জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (১৫২৬-১৫৩০)

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান -

3.1k

জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবর তার সাহসিকতা ও নির্ভীকতার জন্য ইতিহাসে বাবর নামে প্রসিদ্ধ। বর্তমান রুশ-তুর্কিস্তানের অন্তর্গত ফারগানা নামক রাজ্যে বাবরের জন্ম। বাবর পিতার দিক থেকে তৈমুর লং এবং মায়ের দিক থেক চেঙ্গিস খানের বংশধর ছিলেন। বাবর শব্দের অর্থ সিংহ। বাবর ফারগানার সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন মাত্র ১১ বছর বয়সে।

জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ছিলেন মধ্য এশিয়ার ফারগানা রাজ্যের শাসক, যিনি ১৫২৬ সালে ভারতে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর রক্তে মিশে ছিল বিশ্বের দুই দুর্ধর্ষ বিজেতার ধারা—পিতার দিক থেকে তিনি ছিলেন তৈমুর লং-এর পঞ্চম বংশধর এবং মাতার দিক থেকে চেঙ্গিস খানের চতুর্দশ বংশধর। মধ্য এশিয়ায় পৈত্রিক রাজ্য হারিয়ে তিনি ভারত জয়ের পরিকল্পনা করেন এবং ১৫২৬ সালের ২১শে এপ্রিল পানিপথের প্রথম যুদ্ধে দিল্লির শেষ সুলতান ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে ভারতে মুঘল শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। মাত্র চার বছরের শাসনামলে তিনি কেবল সামরিক বিজয়ই অর্জন করেননি, বরং 'তুজুক-ই-বাবরি' নামক অসাধারণ এক আত্মজীবনী লিখে তাঁর সাহিত্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। ১৫৩০ সালে আগ্রায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে তাঁর প্রিয় শহর কাবুলে সমাহিত করা হয়।

বাবরের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহ (যা পরীক্ষায় বারবার আসে):

১. পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬): ইব্রাহিম লোদীকে পরাজিত করে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা।

২. খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭): মেবারের রাজপুত রাজা রানা সংগ্রাম সিংহকে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধের পর তিনি 'গাজী' উপাধি গ্রহণ করেন।

৩. চান্দেরীর যুদ্ধ (১৫২৮): রাজপুত নেতা মেদিনী রায়কে পরাজিত করেন।

৪. ঘর্ঘরার যুদ্ধ (১৫২৯): বাংলার সুলতান নুসরাত শাহ ও আফগানদের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করেন। এটি বাবরের জীবনের শেষ বড় যুদ্ধ।

Quick Notes:

  • পুরো নাম: জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবর (বাবর শব্দের অর্থ— বাঘ)।

  • জন্ম: ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৪৮৩ (ফারগানা, উজবেকিস্তান)।

  • আত্মজীবনী: 'তুজুক-ই-বাবরি' বা 'বাবরনামা'। এটি মূল তুর্কি ভাষায় রচিত (পরবর্তীতে আবদুর রহিম খান-ই-খানান এটি ফার্সি ভাষায় অনুবাদ করেন)।

  • রণকৌশল: তিনি যুদ্ধে 'রুমি' বা 'তুলুগুমা' নামক বিশেষ রণকৌশল এবং কামানের সফল ব্যবহার করেন। তাঁর প্রধান গোলন্দাজ ছিলেন ওস্তাদ আলী ও মোস্তফা।

  • উপাধি: তাঁকে 'কালান্দার' বলা হতো তাঁর দানশীলতার জন্য এবং খানুয়ার যুদ্ধের পর তিনি 'গাজী' উপাধি নেন।

  • সমাধি: প্রথমে আগ্রার আরামবাগে, পরে কাবুলের 'বাগ-ই-বাবর'-এ স্থানান্তরিত করা হয়।

একনজরে বাবরের শাসনকাল:

বিষয়তথ্য
বংশচাগতাই তুর্কি (মুঘল)
রাজধানীআগ্রা
প্রধান অস্ত্রকামান ও বারুদ
বিখ্যাত স্থাপনাপানিপথের কাবুলি বাগ মসজিদ এবং দিল্লির বাবরি মসজিদ (মীর বাকী কর্তৃক নির্মিত)

বাবরের পর তাঁর পুত্র হুমায়ুন সিংহাসনে বসেন, যাঁর জীবন ছিল চরম নাটকীয় ও উত্থান-পতনে ঘেরা। আপনি কি হুমায়ুন এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শেরশাহ সূরী সম্পর্কে জানতে চান? বিসিএস পরীক্ষার জন্য শেরশাহের প্রশাসনিক সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেনে নিই

  • মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর।
  • পানিপথের প্রথম যুদ্ধে জয়লাভ করে বাবর।
  • পানিপথের প্রথম যুদ্ধ হয় বাবর ও ইবরাহীম লোদীর মধ্যে।
  • পানিপথ নামক স্থানটি বর্তমানে অবস্থিত- ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে।
  • পানিপথের প্রাস্তবে ঐতিহাসিক যুদ্ধ হয়- ৩টি।
  • মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় পানিপথের প্রথম যুদ্ধের মাধ্যমে- ১৫২৬ সালে।
  • ১৫২৭ সালে তিনি বাবরি মসজিদ (অযোধ্যা) নির্মাণ করেন।
  • ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম কামানের ব্যবহার করেন- পানিপথের প্রথম যুদ্ধে।
  • সম্রাট বাবর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেন বাবরনামা বা তুযুক-ই-বাবর নামে ।
  • বাবর মৃত্যুবরণ করেন। ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দে, বাবরকে সমাহিত করা হয় কাবুলে।
Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...