বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। তিনি বাংলার ধানী হিসেবে সোনারগাও এর গোড়া পত্তন করেন। সম্রাট আকবরের সেনাপতিরা বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসা খাঁকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হন। ঈসা খাঁর মৃত্যুর পর বারো ভূঁইয়াদের নেতা হন ঈসার পুত্র মুসা খান। তার আমলেই বাংলার বারো ভূঁইয়াদের চূড়ান্তভাবে দমন করা হয়। সুবেদার ইসলাম খান বারো ভূঁইয়ানের নেতা মুসা খানদের পরাস্ত করেন। এগারসিন্ধুর গ্রাম (কিশোরগঞ্জ) ইসা খানের নাম বিজড়িত মধ্যযুগীয় একটি দূর্গ।
বাংলার বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং বীরত্বগাথার প্রধান নায়ক ছিলেন ঈসা খাঁ। তিনি মোগল সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতাপের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা করেছিলেন।
১. পরিচয় ও উত্থান
জন্ম: ১৫২৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে। তাঁর পিতা সুলাইমান খাঁ ছিলেন একজন আফগান মুসলিম।
অঞ্চল: তাঁর জমিদারির প্রধান কেন্দ্র ছিল সোনারগাঁও এবং ভাটি অঞ্চল (কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সংলগ্ন এলাকা)।
উপাধি: তিনি 'মসনদ-ই-আলা' উপাধি ধারণ করেছিলেন।
নেতৃত্ব: তিনি বাংলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন জমিদারদের (বারো ভূঁইয়া) ঐক্যবদ্ধ করেন এবং মোগল আক্রমণের বিরুদ্ধে এক বিশাল গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলেন।
২. মোগলদের সাথে সংঘর্ষ ও বীরত্ব
সম্রাট আকবর যখন রাজমহলের যুদ্ধের (১৫৭৬) মাধ্যমে বাংলা জয় করতে চান, তখন ঈসা খাঁ তাঁর পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ান।
মানসিংহের সাথে দ্বৈরথ (১৫৯৭): আকবরের শ্রেষ্ঠ সেনাপতি মানসিংহ এক বিশাল নৌবাহিনী নিয়ে ঈসা খাঁকে আক্রমণ করেন। কিশোরগঞ্জের এগারোসিন্দুর নামক স্থানে যমুনা নদীর তীরে তাঁদের মধ্যে এক ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বযুদ্ধ হয়।
মহানুভবতা: লোকগাথা অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় মানসিংহের তলোয়ার ভেঙে গেলে ঈসা খাঁ তাঁকে আক্রমণ না করে নিজের তলোয়ার দিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর এই মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে মানসিংহ তাঁকে 'বাংলার প্রকৃত রাজা' হিসেবে সম্মান জানিয়েছিলেন এবং সম্রাট আকবরের সাথে একটি সাময়িক সমঝোতা করে দেন।
৩. রাজধানী ও স্থাপত্য
সোনারগাঁও: ঈসা খাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক সোনারগাঁও। এটি তখন মসলিন কাপড় এবং সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্র ছিল।
জঙ্গলবাড়ি দুর্গ: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে তাঁর দ্বিতীয় রাজধানী বা অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল এই জঙ্গলবাড়ি দুর্গ।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
Read more