মুহম্মদ বিন তুগলক (১৩২৫-১৩৫১ খ্রি.) রাজ্য শাসনের প্রত্যক্ষ অসুবিধা দূর করার জন্য কেন্দ্রীয় রাজধানী দিল্লি থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। তিনি সোনা ও রূপার মুদ্রার পরিবর্তে প্রতীক তামার মুদ্রা প্রচলন করে মুদ্রামান নির্ধারণ করে দেন। মুহম্মদ বিন তুগলক কৃষির উন্নয়নের জন্য 'দিওয়ান-ই-কোহী' নামে স্বতন্ত্র কৃষি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এ বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন 'আমির কোহী'।
মুহম্মদ বিন তুঘলক অত্যন্ত প্রতিভাবান ও শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন।তিনি রাজধানী দিল্লি থেকে দেবগিরিতে স্থানান্তর করেন। উত্তর ভারতে মঙ্গলদের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তিনি রাজধানী দিল্লিতে ফেরত আনেন।তিনি সোনা ও রূপার মুদ্রার পরিবর্তে প্রতীক তামার মুদ্রা প্রচলন করেন। তিনি কৃষির উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন দেওয়ান-ই- কোহি নামে কৃষিবিভাগ।
গিয়াসউদ্দিন তুঘলকের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র জুনা খাঁ 'মোহাম্মদ বিন তুঘলক' নাম ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে বসেন। তিনি একাধারে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, দর্শন এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তাঁর শাসনকাল ছিল দুঃসাহসিক সব প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রচেষ্টায় ভরপুর। তবে বাস্তবজ্ঞানের অভাব, অতি-উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং পারিপার্শ্বিক অসহযোগিতার কারণে তাঁর অধিকাংশ পরিকল্পনা হিতে বিপরীত হয়। তাঁর সময়েই দিল্লি সালতানাত ভৌগোলিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছিল, কিন্তু তাঁর শাসনকালেই আবার বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহের মাধ্যমে সালতানাত ভাঙতে শুরু করে। বিখ্যাত মরক্কান পর্যটক ইবনে বতুতা তাঁর সময়েই ভারতে আসেন এবং আট বছর দিল্লির কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বিফল হওয়া ৫টি প্রধান পরিকল্পনাঃ
১. রাজধানী পরিবর্তন (১৩২৭ খ্রি.): মঙ্গোল আক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং দক্ষিণ ভারত শাসনের সুবিধার্থে তিনি রাজধানী দিল্লি থেকে ৭০০ মাইল দূরে দেবগিরিতে (নাম পরিবর্তন করে রাখেন দৌলতাবাদ) স্থানান্তর করেন। দিল্লির পুরো জনবসতিকে সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে। পরে ব্যর্থতা স্বীকার করে তিনি পুনরায় দিল্লিতে ফিরে আসেন।
২. প্রতীকী তাম্র মুদ্রার প্রচলন (১৩২৯ খ্রি.): সোনা ও রূপার অভাব মেটাতে তিনি তামার তৈরি 'প্রতীকী মুদ্রা' (Token Currency) চালু করেন, যার মান রূপার মুদ্রার (তঙ্কা) সমান ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সরকারি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় মানুষ ঘরে ঘরে তামা দিয়ে জাল মুদ্রা তৈরি শুরু করে, যা অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় নিয়ে আসে।
৩. দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধি: গঙ্গা ও যমুনার মধ্যবর্তী উর্বর দোয়াব অঞ্চলে তিনি কর বৃদ্ধি করেন। দুর্ভাগ্যবশত তখন সেখানে দুর্ভিক্ষ চলছিল। কৃষকরা কর দিতে না পেরে বিদ্রোহ শুরু করলে তিনি কঠোর হস্তে তা দমন করেন।
৪. খোরাসান অভিযান: পারস্যের খোরাসান জয়ের নেশায় তিনি ৩ লক্ষ ৭০ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী গঠন করেন এবং তাদের এক বছরের অগ্রিম বেতন দেন। কিন্তু পরে রাজনৈতিক সমীকরণে যুদ্ধ না হওয়ায় রাজকোষের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
৫. কারাজল অভিযান: হিমালয়ের পাদদেশে কুমাউনের উপজাতি দমনের জন্য তিনি বিশাল বাহিনী পাঠান। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক কারণে এই অভিযানে তাঁর প্রায় সব সৈন্য মারা যায়।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ইলতুৎমিশ
শেরশাহ
লর্ড কর্নওয়ালিশ
মুহম্মদ বিন তুঘলক
Read more