খান জাহান আলী

বাংলাদেশ বিষয়াবলী - সাধারণ জ্ঞান -

2.9k

খানজাহান আলী ছিলেন একজন মুসলিম ধর্মপ্রচারক। খানজাহান আলীর উপাধি উল্লুগ খান খান-ই-আজম। খান জাহান আলী তুঘলক সেনাবাহিনীতে সেনাপতির পদে যোগদান করেন- ১৩৮৯ সালে। তিনি রাজা গণেশকে পরাজিত করে বাংলার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামের পতাকা উড্ডীন করেন। তিনি বাগেরহাট জেলায় বিখ্যাত ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৪৩৫-১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দ) নির্মাণ করেন। মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও মসজিদে গম্বুজ মোট ৮১টি তবে মসজিদের ভিতরে ষাটটি স্তম্ভ আছে। এটি বাংলাদেশের মধ্যযুগের সবচেয়ে বড় মসজিদ। ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।

১. পরিচয় ও শাসনকাল

খান জাহান আলী ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত একজন সেনাপতি এবং সুফি সাধক। তিনি সুলতানি আমলে (বিশেষ করে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের রাজত্বকালে) দক্ষিণ-বঙ্গ বা ভাটি অঞ্চল জয় ও শাসন করার জন্য প্রেরিত হন। তিনি মূলত ১৫শ শতাব্দীতে বর্তমান বাগেরহাট অঞ্চল শাসন করেছিলেন।

২. খলিফাতাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা

তিনি দক্ষিণ-বঙ্গে সুন্দরবনের কাছাকাছি একটি সমৃদ্ধ জনপদ গড়ে তোলেন, যার প্রশাসনিক নাম ছিল 'খলিফাতাবাদ'। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলা। তিনি এই দুর্গম এলাকাকে পরিষ্কার করে চাষযোগ্য ভূমি এবং বসবাসের উপযোগী করে তোলেন।

৩. স্থাপত্য শিল্প ও ইউনেস্কো স্বীকৃতি

খান জাহান আলী তাঁর স্থাপত্যশৈলীর জন্য অমর হয়ে আছেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত নির্মাণ হলো বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ

  • ষাট গম্বুজ মসজিদ: এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহত্তম মসজিদ। মজার বিষয় হলো, এর নাম 'ষাট গম্বুজ' হলেও এতে মোট গম্বুজ আছে ৮১টি (৭৭টি মূল গম্বুজ এবং ৪টি কর্নার টাওয়ারের গম্বুজ)।

  • ইউনেস্কো মর্যাদা: ১৯৮৫ সালে বাগেরহাটের এই মসজিদ শহরকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য (World Heritage Site) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

৪. জনহিতকর কাজ (রাস্তা ও দিঘি)

তিনি কেবল শাসনকর্তা ছিলেন না, বরং একজন দক্ষ প্রকৌশলীও ছিলেন। তাঁর আমলে তৈরি হওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ:

  • খান জাহান আলী রোড: তিনি খুলনা থেকে বাগেরহাট পর্যন্ত একটি দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করেছিলেন।

  • দিঘি: সুপেয় পানির অভাব মেটাতে তিনি অসংখ্য দিঘি খনন করেন। এর মধ্যে বিখ্যাত হলো খাঁজালি দিঘি এবং ঘোড়া দিঘি। খাঁজালি দিঘিতে 'কালাপাহাড়' ও 'ধলাপাহাড়' নামে দুটি কুমির ছিল বলে লোককথা প্রচলিত আছে।

৫. মৃত্যু ও মাজার

১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে এই মহান সাধক মৃত্যুবরণ করেন। বাগেরহাটে তাঁর সমাধি বা মাজার অবস্থিত। তাঁর কবরের গায়ে খোদাই করা লিপি থেকে তাঁর জীবনকাল ও শাসন সম্পর্কে অনেক ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়।

Content added By
Content updated By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...