প্রথমা বিভক্তি হয়। যথা- বুদ্ধ, কঞঞা (কন্যা); ফলং।
২। কত্তরি চ- কর্তৃকারকে পঠমা বিভক্তি হয়। যথা- দারকো রোদতি।
৩। করণ-কম্মে- কর্মবাচ্যে কর্মে পঠমা বিভক্তি হয়। যথা- বুদ্ধেন দেসিত ধম্মো বুদ্ধ কর্তৃক দেশিত ধর্ম।
৪। নামাদিযোগে - নাম প্রভৃতি অব্যয় যোগে পঠমা বিভক্তি হয়। যথা পসনেদি নামকো রাজা কোসল রঠে রজ্জং করি = প্রসেনজিং নামে এক রাজা কোশল রাজ্যে রাজত্ব করতেন।
দ্বিতীয়া বিভক্তি (দুতিযা বিভত্তি)
১। কম্মানি দুতিযা - কর্ম কারকে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যথা-দাসো কম্মং করোতি।
২। কালদ্ধানং অচ্চন্ত সংযোগে কাল সস্থানের সঙ্গে কোন দ্রব্য, গুণ বা ক্রিয়ার নিবিড় সম্পর্কে বোঝালে সেই কাল বা পদবাচক শব্দের উত্তর দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যথা থেরো মাসং ঝাযতি। স্থবির একমাস ধরে ধ্যান করছেন।
৩। কম্মম্পবচনযুত্তে - কর্মপ্রবচনীয় পদের প্রয়োগে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। এটা অনু, পতি, পরি, অভি- ভাগ, সহ ও হীন অর্থে প্রযুক্ত হয়। যথা পব্বতং অনু বায়ু পর্বতের দিকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে।
৪। গতি - বুদ্ধি-ভুজ-পঠ- হর- করসযা দীনং কারিতে বা- গতিবোধক, বুদ্ধি বোধক এবং ভুজ, মঠ, হর, কর, সর ইত্যাদি ধাতু ণিজন্ত হলে ণিজন্ত ক্রিয়ার কর্ম বিকল্পে দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যথা- মাতা পুত্তং বিজ্জালযং গমযতি = মাতা পুত্রকে বিদ্যালয়ে প্রেরণ করছেন।
৫। কুচি দূতিযা ছঠিনং অথে ষষ্ঠী বিভক্তির অর্থে কখনও কখনও শব্দের উত্তর দ্বিতীয়া বিভক্তি হয়। যথা- তং খো পন ভগবন্তং এবং কল্যাণো কিত্তিসদ্দো অব্বুগতো সেই ভগবানের এ রকম সুযশ উত্থিত হয়েছে।
তৃতীয়া বিভক্তি (ততিযা বিভত্তি)
১। করণে ততিযা করণ কারকে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যথা সো পাদাসা গচ্ছতি সে পায়ে হাঁটছে।
২। কত্তরি চ-কর্ম ও ভাব বাচ্যে কর্তৃকারকে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যথা- স্বাস্থাতো ভগবতা ধম্মা = ভগব কর্তৃক ধর্ম সুন্দরভাবে ব্যাখ্যাত হয়েছে।
৩। সহাদিযোগে চ- সহ, অলং, কিং, সম্পিং, বিনা ইত্যাদি শব্দের যোগে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যথা- পিতা পুত্তেনসহ গচ্ছতি = পিতা পুত্রের সংগে যাচ্ছে।
৪ । হেতু অথে চ - হেতু অর্থে এবং হেতু শব্দযোগে তৃতীয়া বিভক্তি হয়। যথা সীলেন সুদ্ধিং হোতি = শীলের দ্বারা শুদ্ধ হয়।
চতুর্থী বিভক্তি (চতুখী বিভত্তি)
১। সম্পদানে চতুর্থী - সম্প্রদান কারকে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যথা সো ভিক্ষুস্স চীবরং দদাতি = সে ভিক্ষুকে চীবর দান করছে।
২। আরোচনাখে- জ্ঞাপনার্থে চতুর্থী বিভক্তি হয়। যথা- আমন্তযামি বো ভিবে হে ভিকখবে, আপনাদের আহবান করছি।
৩। নিমিত্তথে বা তদখে নিমিত্ত বা তদর্থবাচক শব্দের উত্তর চতুর্থী বিভক্তি হয়। যথা ভিষ্ণু ভিক্কায চরতি = ভিক্খ ভিকখবে জন্য বিচরণ করছেন।
৪। অলমথে নিষ্প্রয়োজন বা সমকক্ষ অর্থে অলং শব্দ যখন প্রযুক্ত হয় তখন চতুর্থী বিভক্তি হয়। যথা মল্লো মল্লস অলং।
পঞ্চমী বিভক্তি (পঞ্চমী বিভত্তি)
১। অপাদানে পঞ্চমী-অপাদান কারকে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যথা- রুদ্ধস্মা ফলং পততি = বৃক্ষ থেকে ফল পড়ছে।
২। হেতুখে- হেতু অর্থে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যথা কেন হেতুনা ত্বং ইধাগতো = কিসের জন্য তুমি এখানে এসেছ।
৩। দিসাযোগে দিকবাচক শব্দযোগে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। অবীচিতো উপরি অবীচি নরকের উপরে।
৪। অন্ধান-কাল নিম্মানে- স্থান ও কালের পরিধি নির্ণয় করতে পঞ্চমী বিভক্তি হয়। যথা- ততো পঠায তে নিহতমানা অহেসুং = তখন থেকে তারা হতমান হল।
ষষ্ঠী বিভক্তি (হট্টী বিভত্তি)
১। সামিসিং ছট্টী স্বামী বা সম্বন্ধ পদে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যথা রঞ্জঞো সাসনং রাজার আদেশ।
২। নির্ধারণে ছট্টী একাধিক ব্যক্তি বা বস্তু হতে একটির উৎকর্ষ বা অপকর্ষ অবধারণ করাকে নির্ধারণ বলে। নির্ধারণে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যথা পসুনং সীহো সুরতমো পশুদের মধ্যে সিংহ অধিক সাহসী।
৩। অনাদরে চ- অনাদর বা অবজ্ঞা বুঝালে ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যথা- সো রোদন্তস দারক পব্বজি। ছেলেটির ক্রন্দন সত্ত্বেও তিনি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করলেন।
৪। ততিযা সত্তমীঞ্চ তৃতীয় ও সপ্তমীর অর্থে কখনও কখনও ষষ্ঠী বিভক্তি হয়। যথা পুস্স বুদ্ধং পূজেতি = ফুল দিয়ে বুদ্ধ পূজা করা হয়।
যে ক্রিয়া পরিসমাপ্তি বা শেষ নির্দেশ করে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। অসমাপিকা ক্রিয়া দুভাবে গঠিত হয়।
১। ত্বা প্রত্যয় (Gerund)
ধাতুর উত্তর ত্বা, য প্রত্যয় যোগ করে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে Gerund বলে। এ জাতীয় অসমাপিকা ক্রিয়া দুটি ঘটনার ওপর নির্ভরশীল। যেমন- বাড়ি এসে আমি তাকে দেখলাম- ঘরং আগস্থা অহং তং পসিং। এ অসমাপিকা ক্রিয়া বাংলায় 'ইয়া' (যাইয়া, গিয়ে) এবং ইংরেজিতে 'ing' (going) থাকে। এ সমস্ত অসমাপিকা ক্রিয়াই পালিতে 'ত্বা' প্রত্যয়যোগে গঠিত হয়।
ক. ত্বা প্রত্যয় যোগে (Gerund)
√গম = গন্থা; √পিচ = পচিত্বা; √লভ লভিত্বা, লম্বা; √দা = দত্বা; √নি = নেতৃা; √ভিজ = ভুত্বা ইত্যাদি।
খ. য প্রত্যয় যোগে:
√কম = কৰ্ম্ম; √গম = গম্ম; √চিন্ত = চিন্তিয়; √ভিজ = ভূজ্জেয্য।
২। তুং (তুম) প্রত্যয় (Infinitive)
ধাতুর সাথে তুং, তুন, তাবে, তুষে এবং তাযে প্রত্যয় যোগ করে ওহভরহরঃরাব গঠিত হয়। বাংলায় 'আসতে', 'আনতে' এবং ইংরেজিতে 'to come', 'to bring' প্রভৃতি যে অসমাপিকা ক্রিয়া থাকে সেগুলো পালিতে "তুং' প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়।
যেমন- সে জল আনতে নদীতে গেল সো উদকং আনেতং নদিযং গচ্ছি।
ক. তুং প্রত্যয় যোগে:
√পচ = পচিতুং; √সু = সোতুং; √ছিদ = ছিন্দিতং ইত্যাদি।
খ. তাবে, তুয়ে এবং তায়ে প্রত্যয়যোগে:
√দা = দাতবে; √মির = মরিতযে; √দিস = দক্তৃিতাযে।
ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
ধাতুর উত্তর অন্ত, মান, তব্ব ইত্যাদি প্রত্যয়যোগে ক্রিয়াবাচক বিশেষণ গঠিত হয়। এটা বিশেষ্য পদের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ক্রিয়াবাচক বিশেষণ তিন প্রকার। যথা (১) বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণ (২) অতীত ক্রিয়াবাচক বিশেষণ; (৩) ভবিষ্যৎ ক্রিয়াবাচক বিশেষণ।
১। বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
ধাতুর সঙ্গে অন্ত, মান, আন, অং ইত্যাদি প্রত্যয়যোগে বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণ গঠিত হয়। যেমন-√পচ- পচং, পচন্ত; √ভূ- ভবং, ভবন্ত; √কর- করং, করন্ত; √পা-পিবং, পিবন্ত; √গম- গচ্ছং, গচ্ছন্ত। √দা- দদমান, দদান; √সু-সুণমান, সুত্বান।
২। অতীত ক্রিয়াবাচক বিশেষণ
অতীত ক্রিয়াবাচক বিশেষণ ত, তবস্তু, তাবী প্রত্যয় ধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে গঠিত হয়। যথা-
√নিহা- এ্যাত; √জী-জীত; √ভূ- ভূত; √ভূজ- ভুত্ত; √বুধ- বুদ্ধ; √চির- ছিন্ন; √মির- মত; √দিন- দন্ত; √ভিজ- ভত্ত্বা;
√জি- জিতা; √হ- হ্রতা।
ক. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১। কারক কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেক প্রকার কারকের উদাহরণ দাও।
২। অসমাপিকা ক্রিয়া কীভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা সহ উদাহরণ দাও।
৩। ক্রিয়াবাচক বিশেষণ কত প্রকার ও কী কী? প্রত্যেকটির সংজ্ঞা সহ উদাহরণ দাও।
৪। কী কী অর্থে তৃতীয়া বিভক্তি হয়? বিস্তারিত আলোচনা কর।
৫। সংজ্ঞাসহ উদাহরণ দাও:
নামাদিযোগে, কত্তরি চ; আরোচনাখে; নিদ্ধারণে ছট্টী; নিমিত্তথে বা তদখে; হেতুথে; করণ-কম্মে
খ. সংক্ষেপে উত্তর দাও:
১। 'ত্বা' প্রত্যয় কিভাবে গঠিত হয়? উদাহরণ দাও।
২। বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণ কাকে বলে? ব্যাখ্যা কর।
৩। সম্প্রদান কারক কাকে বলে উদাহরণ সহ বল।
৪। কম্মানি দুতিযা বলতে কী বোঝ?
৫। চতুর্থ বিভক্তি প্রয়োগের চারটি উদাহরণ দাও।
গ. সঠিক উত্তরে টিক (√) চিহ্ন দাও:
১। অসমাপিকা ক্রিয়া কোনটি?
ক. গচ্ছতি
খ. আগমিংসু
গ. খাদিত্বা
ঘ. কম্মং
২। বর্তমান ক্রিয়াবাচক বিশেষণের উদাহরণ কোনটি?
ক. পচন্ত
খ. পেয্য
গ. করণীয়
ঘ. ছিন্ন
৩। কর্তৃ কারকের উদাহরণ কোনটি?
ক. সো গচ্ছতি
খ. নেত্তেন চন্দং পস্সতি
গ. রুম্মা পততি ফলং
ঘ. বুদ্ধেন ধম্মং দেসিতো
৪। কারক কত প্রকার?
ক. চার
খ. পাঁচ
গ. ছয়
ঘ. সাত
৫। 'ভিক্ষুস অন্নং দেহি'। এটা কোন কারকের উদাহরণ?
ক. করণ
খ. সম্প্রদান
গ. অপাদান
ঘ. অধিকরণ
পালি অনুবাদের ক্ষেত্রে অন্যান্য ভাষায় প্রচলিত নিয়মগুলো রক্ষিত হয়েছে। তবে প্রয়োগে স্বাতন্ত্র্য আছে। কাল, কারক, শব্দরূপ, ধাতুরূপ, বাক্য বিন্যাস-প্রণালী, বাচ্য প্রভৃতি পালি ব্যাকরণের নিয়মাবলি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান না থাকলে পালি অনুবাদ শুদ্ধরূপে করা সম্ভব নয়। তোমরা ওপরের শ্রেণীতে পালি ব্যাকরণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে। এখানে প্রাথমিক ধারণা লাভের জন্য কাল ও কারক সম্পর্কীয় অনুবাদের কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হল।
বাংলার মত পালিতেও কাল তিনটি। যথা বর্তমান কাল (বত্তমানা); অতীত কাল (অজ্জতনী) ও ভবিষ্যত কাল (ভবিস্সন্তি)। ভাব বোঝাতেও পঞ্চমী ও সপ্তমীর ক্রিয়া বিভক্তি যুক্ত হয়। এছাড়া, বচন ও পুরুষভেদে ও ক্রিয়াবিভক্তির রূপান্তর ঘটে।
কিভাবে কাল ও কারক ঘটিত বাংলা বাক্যের অনুবাদ করতে হয় তা বিস্তারিত অষ্টম ও নবম অধ্যায়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে পুনরাবৃত্তি নিষ্প্রয়োজন। তোমরা বাংলা বাক্যের পালি অনুবাদ করার সময় ধাতু বিভক্তি ও কারক বিভত্তিভেদ দেখে নেবে। নিম্নে নমুনা স্বরপ কাল ও কারক সম্পর্কীয় বাংলাসহ পালি অনুবাদ দেওয়া হল:
কাল
বর্তমান কাল (বস্তুমানা)
চন্দ্র রাত্রিকালে কিরণ দেয় = চন্দো রত্তিং আভাতি। সত্রী লোকেরা নদীতে স্নান করছে ইথিযো নদিযং নহাতি।
ছাত্রেরা পাঠ অভ্যাস করছে = অম্ভেবাসিকা তেসং পাঠং পঠন্তি।
সত্তমী
চেষ্টা করলে কৃতকার্য হতে পারবে সচে ত্বং সম্মা বাযামং করেয্যাসি সফলং ভবেয্যাসি।
তোমার প্রত্যহ বিদ্যালয়ে যাওয়া উচিত = ত্বং অনুদিবসং বিজ্জালযং গচ্ছেয্যাসি।
পঞ্চমী
এখন তুমি বাড়ি যেতে পার = ইদানি ত্বং গেহং গচ্ছ।
আবর্জনাগুলো ফেলে দাও = কচবরানি ছড্ডেহি।
অতীত কাল (অজ্জতনী)
তুমি আমার সাথে মিথ্যা বলেছ কেন? কিং ত্বং মযা সন্ধিং মুসা ভণি?
আচার্য তাদের ঝগড়া নিষ্পত্তি করে দিলেন = আচরিযো তেসং বিবাদং সম্মন্নি।
ভবিষ্যত কাল (ভবিস্সপ্তি)
তিনি আজ বাড়ি আসবেন = সো অম্হাকং গেহে অজ্জং আগচ্ছিস্সতি।
কারক
কর্তৃকারক
রামো দয়ালু নরো ভবতি = রাম দয়ালু লোক ছিলেন।
দারকা অম্বে খাদন্তি = বালকেরা আমগুলো খাচ্ছে।
কর্মকারক
আচরিযো সিস্সং ওবদতি = আচার্য শিষ্যকে উপদেশ দিচ্ছেন।
অহং মচ্ছমংসংন ভূঞ্জামি= আমি মাছ মাংস খাই না।
করণ কারক
সো হখেন কম্মং করোতি = সে হাত দিয়ে কাজ করে।
পিতা পুত্তেনসহ গচ্ছতি = পিতা পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।
সম্প্রদান কারক
দারিকা পিপাসিত উদকং দদাতি = বালিকা তৃষ্ণার্তকে জল দিচ্ছে।
অমচ্চো রঞা আরোচেসি = অমাত্য রাজাকে নিবেদন করলেন।
অপদান কারক
বোধিসত্তো মাতুকুচ্ছিস্হা নিক্কমি= বোধিসত্ত্ব মাতৃগর্ভ থেকে নিষ্ক্রান্ত হলেন।
উপাযা অন্তধাযতি সিস্সো শিষ্য উপাধ্যায় থেকে পলায়ন করল।
১। পালিতে অনুবাদ কর ৪ 8
(ক) তিনি গতকাল বাড়ি গিয়েছেন।
(খ) অনাথপিডিক শ্রেষ্ঠী জেতবন বিহার দান করেন।
(গ) মাতাপিতাকে মান্য করবে।
(ঘ) অপ্রমাদ উন্নতির পথ, প্রমাদ মৃত্যুর পথ।
(৬) ভিক্ষুরা সংঘারামে বাস করেন।
(চ) তুমি কার ভয়ে ভীত?
(ছ) ছেলেরা ছুটাছুটি করছে।
(জ) ভিক্ষু-সংঘকে পিন্ড দাও।
(ঝ) তিনি প্রব্রজ্যা গ্রহণ করবেন।
(ঞ) আমরা তীর্থভ্রমণে গিয়েছিলাম।










