মঙ্গোলীয়রা (Sino- Tibetan) ইন্দোচীন হতে আগমন করে। কালের বিবর্তনে অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও মঙ্গোলীয় জাতির ত্রি-সংমিশ্রণ ঘটে। ত্রিপুরা, চাকমা, গারো, কোচ, ইত্যাদি এই গোষ্ঠীভুক্ত।
উৎস ও বিস্তৃতি: মঙ্গোলীয়রা প্রধানত পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং উত্তর এশিয়ার অধিবাসী। তবে আমেরিকা মহাদেশের আদিবাসীরাও (রেড ইন্ডিয়ান) এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
গায়ের রং: সাধারণত হলদেটে বা তামাটে বর্ণের হয়।
চোখ: এদের চোখের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এপিক্যানথিক ফোল্ড (Epicanthic fold), যার কারণে চোখ কিছুটা ছোট বা তির্যক দেখায়।
চুল: সাধারণত সোজা, কালো এবং শক্ত হয়।
নাক: চ্যাপ্টা বা মাঝারি এবং নিচু নাসিকা থাকে।
মুখমণ্ডল: গালের হাড় (Cheekbones) চওড়া ও উঁচু হয়।
বাংলাদেশে মঙ্গোলীয় গোষ্ঠী: বাংলাদেশের অধিকাংশ উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত। যেমন: চাকমা, মারমা, গারো, ত্রিপুরা, ও সাঁওতাল (সাঁওতালদের মধ্যে অস্ট্রিক প্রভাব বেশি থাকলেও মঙ্গোলীয় বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান)।
শাখা: এদের প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়:
উত্তর মঙ্গোলীয়: (যেমন- চীনা, মঙ্গোলীয়, জাপানি, কোরীয়)।
দক্ষিণ মঙ্গোলীয়: (যেমন- মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের উপজাতিরা)।