দ্রাবিড়

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান -

3k

দক্ষিণ ভারতের বৃহত্তর তামিল জনগোষ্ঠী দ্রাবিড়দের উত্তরসূরী। সিন্ধুর হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো সভ্যতার স্রষ্টা দ্রাবিড় জনগোষ্ঠী। দ্রাবিড়রা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবেশ করে। দ্রাবিড়রা অস্ট্রিকদের উপর প্রভাব বিস্তারের ফলে উত্তরের সংমিশ্রনে গড়ে উঠে বাঙ্গালী জাতির সিংহভাগ।
Image

পরিচিতি ও আদি বাসস্থান:

দ্রাবিড়রা হলো ভারতের অন্যতম প্রাচীন এবং আদিম জনগোষ্ঠী।

অনেক ঐতিহাসিকের মতে, তারা মধ্য এশিয়া বা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে ভারতে এসেছিল। তবে আধুনিক গবেষণায় তাদের ভারতের ভূমিপুত্র হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

সিন্ধু সভ্যতা ও দ্রাবিড় সম্পর্ক:

অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে, সিন্ধু সভ্যতার (Indus Valley Civilization) স্রষ্টা ছিলেন দ্রাবিড়রা।

আর্যদের আগমনের ফলে তারা উত্তর ভারত থেকে দক্ষিণ ভারতে সরে যেতে বাধ্য হয়।

ভাষা ও ভাষাগোষ্ঠী:

দ্রাবিড়দের প্রধান ভাষা চারটি: তামিল, তেলুগু, কন্নড় এবং মালয়ালম।

এদের মধ্যে তামিল সবচেয়ে প্রাচীন ভাষা।

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে প্রচলিত ব্রাহুই (Brahui) ভাষাকে দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হয়, যা তাদের আদি বিস্তারের প্রমাণ দেয়।

নৃ-তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য:

নৃতত্ত্বের ভাষায় দ্রাবিড়রা সাধারণত 'অস্ট্রালয়েড' বা 'মেডিটেরানিয়ান' (ভূমধ্যসাগরীয়) নরগোষ্ঠীর মিশ্রণ।

তাদের গায়ের রং কালো, চুল কোঁকড়ানো এবং নাক প্রশস্ত হয়ে থাকে।

সমাজ ও ধর্ম:

দ্রাবিড় সমাজব্যবস্থা মূলত মাতৃতান্ত্রিক ছিল (যদিও কালক্রমে তা পরিবর্তিত হয়েছে)।

তারা লিঙ্গ পূজা এবং বৃক্ষ পূজায় বিশ্বাসী ছিল, যা পরবর্তীকালে হিন্দু ধর্মের শিব ও শক্তির ধারণার সাথে মিশে যায়।

স্থাপত্য ও সংস্কৃতি:

দক্ষিণ ভারতের মন্দির স্থাপত্যের বিশেষ রীতিকে বলা হয় 'দ্রাবিড় স্থাপত্য শৈলী' (Dravidian Style)। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উঁচু 'গোপুরম' (প্রবেশদ্বার) এবং পিরামিড আকৃতির 'বিমান'।

বাংলায় দ্রাবিড় প্রভাব:

বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক গঠনে দ্রাবিড়দের বড় ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের অনেক জায়গার নাম (যেমন- শেষে 'দহ', 'গুড়ি', 'জুড়ি' যুক্ত নাম) দ্রাবিড় প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

Content added By
Content updated By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

Promotion

Are you sure to start over?

Loading...