আর্য

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান -

2.4k

আর্য হচ্ছে একটি প্রাচীন জাতিবিশেষ, যার অর্থ সর্বংশজাত ব্যক্তি। আর্যদের আদিনিবাস ছিল ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে বর্তমান মধ্য এশিয়া- ইরানে। প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে খাইবার গিরিপথ (আফগানিস্থান-পাকিস্তান) ব্যবহার করে আগমন করে এদেশে। আর্যরা সনাতন ধর্মালম্বী, তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। বেদ থেকে ঋগ্বেদের সৃষ্টি হয়েছে। আর্য হওয়ার ধারণাটি জাতিগত নয়, বরং ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ।

আর্যদের আদি বাসস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতবাদ হলো ইউরাল পর্বতের দক্ষিণে মধ্য এশিয়া বা দক্ষিণ রাশিয়া (ম্যাক্স মুলারের মত)।

ধর্ম ও সাহিত্য

প্রধান ধর্মগ্রন্থ: আর্যদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ। এটি চার ভাগে বিভক্ত: ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুঃবেদ ও অথর্ববেদ।

প্রাচীনতম গ্রন্থ: ঋগ্বেদ হলো বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ।

উপনিষদ: বেদের দার্শনিক অংশকে বলা হয় উপনিষদ বা বেদান্ত।

সমাজ ও রাজনীতি

পারিবারিক কাঠামো: আর্য সমাজ ছিল পিতৃতান্ত্রিক।

বর্ণপ্রথা: ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের 'পুরুষসূক্তে' প্রথম চতুর্বর্ণের (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র) উল্লেখ পাওয়া যায়।

গ্রামের প্রধান: আর্যদের গ্রামের প্রধানকে বলা হতো 'গ্রামণী'।

রাজনৈতিক সভা: আর্যদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিষদ ছিল— সভা (বয়স্কদের নিয়ে) এবং সমিতি (সাধারণ জনগণের নিয়ে)।

অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা

প্রধান জীবিকা: আর্যদের প্রধান পেশা ছিল পশুপালন এবং দ্বিতীয় প্রধান পেশা কৃষি।

পবিত্র পশু: আর্যরা গরু-কে পবিত্র জ্ঞান করত এবং একে বলা হতো 'অঘ্ন্যা' (যা হত্যাযোগ্য নয়)।

মুদ্রা: আর্যদের মুদ্রার নাম ছিল নিষ্ক ও মনা।

ধাতুর ব্যবহার: আর্যরা প্রথম দিকে তামা ও ব্রোঞ্জ ব্যবহার করলেও পরবর্তী বৈদিক যুগে লোহার ব্যবহার শুরু করে। (সিন্ধু সভ্যতার মানুষ লোহার ব্যবহার জানত না)।

ভৌগোলিক অবস্থান ও নদী

সপ্ত সিন্ধু: আর্যরা প্রথম সিন্ধু নদের অববাহিকায় বসবাস শুরু করে, যা 'সপ্ত সিন্ধু' অঞ্চল নামে পরিচিত।

পবিত্র নদী: ঋগ্বেদে সরস্বতী নদীকে সবচেয়ে পবিত্র নদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Content added By
Content updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...